সুনামগঞ্জে ৩০০ কোটি টাকার ধান পানিতে নষ্ট, পথে বসার শঙ্কায় ৮০ হাজারের বেশি কৃষক
- Update Time : ০৯:৪৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে ১৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮০ হাজারের বেশি কৃষক। ফলে পুরো হাওরজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও হাহাকার দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে হাওরে ধান কাটতে যান না তারা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় এখনও যে সামান্য ফসল হাওরে টিকে আছে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। কষ্ট করে ফলানো ফসল রক্ষায় হাওরপাড়ের কৃষক পরিবারগুলোর চোখেমুখে এখন শুধু উৎকণ্ঠা আর হতাশার ছাপ।তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারণে এগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। হাওরপাড়ের কৃষক ও বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে ১৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমি থেকে অন্তত ৭৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ধান উৎপাদনের আশা ছিল। প্রায় সব ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। প্রতি হেক্টরে পাঁচ জন করে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে ১৬ হাজার হেক্টরে ৮০ হাজার কৃষক ফসল হারিয়েছেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টির কারণে সীমান্ত নদী দিয়ে নেমে আসা পানিতে জেলার নদীগুলোর পানি বেড়েছে। ফলে হাওরের জলাবদ্ধ পানি নদীতে নামানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। নদীর পানি ধনু হয়ে মেঘনায় নামতে শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে এতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর হাওরের পানি নামা শুরু করবে।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জে আগামী আরও সাত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তাই ক্ষেতের পাকা ধান দ্রুত কাটতে কৃষকদের বলা হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক আব্দুল খালেক বলেন, ‘ঝোড়ো বাতাস, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটা যায় না। শরীর হিম হয়ে আসে। এক ঘণ্টাও ধান কাটার সুযোগ নেই। শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন হাত দিয়ে কাঁচি ধরা যায় না। এ অবস্থায় তলিয়ে থাকা ধানের বদলে অনেকের আঙুলে কেটে যায়।’ শনির হাওরের কৃষক রুবেল মিয়া জানান, কোমর সমান পানিতে নেমে নিজেরাই ধান কাটছেন। শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। হারভেস্টার মেশিন জমিতে বেশি পানির কারণে কাজ করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেশিরভাগ জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এবার ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। হাওরে বোরো ধান কাটায় এখন কৃষকরা হারভেস্টার মেশিনের ওপর বেশি নির্ভর করেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে হাওরে পানি থাকায় অনেক স্থানে মেশিন চালানো যাচ্ছে না। পানি না নামলে আরও জমির ধান পচে নষ্ট হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘জেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরের ১৬ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এসব ক্ষেতের পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। শনিবার পর্যন্ত এক লাখ ৩২ হাজার ৪১৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।’

























