০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাতকে অধলক্ষাধিক বারকি শ্রমিকদের মাঝে ঈদের আনন্দ নেই
- Update Time : ০১:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: চেলা নদীর ওপর নির্ভর করেই চলে সুনামগঞ্জের ছাতকে বারকি শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা। কিন্তু চেলা নদীতে ভরা এ মৌসুমে নদীতে বালু উত্তোলনের কাজের সুযোগ পারছে না । তাই অর্ধ লক্ষাধিক বারকি শ্রমিকদের দিন কাটছে অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। ঈদে পরিবার পরিজনকে নতুন পোশাক ও একটু ভালো খাবারের যোগান দিতে দিন-রাত সমানতালে নদীতে বালু উত্তোলনে কাজের সুযোগ না পেয়েই ও শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। বারকি শ্রমিক চেরাগ আলীর জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়ই বেকার থাকতে হয়। চেয়ে থাকি মৌসুমের দিকে। এ মৌসুমেও আমরা বালু মহালদের কাছে ঋন নিয়েছি। কিন্তু নদীতে বালতি দিয়ে চেলা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজের সুযোগ ও মিলছে না । ঋন পরিশোধ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ভরা মৌসুমে চেলা নদীতে বালু উত্তোলন করতে না পেয়েই পরিবারের সদস্যদের খরচবহন ও ঋনের টাকা পরিশোধের দুশ্চিন্তার বারকি শ্রমিকদের মুখে। ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন পোশাক তো দূরের কথা দু’বেলা খাবার জোগানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে বারকি শ্রমিকদের। শ্রমিকরা বলছেন, প্রতি বছর ভাদ্র মাস আসলেই বালতি দিয়ে তারা চেলা নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। কিন্তু এ বছর চেলা নদী থেকে তাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।সমছু মিয়া ও চন্দন জানান, এ অবস্থা চলতে থাকলে তারা আর নদীমুখী হবেন না। চেলা নদী থেকে অবৈধ ভাবে ডেজার মেশিন দিয়ে বালু করায় শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না । সংসার চলছে না। ছেলে, সন্তান, স্ত্রীর মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে পারছি না। কিন্তু চেলা নদীতে ড্রেজার মেশিনের তা কেড়ে নিচ্ছে অধ লক্ষাধিক বারকি শ্রমিকদের ঈদের আনন্দ নেই । চেলা নদীর বালু মহালে শ্রমিকদের মুখে নেই ঈদের হাসি। ঈদ সামগ্রী, নতুন জামা- কাপড় না পড়ে উৎসাহ উদ্দীপনা হারিয়ে নিয়তি ভেবেই ঈদের হতবাক। এ উপজেলার অনেক জায়গায় বিত্তশালীরা ঈদ সামগ্রী বিতরণ করলেও বারকি শ্রমিকদের মাঝে এখনো কেউ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেননি। বঞ্চিত বারকি শ্রমিকেরা বিষাদের মন নিয়ে পরিবার পরিজনদের দিচ্ছেন সান্তনা। এ উপজেলায় এ মহালে অধ লক্ষাধিক বারকি শ্রমিক বালু উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে। সম্প্রতি মহালে শত শত ড্রেজার মেশিনের তাবন্ড ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় বারকি শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু বারকি শ্রমিকরা মহালে ফিরে এসে শ্রম বিকিয়ে কাজের কোনো সুযোগ পাননি। পর থেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ায় ঈদের আনন্দ নেই শ্রমিকের মাঝে। শ্রমিকরা তার কারণ হিসেবে যুক্তি দাঁড় করছে চেলা নদীতে শত শত ড্রেজার মেশিনের তাবন্ড লীলা বেড়েই চলছে। শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে না কাজের সুযোগ। কিন্তু চেলা ও মরা চেলা নদীতে বারকি শ্রমিকের কাজের সুযোগ মিলছে না। এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বালু উত্তোলন সমিতি ও ব্যবসায়ীরা কঠোর আন্দোলন করছেন ড্রেজারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ড্রেজারের উপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থান থাকা সত্বেও থামছে না ড্রেজারের তাবন্ড। ফলে চেলা নদীতে কর্মরত বারকি শ্রমিকরা তাদের কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন তাই দিয়ে তাদের খাবারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। কিন্ত নতুন জামা কাপড় ক্রয় করার মতো যোগান তাদের হাতে নেই। চেলা নদী ছিল তাদের দৈনন্দিন উপার্জনের একমাত্র ভরসা।



















