কাতারে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজ
- Update Time : ০৩:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: কাতারে জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় দুটি শাখায় প্রথম স্থান ছিনিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশি কিশোর ও তরুণী। আধুনিক কাতারের স্থপতি শেখ জাসেম বিন মুহাম্মদ আলথানির নামে কাতারে প্রতিবছর সরকারি ভাবে জাতীয় পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বছর অনুষ্ঠিত এই কুরআন প্রতিযোগিতায় তিন শাখার মধ্যে বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত দুই শাখায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশি দু’জন হাফেজ। এদের মধ্যে এক শাখায় প্রথম হয়েছেন ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোর উসামা। অন্য শাখায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী আয়েশা। কাতারে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় বয়স কিংবা নারী-পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা শাখা থাকে না। ফলে এই দু’শাখায় অংশ নিয়েছেন কাতারে বসবাসরত আরব ও অনারব বিভিন্ন দেশের নানা বয়সের হাফেজ নারী ও পুরুষরা। আর এদের সবাইকে পেছনে ফেলে দুটি শাখায়ই প্রথম স্থান জয় করেন বাংলাদেশি এই হাফেজ কিশোর ও হাফেজা তরুণী। প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কাতারের ধর্মমন্ত্রী ও সুধীজনরা বাংলাদেশিদের এমন জয়জয়কার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। কাতারের ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, পবিত্র কুরআন মুখস্ত বিদ্যায় বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা প্রশংসনীয়। কাতারে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় দুটি শাখায় বাংলাদেশিদের প্রথম হওয়ার খবরে আনন্দিত কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। কাতারের ধর্ম মন্ত্রণালয় চলতি রমজানের প্রথম সপ্তাহে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। কাতারের জাতীয় মসজিদে সপ্তাহব্যাপী তিনটি ধাপে প্রতিযোগিতা শেষে ৮ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী দোহার শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে কাতারের ধর্মমন্ত্রী গানেম বিন শাহিন আলগানেম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার সনদ ও অর্থ তুলে দেন। কাতারে শেখ জাসেম বিন মুহাম্মদ আলথানি কুরআন প্রতিযোগিতার এবারের ছিল ২৭তম আসর।
বিশেষ বিভাগে আয়েশা প্রথম হওয়ায় পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন এক লাখ কাতারি রিয়াল। এর আগে আরও ৫ বার পুরস্কার পেয়েছেন আয়েশা। ২০১৫ সালেও প্রথম হয়েছিলেন তিনি।
আয়েশার বোন আজিজা এবার অন্য আরেকটি শাখায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল। অনুষ্ঠানে দুই মেয়ের পক্ষে বাবা ওমর ফারুক কাতারের ধর্মমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
আয়েশা ও আজিজার বাবা ওমর ফারুক বলেন, ওরা বাসায় কুরআন মুখস্ত করেছে। আমি এবং আমার স্ত্রী ওদেরকে শিক্ষাদান করেছি। আমরা ওদের এমন অর্জনে আনন্দিত।
আরেক শাখায় প্রথম স্থান অর্জনকারী উসামা চৌধুরীর বয়স ১৪ বছর। সিলেটের শাহপরান থানায় খাদিমপাড়ায় তাঁর বাড়ি। উসামার বাবা মাওলানা শিহাবুদ্দীন তিন বছর আগে কাতারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনিও কাতারে ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে কাতারের একটি স্কুলে নবম শ্রেণীর ছাত্র উসামার জন্ম কাতারে। উসামার ফুফাতো ভাই ও ভগ্নিপতি সৈয়দ নাবিল জানান, বাবার কাছেই উসামা পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছিল। উসামা বলেন, পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠে বাবার কথা মনে পড়ছিল। আজ তিনি বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন।





























