০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

  • Update Time : ০২:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও মিলেছে। প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পর গণনা শেষ হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এতে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। পরে মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। এতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫৯০ জন অংশ নেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। গতবারের তুলনায় এবার একটু বেশি সময়—ছয় মাস পর সিন্দুক খোলা হয়েছে। টাকার অঙ্কও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী; রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন স্টাফ; মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক লোক। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, সকাল থেকে টাকার সিন্দুক খোলা, বস্তায় ভরে এনে গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তার পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন। গণনার দিন ছাড়াও বাকি দিনগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন সিন্দুকের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখনও বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, দানবাক্সে পাওয়া অর্থ পাগলা মসজিদ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়। এদিকে পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ কমপ্লেক্সে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

Update Time : ০২:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও মিলেছে। প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পর গণনা শেষ হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এতে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। পরে মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। এতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫৯০ জন অংশ নেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। গতবারের তুলনায় এবার একটু বেশি সময়—ছয় মাস পর সিন্দুক খোলা হয়েছে। টাকার অঙ্কও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী; রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন স্টাফ; মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক লোক। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, সকাল থেকে টাকার সিন্দুক খোলা, বস্তায় ভরে এনে গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তার পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন। গণনার দিন ছাড়াও বাকি দিনগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন সিন্দুকের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখনও বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, দানবাক্সে পাওয়া অর্থ পাগলা মসজিদ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়। এদিকে পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ কমপ্লেক্সে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ