০৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে

  • Update Time : ০১:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: বিশ্বকাপ মানেই অপ্রত্যাশিত গল্প, আর সেই গল্পের নতুন অধ্যায় লিখল আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে! ফুটবলবিশ্ব যেখানে আজকের ম্যাচের আগে স্পেনের সহজ জয়ের অপেক্ষায় ছিল, সেখানে মাঠের ৯০ মিনিটে সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ৬৪ নম্বরে থাকা দলটির এই ফলাফল ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে!
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের পায়ে। আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা অসাধারণ শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে রক্ষণ সামলেছেন। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ছিলেন অনবদ্য। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে স্পেনের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্পেন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তোরেসের শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ওইয়ারসাবালের হেডও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ভোজিনিয়া। এরপর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তোরেস ও লাপোর্তের আরও দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে সমতা ধরে রাখেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ চালালেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। স্পেনের হয়ে বদলি নেমে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সী লামিনে ইয়ামালের। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ারও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, যার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে ২১ বছর ৪৫ দিনের এই বয়সের ব্যবধান বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দের জনসংখ্যা ছয় লাখেরও কম। ফুটবল অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা তারকার বিচারে স্পেনের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগও খুব কম। তবুও বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা দেখিয়ে দিল, ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়; এটি সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়েরও গল্প। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পর্তুগিজ নাম ‘কাবো ভের্দে’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশটি এবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের পরিচয় নতুন করে তুলে ধরল।

গোলশূন্য ড্র হলেও কেপ ভার্দের জন্য এটি জয়ের সমান অর্জন। আর স্পেনের জন্য এটি এক হতাশার রাত, যেখানে অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের দৃঢ়তা ও ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছে থমকে যেতে হয়েছে। বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য আবারও মনে করিয়ে দিল এই ম্যাচ-এখানে কখনও কখনও নামের চেয়ে সাহসই বড় হয়ে ওঠে!

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে

Update Time : ০১:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: বিশ্বকাপ মানেই অপ্রত্যাশিত গল্প, আর সেই গল্পের নতুন অধ্যায় লিখল আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে! ফুটবলবিশ্ব যেখানে আজকের ম্যাচের আগে স্পেনের সহজ জয়ের অপেক্ষায় ছিল, সেখানে মাঠের ৯০ মিনিটে সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ৬৪ নম্বরে থাকা দলটির এই ফলাফল ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে!
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের পায়ে। আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা অসাধারণ শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে রক্ষণ সামলেছেন। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ছিলেন অনবদ্য। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে স্পেনের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্পেন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তোরেসের শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ওইয়ারসাবালের হেডও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ভোজিনিয়া। এরপর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তোরেস ও লাপোর্তের আরও দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে সমতা ধরে রাখেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ চালালেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। স্পেনের হয়ে বদলি নেমে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সী লামিনে ইয়ামালের। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ারও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, যার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে ২১ বছর ৪৫ দিনের এই বয়সের ব্যবধান বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দের জনসংখ্যা ছয় লাখেরও কম। ফুটবল অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা তারকার বিচারে স্পেনের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগও খুব কম। তবুও বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা দেখিয়ে দিল, ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়; এটি সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়েরও গল্প। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পর্তুগিজ নাম ‘কাবো ভের্দে’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশটি এবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের পরিচয় নতুন করে তুলে ধরল।

গোলশূন্য ড্র হলেও কেপ ভার্দের জন্য এটি জয়ের সমান অর্জন। আর স্পেনের জন্য এটি এক হতাশার রাত, যেখানে অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের দৃঢ়তা ও ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছে থমকে যেতে হয়েছে। বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য আবারও মনে করিয়ে দিল এই ম্যাচ-এখানে কখনও কখনও নামের চেয়ে সাহসই বড় হয়ে ওঠে!

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ