সুনামগঞ্জে হাওরে ফসলহানির প্রভাব সমাপনী পরীক্ষায় : প্রথমদিনেই সাড়ে তিন হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত
- Update Time : ০৩:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সুনামগঞ্জে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার এবারো বেশি। পরিসংখ্যানে গত বছরের তুলনায় এবার অনুপস্থিতির হার বেশি লক্ষ করা গেছে। তবে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের অনুপস্থিতির হার বেশি। এবার প্রথমদিনের পরীক্ষায় ছাত্র ও ছাত্রী মিলিয়ে সর্বমোট ৩ হাজার ৬২৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ইবতেদায়ীতে অনুপস্থিত ছিল ৫৭৯ জন। বিপুল শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণকে হাওরের ফসলহানির প্রভাব হিসেবে দেখছেন প্রাথমিক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করে। এর মধ্যে ছাত্র ২৪ হাজার ৯৪৯ জন এবং ছাত্রী ৩০ হাজার ৯১০ জন। রোববার প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ছাত্র ২৩ হাজার ১৪৩ এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৯৫৮ জন। অনুপস্থিত ছিল ছাত্র ১ হাজার ৭৮৭ এবং ছাত্রী ১ হাজার ৮৩৯ জন। গতবার সর্বমোট অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫ জন। এদিকে সমাপনী পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাওরের ফসলহানির কারণে এবার অনেক শিক্ষার্থী তাদের পরিবারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের জন্য অন্যত্র চলে গেছে। অনুপস্থিতির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে হাওর উপজেলার শিক্ষার্থীদের আধিক্য বেশি। সূত্র জানায়, রোববার সমাপনী পরীক্ষার প্রথমদিনে সদর উপজেলায় ৩৮৪ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৪২৫ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২২৪ জন, ছাতকে ৫১১ জন, তাহিরপুরে ৩০১ জন, জামালগঞ্জে ২১৮ জন, ধর্মপাশায় ৪৪০ জন, শাল্লায় ২৬৪ জন, দিরাইয়ে ৩৫৭ জন, জগন্নাথপুরে ২৩৫ জন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ২৬৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি জগন্নাথপুরে ৯৫.৪৯২। সবচেয়ে কম অনুপস্থিতির হার শাল্লা উপজেলায় ৮৮.৭৯। কৃষক নেতা অমরচাঁদ দাস বলেন, হাওরের ফসলহানির প্রভাব হাওরের শিক্ষাব্যবস্থাসহ সব দিকেই পড়েছে। তাই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এত অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ফসল হারিয়ে আমার এলাকার অনেক কৃষক সপরিবারে কাজের জন্য অন্যত্র চলে গেছে। তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, এ বছর পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে হাওরের ফসলহানির কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। একমাত্র ফসল হারিয়ে তাদের অনেকেই সপরিবারে অন্যত্র চলে গেছে। যে কারণে গতবারের চেয়ে এবার অনুপস্থিতির হার বেশি। তিনি বলেন, তারা যাতে ঝরে না যায় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যালয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।



















