১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলের শূন্যতা কীভাবে পূরণ করবে বিএনপি

  • Update Time : ১০:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবারের (২০ আগস্ট) নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থী হিসেবে তিনিই নির্বাচিত হচ্ছেন, এটি প্রায় নিশ্চিত। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরপরই বিজয়ী প্রার্থীর নামের গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করবেন। এরআগে গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই দলের মহাসচিবের পদ ছাড়েন মির্জা ফখরুল। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরই বৃহ্ত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার উত্থান হয়। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন তিনি। দলের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক দশকেরও বেশি সময় দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ে অনেক রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের স্বাক্ষী তিনি। বিশেষ করে গত দেড় দশকে দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। রাজপথে আন্দোলন করে বারবার কারাগারে যেতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে হরতাল-অবরোধ ও সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। অনেক সময় হামলারও শিকার হন। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে তার গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ থেকে মির্জা ফখরুলও রেহাই পাননি। তাকে লাঞ্ছিত করে তার শারীরের পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একাধিকবার হামলার শিকার হন ফখরুল। তারপরও তিনি রাজপথ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি। নানান বাধার মুখেও হিমালয়ের মতো অটল থেকেছেন। কিন্তু কঠিন মুহূর্তেও কখনও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেননি। সব সময় থেকেছেন সাবলীল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতেও খেই হারাননি। এসব কারণে জাতীয় রাজনীতিতে এক ধরনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি অর্জন করতে সক্ষম হন। তবে সেই নেতাই রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন। নিয়মের বাধ্যবধকতা থেকে তাকে দলীয় পদ ছাড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনীতি থেকে তার অবসরে যাওয়া নিয়ে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এক ধরনের বিষণ্নতা অনুভব করছেন। কারণ তিনি দলছুট ছিলেন না। তাই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও তারা তার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তবে তারা মনে করেন, মির্জা ফখরুল জীবনের একটি সোনালী অধ্যায় বিএনপিতে কাটিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে সন্মানিত করেছে বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ কে আজাদ বলেন, মির্জা ফখরুল হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের মহাসচিব। ফ্যাসিবাদী আমলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যখন নির্বাসনে— ঠিক তখনই তিনি নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। তার ব্যক্তিত্ব ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার ডাকে রাজপথে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছেন। সুদিনে রাষ্ট্রপতি পদে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে সন্মানিত করেছে। এ জন্য আমরা গৌরবান্বিত। তার আন্দোলন -সংগ্রামকে সব সময় মিস করবো। তিনি বলেন, তবে আগামীতে দল তার শূন্যতা কীভাবে পূরণ করবে, সেটা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

শূন্যতা পূরণ হবে?

রাষ্ট্রপত পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে বিদায় নিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তবে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তার ত্যাগ ছিল অনন্য। এমনটি মনে করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা জানান, মির্জা ফখরুল একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে দলমত নির্বিষে সবার কাছে সমাদৃত। তাই কঠিন সময়েও বিএনপির মতো এত বড় দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন। আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও তিনি কখনও কঠোর ভাষা ব্যবহার করেননি। কঠিন পরিস্থিতি সহজে মেকাবিলা করতে পেরেছেন। আগামী দিনে তার মতো এমন মহাসচিব আর আসবে? তার শুন্যতা পূরণ হবে? দলের ভেতরে এমন নানা আলোচনা হচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, কিছুটা হলেও তার শূন্যতা অনুভব হতে পারে। তারপরও তারা আশাবাদী। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এমপি বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুলের সবচেয়ে বড় গুন হলো— তিনি একজন ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। সহজেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। আমাদের দেশনেত্রী যখন কারাগারে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন নির্বাসনে ছিলেন, তখন সারা দেশের নেতাকর্মীদের তিনি আগলে রেখেছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলন ও দলীয় কর্মপন্থা ঠিক করতেন। আমার দেখায় তিনি ছিলেন বিএনপির সবচেয়ে বেশি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য মহাসচিব। আগামী দিনে তার শূন্যতা পূরণ হবে কিনা জানি না। তবে যিনিই নতুন মহাসচিব হন, তিনি যেন তার মতো সজ্জন ও গণমুখী হনে— সেই প্রত্যাশা করছি।’’

সহকর্মীদের সঙ্গে শেষ সভায় আবেগপ্রবণ ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একদিন আগে সংসদীয় দলের সভা করে ক্ষমতাসীন বিএনপি। বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভার সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ দিনের সহকর্মীদের সঙ্গে এটি ছিল তার শেষ সভা। তাই কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্না থামিয়ে রাখতে পারেননি। তার সঙ্গে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন সহকর্মীরাও। সভায় অংশগ্রহণকারী লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুল দীর্ঘ দিন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বহু ঘটনার সাক্ষী। তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। বহু সিনিয়র নেতাদের অতিক্রম করে তিনি মহাসচিব হতে পেরেছিলেন।’’ ‘‘তিনি তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। তাই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় তিনি সিক্ত হন। সভায় তার সহকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।’’ সেলিম আরও জানান, মির্জা ফখরুল সবার দোয়া চেয়েছেন। নিজের পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারলে যেন দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই দোয়াও চেয়েছেন।

মিস করবেন সহকর্মীরা

তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাওয়া মির্জা ফখরুলকে নিয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তার সহকর্মীরাও আবেগ-ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, তিনি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেই নন, অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীর কাছেও অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারেন। কারণ তিনি একজন পরিশীলিত ধারার ব্যক্তিত্ব। কাউকে ছোট করে কখনও কথা বলেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ  বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুল দীর্ঘ পথপরিক্রমায় গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বারবার কারা নির্যাতিত হয়েছেন। হামলার মুখে পড়েছেন। কিন্তু তারপরও রাজপথ ছাড়েননি। আর কঠিন সময়েও যে নিজেকে স্থির রাখা যায়, সেই বৈশিষ্ট্য তার ছিল। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে অনন্তকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।’’ রিজভী বলেন, ‘‘বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষ রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলকে মিস করবেন।’’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মির্জা ফখরুলের শূন্যতা কীভাবে পূরণ করবে বিএনপি

Update Time : ১০:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবারের (২০ আগস্ট) নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থী হিসেবে তিনিই নির্বাচিত হচ্ছেন, এটি প্রায় নিশ্চিত। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরপরই বিজয়ী প্রার্থীর নামের গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করবেন। এরআগে গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই দলের মহাসচিবের পদ ছাড়েন মির্জা ফখরুল। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরই বৃহ্ত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার উত্থান হয়। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন তিনি। দলের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এক দশকেরও বেশি সময় দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ে অনেক রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের স্বাক্ষী তিনি। বিশেষ করে গত দেড় দশকে দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। রাজপথে আন্দোলন করে বারবার কারাগারে যেতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে হরতাল-অবরোধ ও সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। অনেক সময় হামলারও শিকার হন। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে তার গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ থেকে মির্জা ফখরুলও রেহাই পাননি। তাকে লাঞ্ছিত করে তার শারীরের পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একাধিকবার হামলার শিকার হন ফখরুল। তারপরও তিনি রাজপথ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি। নানান বাধার মুখেও হিমালয়ের মতো অটল থেকেছেন। কিন্তু কঠিন মুহূর্তেও কখনও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেননি। সব সময় থেকেছেন সাবলীল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতেও খেই হারাননি। এসব কারণে জাতীয় রাজনীতিতে এক ধরনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি অর্জন করতে সক্ষম হন। তবে সেই নেতাই রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন। নিয়মের বাধ্যবধকতা থেকে তাকে দলীয় পদ ছাড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনীতি থেকে তার অবসরে যাওয়া নিয়ে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এক ধরনের বিষণ্নতা অনুভব করছেন। কারণ তিনি দলছুট ছিলেন না। তাই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও তারা তার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তবে তারা মনে করেন, মির্জা ফখরুল জীবনের একটি সোনালী অধ্যায় বিএনপিতে কাটিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে সন্মানিত করেছে বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ কে আজাদ বলেন, মির্জা ফখরুল হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের মহাসচিব। ফ্যাসিবাদী আমলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যখন নির্বাসনে— ঠিক তখনই তিনি নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। তার ব্যক্তিত্ব ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার ডাকে রাজপথে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছেন। সুদিনে রাষ্ট্রপতি পদে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে সন্মানিত করেছে। এ জন্য আমরা গৌরবান্বিত। তার আন্দোলন -সংগ্রামকে সব সময় মিস করবো। তিনি বলেন, তবে আগামীতে দল তার শূন্যতা কীভাবে পূরণ করবে, সেটা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

শূন্যতা পূরণ হবে?

রাষ্ট্রপত পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে বিদায় নিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তবে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তার ত্যাগ ছিল অনন্য। এমনটি মনে করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা জানান, মির্জা ফখরুল একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে দলমত নির্বিষে সবার কাছে সমাদৃত। তাই কঠিন সময়েও বিএনপির মতো এত বড় দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন। আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও তিনি কখনও কঠোর ভাষা ব্যবহার করেননি। কঠিন পরিস্থিতি সহজে মেকাবিলা করতে পেরেছেন। আগামী দিনে তার মতো এমন মহাসচিব আর আসবে? তার শুন্যতা পূরণ হবে? দলের ভেতরে এমন নানা আলোচনা হচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, কিছুটা হলেও তার শূন্যতা অনুভব হতে পারে। তারপরও তারা আশাবাদী। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এমপি বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুলের সবচেয়ে বড় গুন হলো— তিনি একজন ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। সহজেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। আমাদের দেশনেত্রী যখন কারাগারে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন নির্বাসনে ছিলেন, তখন সারা দেশের নেতাকর্মীদের তিনি আগলে রেখেছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলন ও দলীয় কর্মপন্থা ঠিক করতেন। আমার দেখায় তিনি ছিলেন বিএনপির সবচেয়ে বেশি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য মহাসচিব। আগামী দিনে তার শূন্যতা পূরণ হবে কিনা জানি না। তবে যিনিই নতুন মহাসচিব হন, তিনি যেন তার মতো সজ্জন ও গণমুখী হনে— সেই প্রত্যাশা করছি।’’

সহকর্মীদের সঙ্গে শেষ সভায় আবেগপ্রবণ ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একদিন আগে সংসদীয় দলের সভা করে ক্ষমতাসীন বিএনপি। বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভার সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ দিনের সহকর্মীদের সঙ্গে এটি ছিল তার শেষ সভা। তাই কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্না থামিয়ে রাখতে পারেননি। তার সঙ্গে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন সহকর্মীরাও। সভায় অংশগ্রহণকারী লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুল দীর্ঘ দিন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বহু ঘটনার সাক্ষী। তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। বহু সিনিয়র নেতাদের অতিক্রম করে তিনি মহাসচিব হতে পেরেছিলেন।’’ ‘‘তিনি তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। তাই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় তিনি সিক্ত হন। সভায় তার সহকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।’’ সেলিম আরও জানান, মির্জা ফখরুল সবার দোয়া চেয়েছেন। নিজের পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারলে যেন দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই দোয়াও চেয়েছেন।

মিস করবেন সহকর্মীরা

তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাওয়া মির্জা ফখরুলকে নিয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তার সহকর্মীরাও আবেগ-ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, তিনি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেই নন, অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীর কাছেও অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারেন। কারণ তিনি একজন পরিশীলিত ধারার ব্যক্তিত্ব। কাউকে ছোট করে কখনও কথা বলেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ  বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুল দীর্ঘ পথপরিক্রমায় গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বারবার কারা নির্যাতিত হয়েছেন। হামলার মুখে পড়েছেন। কিন্তু তারপরও রাজপথ ছাড়েননি। আর কঠিন সময়েও যে নিজেকে স্থির রাখা যায়, সেই বৈশিষ্ট্য তার ছিল। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে অনন্তকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।’’ রিজভী বলেন, ‘‘বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষ রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলকে মিস করবেন।’’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ