জগন্নাথপুরে নারী ইউপি সদস্যকে মারপিটের প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভ
- Update Time : ০৮:৪০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মো.শাহজাহান মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি ভিজিএফ এর চাল না দেয়া নিয়ে প্রতিবাদী এক নারী ইউপি সদস্যকে মারপিটের প্রতিবাদে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
জানাগেছে, গত বুধবার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের লোকজনের মধ্যে সরকারি ভিজিএফ এর ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় তাঁর পক্ষে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি রুনু মিয়া তাঁর ওয়ার্ডের জনগণের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরণ করেন।
তখন লুদু মিয়া নামের এক ব্যক্তি প্রথমে একবার চাল-টাকা নিয়ে পরে আবার অন্য নামে নিতে গেলে ৭, ৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে রুনু মিয়া ও সেলিনা বেগমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রুনু মিয়ার পক্ষ নিয়ে আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরী, ইউপি সচিব তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য ছানু মিয়া, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা আলাল ও আরেক নারী ইউপি সদস্য আফিয়া বেগম মিলে প্রতিবাদী নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগমকে মারপিট করেন এবং আহত নারী সদস্য সেলিনা বেগমের ওয়ার্ড গুলোর ৩১ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরণ করা হয়নি। পরে স্থানীয় জনতা তাঁকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে রাজপথ।
এদিকে-বৃহস্পতিবার এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে আসেন এবং এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ ও আহত নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম বাদী হয়ে আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরী, ইউপি সচিব তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য ছানু মিয়া, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা আলাল, নারী ইউপি সদস্য আফিয়া বেগম ও রুনু মিয়াকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে আহত নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম বলেন, এক ব্যক্তি দ্বিতীয় বার ভূয়া নাম দিয়ে সরকারি চাল ও টাকা নিতে আসলে আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মারপিট করে এবং আমার ওয়ার্ডের তালিকাভূক্ত ৩১ জন ব্যক্তির নামের চাল ও টাকা না দিয়ে তারা লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরীর ফোন বন্ধ থাকায় চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত নয়। আমাকে অযথা জড়ানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ইউপি সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ করা যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















