আজ, , ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ শিরোনাম :





সুনামগঞ্জে হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে বেআইনীভাবে চলছে ওয়েজখালী মৎস্য অবতরন কেন্দ্র

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে গডফাদারের স্বার্থে শহরের ওয়েজখালী এলাকার নবনির্মিত মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে পৌর কিচেন মার্কেটের আড়তদার ও পাইকারী মৎস্যবাজার জোরপূর্বকভাবে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়,গত ১৪/৫/২০২৩ইং জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ শামসুল করিম,শহরের পৌরকিচেন মার্কেটে কোন ধরনের মৎস্য অবতরণ ও পাইকারী ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবেনা এবং ১লা জুন থেকে ওয়েজখালীস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মৎস্য ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে তার কার্যালয়ের ৩৩.০২.৯০০০.৪০০.৩২.০০৩.২২.৯০ নং স্মারকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার উক্ত প্রহসনমূলক বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে,মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব,বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান,সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা মৎস্য অফিসার ও পৌর মেয়রসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে স্থানীয় কিচেন মার্কেটের ইজারাদার পক্ষে আরপিননগর নিবাসী আমির হোসেন বাদী হয়ে ৬৪০৩/২০২৩নং রীট পিটিশন দায়ের করেন। গত ২৯ মে হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি কে.এম কামরুল হায়দার ও বিজ্ঞ বিচারপতি মোঃ শওকত আলী চৌধুরী,জেলা মৎস্য অফিসারের জরুরি বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন সকল কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা তৎমর্মে রোল জারী করত: ৩ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। উক্ত স্থগিতাদেশ এর বিষয়টি ৩০ মে জেলা প্রশাসককে প্রথম দফায় লিখিতভাবে অবগত করেন ফরিয়াদি আমির হোসেন। ২য় দফায় ১লা জুন স্থগিতাদেশ এর জাভেদা নকলসহ জেলা প্রশাসক কে পৌর কিচেন মার্কেটের আড়তদার ও পাইকারী মৎস্য বাজার স্থানান্তরের সকল প্রকার প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক আবেদনসহ হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা মৎস্য অফিসারকে নির্দেশ দেন। জেলা মৎস্য অফিসার (১লা জুন) ঐ দিনই আমির হোসেনের আবেদন ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক নবনির্মিত মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে মৎস্যবাজার পরিচালনা থেকে বিরত থাকার জন্য লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের ব্যাবস্থাপক হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘনক্রমে ওয়েজখালীতে নতুন মৎস্যবাজার চালু করেছেন বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য অফিসার মো. শামসুল করিম বলেন,উচ্চ আদালতের জাভেদা নকল সহকারে ইজারাদারের আবেদনটি জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে ফরোয়ার্ড করলে আমি তাৎক্ষনিকভাবে ঐ আবেদনটি নবনির্মিত মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে কর্মরত ব্যাবস্থাপককে প্রেরণ করে তাদের রিসিভিং নিয়েছি। তারা যেহেতু বিষয়টি জেনেছেন সেহেতু উচ্চ আদালতের আদেশ কার্যকর করে ওয়েজখালী এলাকার নবনির্মিত মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে পৌর কিচেন মার্কেটের আড়তদার ও পাইকারী মৎস্যবাজার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন,মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘনক্রমে কোন কার্যক্রম পরিচালিত হলে তার জন্য মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের ব্যাবস্থাপক দায়ী হবেন। সুনামগঞ্জ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যাবস্থাপক আবু সাইদ ফিরোজ বলেন,১লা জুনের উদ্বোধনী কার্যক্রম আমরা ক্যানসেল করেছি। তবে ১৭টি দোকানকোটায় স্বেচ্ছায় এসে আড়তদাররা অবস্থান নিয়েছেন। আমরা কাউকে জোর করে আনিনি। এছাড়া ওয়েজখালী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি আড়তদারদের জন্যই সরকার বহু টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন। আজ হউক কাল হউক তারাতো এখানে আসতেই হবে। স্থানীয় একটি দৈনিকে তিনি আরো বলেন,উচ্চ আদালতে একজন ইজারাদার রিট করেছেন। এজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন স্থগিত করেছি আমরা। তবে যেহেতু এটি আড়তদারদের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৈরী করেছেন,তাই কোনো আড়তদার যদি আসতে চায় আমরা বাধা দিবোনা। একজন আড়তদার বলেন,মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যাবস্থাপক ১৭টি দোকানকোটা বরাদ্দের বিপরীতে ৯ শত টাকা করে দোকান ভাড়া নিয়েছেন। তিনি যেহেতু সুকৌশলে এটি চালু করে দিয়েছেন সেহেতু আমরা না নিলে মধ্যস্বত্তভোগী বেনেফিসারীরা নিয়ে নেবে তাই কর্তার ইচ্ছায় কর্ম করতে আমরা বাধ্য হয়েছি। তবে আড়তদারদের অনেকেই বলেন,নতুন বাজার থেকে আমাদের জন্য পুরাতন বাজার অনেক ভালো ছিল। এখানে ক্রেতা বিক্রেতা কারো জন্যই সুবিধা নেই। ইজারাদার আমির হোসেন বলেন,চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল আগামী ১ বছরের জন্য অর্থাৎ আগামী ৩০ শে চৈত্র পর্যন্ত সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকায় কিচেন মার্কেট আমরা ইজারা নিয়েছি। ইজারা গ্রহনকারী ইজারাদারগং প্রতি বছরই আড়তদার ও মৎস্য বিক্রেতাদের কাছ থেকে কালেকশনের মাধ্যমে বিধি মোতাবেক পৌর কিচেন মার্কেটের ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এবার ইজারা গ্রহনের এক মাস যেতে না যেতেই আমাদের এবং আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা বিক্রেতাদের কোন ধরনের মতামত ছাড়াই তরিঘড়ি করে ওয়েজখালীতে মৎস্য বাজারটি স্থানান্তর করা হয়েছে। এই প্রহসনমূলক প্রক্রিয়ায় আড়তদার,মৎস্য বিক্রেতা ও ক্রেতা সাধারনের পাশাপাশি আমরা ইজারাদারগং অফুরন্ত ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে প্রকাশ্য দিবালোকে ওয়েজখালীতে মাছের বাজার বসিয়েছেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানাজার। তিনি যদি আড়তদারদেরকে যথাস্থানে ফিরিয়ে দিয়ে তার কথিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ না করেন তাহলে আমরা বুঝবো তিনি উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছেন। ইতিমধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে তার দ্বারা মৎস্য বাজার পরিচালনার ভিডিও,স্থিরচিত্রসহ যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত আমাদের হাতে এসেছে। আমরা প্রয়োজনে তিনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অবমাননার দায়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ