সিলেট হেফাজত নিয়ে কিছু কথা
- Update Time : ০৩:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
।। মুখলিছুর রহমান ।।
২০১৩ সালে সিলেট হেফাজত গঠন কালে কয়েকটি গ্রুপ নিজেদের বলয়ে হেফাজতের নেতৃত্ব বাগিয়ে নেয়ার তীব্র প্রতিদ্বন্দিতায় লিপ্ত হয়। এমনকি কেউ উস্তাদ-শাগির্দের সম্পর্কের তোয়াক্কা না করে নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র বচসায় ও লিপ্ত হন। তখনও একটি নির্লোভ-নিষ্টাবান গ্রুপের সমঝোতা প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সবার ঐক্যমত্যে সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। সিলেটে একটি মহা সমাবেশ বাস্তবায়ন, ঢাকা লংমার্চে অংশ গ্রহণ ও সর্ব শেষ ৫ মে’র ঢাকা অবরোধে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশগ্রহণ ছাড়া সিলেট হেফাজতের অর্জনের খাতায় আর কিছু নেই। ৫ মে’র শাপলা মেসাকারের পর উভয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে বার বার অনুরুধ করেও ঘরোয়া ভাবেও কোথাও বসাতে পারিনি। ঘটনার ৩/৪ দিন পর বন্দরবাজারের একটি অফিসে রেঙ্গার মুহতামিম সাহেবকে নিয়ে মাওলানা রেজাউল করীম জালালী সাহেবের আহ্বানে একটি ঘরোয়া দোয়া মাহফিল করিয়েছিলাম। এতেও সিনিয়র কোন দায়িত্বশীল কে উপস্থিত করাতে ব্যর্থ হই। শাপলায় আহত-নিহতদের সহায়তা ও কারান্তরীণ কর্মীদেরকে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য একটি পরামর্শ সভাও আহ্বান করাতে পারিনি। কেউ কেউ বিক্ষিপ্ত ভাবে তহবিল সংগ্রহ করেছেন বলে খবর পেয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সভায় এর হিসাব দেওয়া হয়নি।
এভাবে কেটে গেছে প্রায় অর্ধ যোগ। গত মঙ্গলবার হেফাজত দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিলে সারা দেশে হেফাজত নেতৃবৃন্দ আজ বিক্ষোভের প্রস্তুতির কথা সোমবার থেকে জানান দিলেও সিলেট হেফাজতে ইসলাম মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত সুনসান নিরবতা লক্ষ করলাম। বেলা ১২ টার দিকে একজনের ফেসবুক পোস্টে দেখলাম সিলেট হেফাজতের বৈঠক বসছে। শুরু থেকে হেফাজতের প্রচার শেলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করলেও উক্ত বৈঠকের খবর অধমসহ কমিটির অনেক নেতাকে দেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি মঙ্গলবারের উদ্যোক্তারা। তবুও একটি মাদ্রাসায় কয়েকজন বসে আজ মঙ্গলবার বাদ আসর মিছিল হবে বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। তাদের এই বিলম্বিত সিদ্ধান্তকে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই সাধ্যানুযায়ী প্রচার করি। দাওয়াত পেয়ে বিপুল সংখ্যক লোক জামে মসজিদে সালাতুল আসর আদায় করেন। আমিও সময়মতো উপস্থিত হই। কিন্তু প্রায় অর্ধেক মুসল্লিকে মসজিদের ভিতরে রেখেই নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। মিছিল শুরুর প্রাক্কালে নেতৃবৃন্দকে ধীরে চলার অনুরুধ জানিয়ে ব্যর্থ হই। ব্যানার নিয়ে টানাটানির অভ্যাস না থাকায় মিছিলের মধ্যখানেই থাকি। মিছিলটি বন্দরবাজার পয়েন্টে আসতেই পেছন ফিরে দেখি শত শত মুসল্লি মিছিলে শরীক হওয়ার জন্য দৌড়ে আসছেন। অনেকেই বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মিছিল সিটি পয়েন্টে এসে মহানগর সেক্রেটারীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও সহ সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায়। তখনও বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে আসছিলেন।
এখন কথা হল, সিলেট হেফাজতের ব্যানারে আর কতকাল এসব অগোছালো চিত্র দেখতে হবে। কেনইবা দলীয় আধিপত্যবাদের খপ্পরে হেফাজত বেহেফাজত হবে বার বার? শত শত কর্মীর আবেগ-অনুভুতি আর কতকাল ব্যবহৃত হবে কাপুরুষ নেতৃত্বের খাহেশ পূরণে?
আমাকে সবাই ক্ষমা করবেন। সিলেট হেফাজত নিয়ে আরো কিছু তিক্ত ও বাস্তব কথা বলার ছিল। বিবেকের দংশনে পারিনি। সিলেটবাসী হেফাজতের ব্যানারে এরকম খেলনা কোন কর্মসূচী পালন আর দেখতে চায় কিনা, সময়ই বলে দেবে। তবে এরকম অগোছালো এবং জবাবদিহিতা মুক্ত সংগঠন দিয়ে ঈমান রক্ষার রক্ত পিচ্ছিল আন্দোলন সুশৃংখল ভাবে পরিচালনা যে কঠিন, তা চোখ বুজে বলতে পারি। আল্লাহ আমাদেরকে সুমতি দিন। আমীন। লেখক: সিলেট মোবাঃ 01716-673942





























