মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়া রহ. ছিলেন ফেকাহ শাস্ত্রের একজন চলন্ত ডায়রী- সৈয়দ রেজওয়ান অাহমদ
- Update Time : ০৩:৩৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০১৯
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
এ দুনিয়ায় চিরদিন কাউকে ধরে রাখবে না। দুনিয়ার চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী আমাদের সকলকে নির্ধারিত সময়ে পরপারে পাড়ি জমাতে হবে। যেমন- ”কাইলের কাওল ‘মাউতুল আলিমে মাওতুল আলম’। একজন সুযোগ্য আলিমের মৃত্যু একটি জগতের মৃত্যুর সমান। এমনই আজ আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ হযরত মাওলানা মুফতি অাবুল কালাম জাকারিয়া রহ. দুনিয়ার জগত থেকে চীর বিদায় নিয়ে গেলেন। যিনি ছিলেন অাধ্যাত্মিক শহর সিলেটের অাধ্যাত্মিক রাহবর হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজার সংলগ্ন জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে হযরত শাহজালাল রহ. সিলেট এর মেধাবী ছাত্র, মুহাদ্দিছ, মুহতামিম এবং মসজিদের খতীব।
মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়া রহ. শুধু একজন আলিমই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের আলিমদের আস্থাভাজন একজন অভিভাবক। হাজার হাজার আলিমের হাদীসের উস্তাদ, বাতিলের বিরুদ্ধে অাপোষহীন, জাগ্রত বিবেক এবং একজন স্পষ্টবাদী বক্তা। ফিকাহ শাস্ত্রের এক চলন্ত ডায়রী এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী।র
হজরত মাওলানা মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়া রহ. ১৯৫৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাতগাঁও বাগুয়া গ্রামের এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের মসজিদের বারান্দার সবাহি মক্তবে তার প্রাথমিক পড়াশুনা শুরু। পরবর্তীতে রামনগর মাদরাসায় কয়েক বছর লেখা পড়া শেষে বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া ক্বাসিমুল উলূম দরগাহ হযরত শাহ জালাল রহ. সিলেট ভর্তি হয়ে একাধারে কৃতিত্বের সাথে তাকমিল ফিল হাদীস তথা শিক্ষা সমাপন করেন।
জামেয়া ক্বাসিমুল উলূম দরগাহ হযরত শাহ জালাল রাহ. সিলেট এ তাঁর কর্ম জীবন শুরু। শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে জামেয়ার ফতওয়া বিভাগের সহকারী মুফতি, মুফতি, প্রধান মুফতি নিযুক্ত হন। অতঃপর জামেয়ার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম এরপর মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দায়িত্ব পরিচালনা করেন । পাশাপাশি তিনি ছিলেন জামেয়ার অন্যতম একজন শায়খুল হাদিস। তিনি ছিলেন একজন লেখক ও গবেষক। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। বিভিন্ন ভাষায় তাঁর প্রায় ২২টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তাঁর অনেক পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৬৩ বছর।
তিনি সহধর্মীনী, তিন ছেলে, তিন মেয়েসহ আত্মীয় স্বজন, অসংখ্য ছাত্র ও গুণাগ্রহী রেখে যান।
মহান রাব্বুল আলামীন মরহুমকে জান্নাতের সু- উচ্চ মাকাম দান করুন। অামীন।
লেখক: অধ্যক্ষ, সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।




























