০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুরির অপবাদে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

  • Update Time : ০১:২১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ইমদাদুল হক ইমন (২৮) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে লোহার রডের সঙ্গে আটকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চালানো এই নির্মম নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে অবস্থিত ‘রয়েল ওয়ার্কশপে’। ভুক্তভোগী ইমন পতনঊষার গ্রামের মিছবাউর রহমানের ছেলে এবং পেশায় একজন সিএনজি-অটোরিকশা চালক। স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শহীদনগর বাজারের রয়েল ওয়ার্কশপের মালিকের সাড়ে ৭ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয় ইমনের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়ার্কশপ মালিক জয়নাল মিয়াসহ কয়েকজন তাকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ওয়ার্কশপের ভেতর ইমনের হাত-পা একত্র করে লোহার রডের সঙ্গে বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়। এরপর প্লাস্টিকের কেবল দিয়ে তাকে দুই ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে ৪ হাজার ২০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাই খালেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই কখনো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না। জয়নাল মিয়া তাকে একটি অবৈধ কাজে জড়াতে চেয়েছিল, রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা রেখে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া নির্যাতনের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, ইমদাদুল হক একজন চিহ্নিত চোর। তাকে ধরার পর উত্তেজিত জনতা মারধর করেছে, আমি সামান্য আঘাত করেছি। সামনে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে আমি প্রার্থী হচ্ছি, তাই আমাকে হেয় করতে একটি পক্ষ বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে। পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে ভিডিওটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাটিকে ‘নিন্দনীয় ও অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

চুরির অপবাদে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Update Time : ০১:২১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ইমদাদুল হক ইমন (২৮) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে লোহার রডের সঙ্গে আটকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চালানো এই নির্মম নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে অবস্থিত ‘রয়েল ওয়ার্কশপে’। ভুক্তভোগী ইমন পতনঊষার গ্রামের মিছবাউর রহমানের ছেলে এবং পেশায় একজন সিএনজি-অটোরিকশা চালক। স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শহীদনগর বাজারের রয়েল ওয়ার্কশপের মালিকের সাড়ে ৭ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয় ইমনের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়ার্কশপ মালিক জয়নাল মিয়াসহ কয়েকজন তাকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ওয়ার্কশপের ভেতর ইমনের হাত-পা একত্র করে লোহার রডের সঙ্গে বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়। এরপর প্লাস্টিকের কেবল দিয়ে তাকে দুই ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে ৪ হাজার ২০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাই খালেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই কখনো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না। জয়নাল মিয়া তাকে একটি অবৈধ কাজে জড়াতে চেয়েছিল, রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা রেখে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া নির্যাতনের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, ইমদাদুল হক একজন চিহ্নিত চোর। তাকে ধরার পর উত্তেজিত জনতা মারধর করেছে, আমি সামান্য আঘাত করেছি। সামনে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে আমি প্রার্থী হচ্ছি, তাই আমাকে হেয় করতে একটি পক্ষ বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে। পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে ভিডিওটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাটিকে ‘নিন্দনীয় ও অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ