০৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে পত্রিকা বিক্রেতা নিকেশের দুর্দিন

  • Update Time : ০১:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মো.শাহজাহান মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একমাত্র পত্রিকা বিক্রেতা নিকেশ বৈদ্যের দুর্দিন চলছে। সামাজিক যোগাযোগের কারণে এখন পত্রিকার কদর অনেকটা কমে গেছে। যে কারণে পত্রিকা বিক্রি করে তাঁর সংসার চলছে না। এরপরও তিনি হাল ধরে রেখেছেন। নিকেশ বৈদ্য জগন্নাথপুর সংবাদপত্র বিক্রেতা সমিতির সভাপতি হলেও বর্তমানে তিনি একা এ পেশায় রয়েছেন। বাকি হকাররা অন্য পেশায় চলে গেছেন।
১৯ জুন বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, প্রচন্ড কাঠফাটা রোদ ও গরম উপেক্ষা করে পত্রিকা মাথায় দিয়ে মানুষের ঘরেঘরে গিয়ে পত্রিকা পৌছে দিচ্ছে নিকেশ বৈদ্য। এ রকম প্রতিদিন তিনি পায়ে হেঁটে পত্রিকা বিক্রি করলেও সংসার চালানোর মতো টাকা তাঁর রোজগার হয় না। তাঁর নেই কোন বাইসাইকেল। পায়ে হেঁটে জগন্নাথপুর পৌর শহর ও অফিস পাড়ায় পত্রিকা বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া যাত্রীবাহী গাড়ি দিয়ে তিনি হাসপাতাল পয়েন্ট, কেশবপুর বাজার, ভবের বাজার, মিরপুর বাজার ও কেউনবাড়ি বাজারে পত্রিকা বিক্রি করলেও উপজেলার অন্যান্য অঞ্চলে পত্রিকা পৌছে না। তবে একটি বাইসাইকেলের অভাবে সময় মতো পত্রিকা মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারেন না। অনেক সময় সকালের পত্রিকা রাতে পেয়ে থাকেন পাঠকরা। একটি ছাতা না থাকায় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করেন।
জানাগেছে, ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুরের প্রথম পত্রিকা বিক্রেতা আবদুল মনাফ (ঘড়ি বাবু) এর হাত ধরে পত্রিকা বিক্রি শুরু করে নিকেশ বৈদ্য। এক পর্যায়ে ঘড়ি বাবুর মৃত্যু হলে হাল ধরেন নিকেশ বৈদ্য। তখন জগন্নাথপুরে পত্রিকার বিরাট বাজার ছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে ১০ থেকে ১৫ জন হকার পত্রিকা বিক্রি করতেন। ২০১৫ সালের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের কারণে ধীরেধীরে পত্রিকার কদর কমে যায়। যে কারণে সব হকাররা অন্য পেশায় চলে গেলেও শুধু নিকেশ বৈদ্য এখনো হাল ধরে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুরের একমাত্র পত্রিকা বিক্রেতা নিকেশ বৈদ্য বলেন, আগে আমরা ১০/১৫ জন হকার পত্রিকা বিক্রি করে অনায়াসে সংসার চালাতে পারলেও বর্তমানে আমি একা চলতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, আমার সংসারে আমি আমার মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান সহ ৫ সদস্য রয়েছে। বর্তমানে পত্রিকা বিক্রি করে আমার সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আমি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য কামনা করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে পত্রিকা বিক্রেতা নিকেশের দুর্দিন

Update Time : ০১:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

মো.শাহজাহান মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একমাত্র পত্রিকা বিক্রেতা নিকেশ বৈদ্যের দুর্দিন চলছে। সামাজিক যোগাযোগের কারণে এখন পত্রিকার কদর অনেকটা কমে গেছে। যে কারণে পত্রিকা বিক্রি করে তাঁর সংসার চলছে না। এরপরও তিনি হাল ধরে রেখেছেন। নিকেশ বৈদ্য জগন্নাথপুর সংবাদপত্র বিক্রেতা সমিতির সভাপতি হলেও বর্তমানে তিনি একা এ পেশায় রয়েছেন। বাকি হকাররা অন্য পেশায় চলে গেছেন।
১৯ জুন বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, প্রচন্ড কাঠফাটা রোদ ও গরম উপেক্ষা করে পত্রিকা মাথায় দিয়ে মানুষের ঘরেঘরে গিয়ে পত্রিকা পৌছে দিচ্ছে নিকেশ বৈদ্য। এ রকম প্রতিদিন তিনি পায়ে হেঁটে পত্রিকা বিক্রি করলেও সংসার চালানোর মতো টাকা তাঁর রোজগার হয় না। তাঁর নেই কোন বাইসাইকেল। পায়ে হেঁটে জগন্নাথপুর পৌর শহর ও অফিস পাড়ায় পত্রিকা বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া যাত্রীবাহী গাড়ি দিয়ে তিনি হাসপাতাল পয়েন্ট, কেশবপুর বাজার, ভবের বাজার, মিরপুর বাজার ও কেউনবাড়ি বাজারে পত্রিকা বিক্রি করলেও উপজেলার অন্যান্য অঞ্চলে পত্রিকা পৌছে না। তবে একটি বাইসাইকেলের অভাবে সময় মতো পত্রিকা মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারেন না। অনেক সময় সকালের পত্রিকা রাতে পেয়ে থাকেন পাঠকরা। একটি ছাতা না থাকায় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করেন।
জানাগেছে, ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুরের প্রথম পত্রিকা বিক্রেতা আবদুল মনাফ (ঘড়ি বাবু) এর হাত ধরে পত্রিকা বিক্রি শুরু করে নিকেশ বৈদ্য। এক পর্যায়ে ঘড়ি বাবুর মৃত্যু হলে হাল ধরেন নিকেশ বৈদ্য। তখন জগন্নাথপুরে পত্রিকার বিরাট বাজার ছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে ১০ থেকে ১৫ জন হকার পত্রিকা বিক্রি করতেন। ২০১৫ সালের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের কারণে ধীরেধীরে পত্রিকার কদর কমে যায়। যে কারণে সব হকাররা অন্য পেশায় চলে গেলেও শুধু নিকেশ বৈদ্য এখনো হাল ধরে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুরের একমাত্র পত্রিকা বিক্রেতা নিকেশ বৈদ্য বলেন, আগে আমরা ১০/১৫ জন হকার পত্রিকা বিক্রি করে অনায়াসে সংসার চালাতে পারলেও বর্তমানে আমি একা চলতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, আমার সংসারে আমি আমার মা-স্ত্রী ও ২ সন্তান সহ ৫ সদস্য রয়েছে। বর্তমানে পত্রিকা বিক্রি করে আমার সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আমি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য কামনা করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ