০৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি, আটক ১

  • Update Time : ০৯:৩২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩
  • / ১২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: কথিত সালিশের নামে গভীর রাতে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষকরা ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করে এবং ছবি তুলে রাখে। ঘটনাটি কাউকে জানালে স্বামী সন্তানকে হত্যা হুমকি দেয় ধর্ষকরা। পাশাপাশি নগ্ন ভিডিও এবং ছবি দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঘটনাটি ঘটছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে। ঘটনা রোববার (৫ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১টায়। পরদিন ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১২ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওই গৃহবধূ কুলাউড়া থানায় এসে ১২ নভেম্বর নারী ও শিশুনির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পর পুলিশ শাকিব মিয়া (২২) এক আসামী গ্রেফতার করলেও আসামীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায়। তিনি শ্বশুরবাড়িতে এসে শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে ভুলক্রমে অন্য বাসায় ঢুকে পড়েন। বাসার মালিক জয়চন্ডী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম উদ্দিন বিষয়টি নিষ্পত্তির নামে গৃহবধূর স্বামীকে নিয়ে (গৃহবধুর বাবার) বাড়িতে যান। সেখানে সালিশের নামে সময়ক্ষেপন করে রাত আনুমানিক একটায় আসামিরা গৃহবধূকে তার স্বামী খারাপ লোক তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এক পর্যায়ে কাদিপুর ইউনিয়নের পূর্বমনসুর গ্রামের ছিদ্দেক আলীর ছেলে সুন্দর আলী (৩২), স্থানীয় লৈয়ারহাই গ্রামের কুতুব আলীর ছেলে শাকিব মিয়া (২২) ও রায় গ্রামের কানাইলাল ঘোষের ছেলে রনধীর ঘোষ (৪০) গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ওড়না ও জামা দিয়ে হাত মুখ বেঁধে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও এবং স্থির চিত্রধারণ করে। এদিকে গৃহবধুর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রণধীর ঘোষ গৃহবধূকে ছেড়ে দেয় এবং ধর্ষণকারী এই ঘটনা কাউকে জানালে তার স্বামী সন্তানকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

ধর্ষণকারীরা ঘটনার পরদিন গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে ভিডিও এর স্থিরচিত্র দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে। গৃহবধুর মা সম্মানের ভয়ে নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং দুটি চেক প্রদান করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোক জন জানান, ঘটনার সাথে জড়িতরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ায় গৃহবধূ মামলা করতে সাহস পাননি। কিন্তু ঘটনা জানা জানি হলে রহস্যময় কারণে স্থানীয় মেম্বারকে বাদ দিয়ে মামলা নেয় কুলাউড়া থানা।

এব্যাপারে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম উদ্দিন জানান, আমি ধর্ষণের ঘটনা কিছুই জানিনা। তারাও আমাকে কিছু বলেনি। পরের দিন টাকা নিয়েছে শুনেছি। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাকে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি শুনেছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শাকিব মিয়াকে (২২) রোববার গ্রেফতার কর হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

গণধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি, আটক ১

Update Time : ০৯:৩২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩

ডেস্ক রিপোর্ট :: কথিত সালিশের নামে গভীর রাতে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষকরা ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করে এবং ছবি তুলে রাখে। ঘটনাটি কাউকে জানালে স্বামী সন্তানকে হত্যা হুমকি দেয় ধর্ষকরা। পাশাপাশি নগ্ন ভিডিও এবং ছবি দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঘটনাটি ঘটছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে। ঘটনা রোববার (৫ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১টায়। পরদিন ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১২ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওই গৃহবধূ কুলাউড়া থানায় এসে ১২ নভেম্বর নারী ও শিশুনির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পর পুলিশ শাকিব মিয়া (২২) এক আসামী গ্রেফতার করলেও আসামীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায়। তিনি শ্বশুরবাড়িতে এসে শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে ভুলক্রমে অন্য বাসায় ঢুকে পড়েন। বাসার মালিক জয়চন্ডী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম উদ্দিন বিষয়টি নিষ্পত্তির নামে গৃহবধূর স্বামীকে নিয়ে (গৃহবধুর বাবার) বাড়িতে যান। সেখানে সালিশের নামে সময়ক্ষেপন করে রাত আনুমানিক একটায় আসামিরা গৃহবধূকে তার স্বামী খারাপ লোক তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এক পর্যায়ে কাদিপুর ইউনিয়নের পূর্বমনসুর গ্রামের ছিদ্দেক আলীর ছেলে সুন্দর আলী (৩২), স্থানীয় লৈয়ারহাই গ্রামের কুতুব আলীর ছেলে শাকিব মিয়া (২২) ও রায় গ্রামের কানাইলাল ঘোষের ছেলে রনধীর ঘোষ (৪০) গৃহবধূকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ওড়না ও জামা দিয়ে হাত মুখ বেঁধে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও এবং স্থির চিত্রধারণ করে। এদিকে গৃহবধুর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রণধীর ঘোষ গৃহবধূকে ছেড়ে দেয় এবং ধর্ষণকারী এই ঘটনা কাউকে জানালে তার স্বামী সন্তানকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

ধর্ষণকারীরা ঘটনার পরদিন গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে ভিডিও এর স্থিরচিত্র দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে। গৃহবধুর মা সম্মানের ভয়ে নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং দুটি চেক প্রদান করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোক জন জানান, ঘটনার সাথে জড়িতরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ায় গৃহবধূ মামলা করতে সাহস পাননি। কিন্তু ঘটনা জানা জানি হলে রহস্যময় কারণে স্থানীয় মেম্বারকে বাদ দিয়ে মামলা নেয় কুলাউড়া থানা।

এব্যাপারে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম উদ্দিন জানান, আমি ধর্ষণের ঘটনা কিছুই জানিনা। তারাও আমাকে কিছু বলেনি। পরের দিন টাকা নিয়েছে শুনেছি। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাকে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি শুনেছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শাকিব মিয়াকে (২২) রোববার গ্রেফতার কর হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ