১১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে চার লেনের কাজ ফের শুরু, কমবে জনদুর্ভোগ

  • Update Time : ১০:৪১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করণের কাজ মঙ্গলবার(২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে ফের পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রায় দেড় মাস নির্মাণাধীন সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ধুলাবালি, মাটি ও বালুর কারণে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল, কাজ শুরু হওয়ায় এবং নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে জনদুর্ভোগ কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময় সীমা জুন ২০২৭।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে সড়ক সম্প্রসারণ, মাটি ভরাট ও ঢালাইয়ের কাজ এগিয়ে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ভিট বালুর সংকটসহ কয়েকটি কারণে কাজের গতি কমে যায়। এতে নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়তে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে কাজের অগ্রগতির এই হিসাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজ গত দেড় মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গুলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কাজ শুরু করে দ্রুত কাজ শেষ করতে আবারও জোরদার করার কথা জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান সহ সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সড়ক যোগাযোগে পরিবর্তন আসবে। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস, বিটাকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রশস্ত সড়কটি ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যান চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চার লেনে উন্নীত করণ ও নির্মাণ কাজের কারণে শান্তিগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালির সমস্যা তৈরি হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় সড়কের মাটি ও বালু উড়ে আশপাশের দোকানপাট ও বসত বাড়িতে গিয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্যসামগ্রী ও দোকান পরিষ্কার রাখতে সমস্যায় পড়ছেন। পথচারীদেরও ধুলাবালির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজ চলাকালে নিয়মিত পানি ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। চাহিদা অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ না পাওয়ায় এবং নানা কারণে কাজ প্রায় দেড় মাস বন্ধ ছিল। আজ থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে নিয়মিত মালামাল পেলে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের চার লেন প্রকল্পের কাজ আজ থেকে শুরু হয়েছে। কিছুদিন নির্মাণ কাজের মালামাল সরবরাহ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এখন পুরোদমে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

শান্তিগঞ্জে চার লেনের কাজ ফের শুরু, কমবে জনদুর্ভোগ

Update Time : ১০:৪১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করণের কাজ মঙ্গলবার(২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে ফের পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রায় দেড় মাস নির্মাণাধীন সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ধুলাবালি, মাটি ও বালুর কারণে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল, কাজ শুরু হওয়ায় এবং নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে জনদুর্ভোগ কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময় সীমা জুন ২০২৭।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে সড়ক সম্প্রসারণ, মাটি ভরাট ও ঢালাইয়ের কাজ এগিয়ে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ভিট বালুর সংকটসহ কয়েকটি কারণে কাজের গতি কমে যায়। এতে নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়তে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে কাজের অগ্রগতির এই হিসাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজ গত দেড় মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গুলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কাজ শুরু করে দ্রুত কাজ শেষ করতে আবারও জোরদার করার কথা জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান সহ সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সড়ক যোগাযোগে পরিবর্তন আসবে। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস, বিটাকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রশস্ত সড়কটি ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যান চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চার লেনে উন্নীত করণ ও নির্মাণ কাজের কারণে শান্তিগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালির সমস্যা তৈরি হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় সড়কের মাটি ও বালু উড়ে আশপাশের দোকানপাট ও বসত বাড়িতে গিয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্যসামগ্রী ও দোকান পরিষ্কার রাখতে সমস্যায় পড়ছেন। পথচারীদেরও ধুলাবালির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজ চলাকালে নিয়মিত পানি ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। চাহিদা অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ না পাওয়ায় এবং নানা কারণে কাজ প্রায় দেড় মাস বন্ধ ছিল। আজ থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে নিয়মিত মালামাল পেলে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের চার লেন প্রকল্পের কাজ আজ থেকে শুরু হয়েছে। কিছুদিন নির্মাণ কাজের মালামাল সরবরাহ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এখন পুরোদমে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ