১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর দেশে ফিরছেন না খালেদা জিয়া: হাল ধরছেন বদরুদ্দোজা

  • Update Time : ১১:০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭
  • / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরছেন না বলে বিএনপি`র লন্ডন ভিত্তিক কিছু সুত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, সরকারের সাথে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হওয়ায় খালেদা জিয়ার উপর বিএনপি`র তারেক রহমান পন্থী গ্রুপের অস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ দুর্নীতির প্রায় ডজনখানেক মামলায় দেশের বাইরে আছেন বিএনপি`র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার জৈষ্ট পুত্র তারেক রহমান। তারেক রহমান মামলার কারনে দেশে আসতে না পারায় বিশ্ব জুড়ে তার `দুর্নীতিবাজ ইমেজ` আরও বেশি প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি`র সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন লন্ডন বসে না থেকে বরং তারেক রহমান যদি দেশে এসে এসব মামলা মোকাবেলা করে জেলও খাটতেন তবে দুর্নীতিবাজ পরিচয় একসময় মুছে যেত এবং দেশের বিএনপি সমর্থকদের কাছেও সহানুভূতি তৈরি হতো। তা উপলব্ধি করেই তারেক রহমান দেশে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকবার। কিন্তু ১/১১ এর সময়কার কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে শেষ পর্যন্ত দেশে আসেন নি তিনি। তবে তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হচ্ছে ধরে নিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। তাই নির্বাচনের আগে যে কোনো মুল্যে দেশে ফিরতে চান। কিন্তু তারেক রহমান কোনোভাবেই জেল খাটতে রাজি নন। তাই দেশে আসার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের সাথে সমঝোতা করার তাগিদ দেন তিনি। একইসাথে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকার্য শেষের দিকে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপিপন্থী আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার নিশ্চিত জেল হতে যাচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এই বয়েসে এসে জেল খাটতে প্রস্তুত নন। তাই খালেদা জিয়াও সরকারের সাথে সমঝোতায় রাজি হোন।

 

 

 

 

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তারেক রহমানের পরামর্শে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে সমঝোতা করার উদ্যোগ নেন। সরকারকে লোভনীয় সমঝোতা প্রস্তাব দিলেও সরকার পক্ষ থেকে তাকে নিরাশ করা হয়েছে। জানা যায়, বিএনপি নেত্রীর প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, তারেক রহমান যেকোনো সময় দেশে আসতে পারেন। তারেক দেশে আসার পথে আওয়ামী লীগ বা সরকার কোনো বাঁধা দিবে না। কিন্তু তারেক রহমানের উপর যেসব মামলা চলমান রয়েছে তা আদালতের ব্যাপার। জানা যায়, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার মামলার ব্যাপারে আদালতের উপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় তারেক রহমানের সাথে বিএনপি নেত্রী জরুরী বৈঠকের উদ্দেশ্যে চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডন সফর করছেন। লন্ডনভিত্তিক সুত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের সাথে সমঝোতা করায় ব্যর্থতার দায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি`র নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে দিবেন না তারেক রহমান।

 

 

 

এদিকে খালেদা-তারেক দুজনকেই বাদ দিয়ে বিএনপি`র সংস্কারপন্থী নেতারা দলটির নেতৃত্ব সাবেক বর্ষীয়ান নেতা ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা যায়, খালেদা ও তারেক দুজনই দুর্নীতির দায়ে প্রচন্ড ইমেজ সংকটে থাকায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে খালেদা ও তারেক দুজনই ব্যর্থ হবেন বলে সংস্কারপন্থী নেতারা মনে করেন। সে লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঈদ পুনর্মিলনীর আড়ালে বিএনপি পন্থী সুশীল সমাজের নেতা ও সরকারবিরোধী কয়েকজন ডানপন্থী-বামপন্থী নেতা এক গোপন বৈঠকে মিলিত হোন। বৈঠকে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিএনপি চেয়ারপার্সন করার সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছেন নেতারা। জানা যায়, আওয়ামী লীগ ফেরত কিছু নেতা ও সরকারবিরোধী বামপন্থী নেতাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি`র সংস্কারপন্থী অংশ বিএনপিকে নতুনভাবে সাজাতে চাচ্ছে। কেননা তাঁরা মনে করেন আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে এসব নেতার সমর্থন দরকার বিএনপি`র। ভবিষ্যতে তাদেরকে জানিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। তাই বিএনপির নেতৃত্বের এই রদবদলে এসব নেতার মনোভাব জানা ও সমর্থন আদায় করা প্রয়োজন। উত্তরার বৈঠকে নেতৃবৃন্দ সাবেক বর্ষীয়ান নেতা ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

আর দেশে ফিরছেন না খালেদা জিয়া: হাল ধরছেন বদরুদ্দোজা

Update Time : ১১:০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরছেন না বলে বিএনপি`র লন্ডন ভিত্তিক কিছু সুত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, সরকারের সাথে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হওয়ায় খালেদা জিয়ার উপর বিএনপি`র তারেক রহমান পন্থী গ্রুপের অস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ দুর্নীতির প্রায় ডজনখানেক মামলায় দেশের বাইরে আছেন বিএনপি`র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার জৈষ্ট পুত্র তারেক রহমান। তারেক রহমান মামলার কারনে দেশে আসতে না পারায় বিশ্ব জুড়ে তার `দুর্নীতিবাজ ইমেজ` আরও বেশি প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি`র সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন লন্ডন বসে না থেকে বরং তারেক রহমান যদি দেশে এসে এসব মামলা মোকাবেলা করে জেলও খাটতেন তবে দুর্নীতিবাজ পরিচয় একসময় মুছে যেত এবং দেশের বিএনপি সমর্থকদের কাছেও সহানুভূতি তৈরি হতো। তা উপলব্ধি করেই তারেক রহমান দেশে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকবার। কিন্তু ১/১১ এর সময়কার কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে শেষ পর্যন্ত দেশে আসেন নি তিনি। তবে তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হচ্ছে ধরে নিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। তাই নির্বাচনের আগে যে কোনো মুল্যে দেশে ফিরতে চান। কিন্তু তারেক রহমান কোনোভাবেই জেল খাটতে রাজি নন। তাই দেশে আসার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের সাথে সমঝোতা করার তাগিদ দেন তিনি। একইসাথে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকার্য শেষের দিকে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপিপন্থী আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার নিশ্চিত জেল হতে যাচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এই বয়েসে এসে জেল খাটতে প্রস্তুত নন। তাই খালেদা জিয়াও সরকারের সাথে সমঝোতায় রাজি হোন।

 

 

 

 

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তারেক রহমানের পরামর্শে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে সমঝোতা করার উদ্যোগ নেন। সরকারকে লোভনীয় সমঝোতা প্রস্তাব দিলেও সরকার পক্ষ থেকে তাকে নিরাশ করা হয়েছে। জানা যায়, বিএনপি নেত্রীর প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, তারেক রহমান যেকোনো সময় দেশে আসতে পারেন। তারেক দেশে আসার পথে আওয়ামী লীগ বা সরকার কোনো বাঁধা দিবে না। কিন্তু তারেক রহমানের উপর যেসব মামলা চলমান রয়েছে তা আদালতের ব্যাপার। জানা যায়, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার মামলার ব্যাপারে আদালতের উপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় তারেক রহমানের সাথে বিএনপি নেত্রী জরুরী বৈঠকের উদ্দেশ্যে চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডন সফর করছেন। লন্ডনভিত্তিক সুত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের সাথে সমঝোতা করায় ব্যর্থতার দায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি`র নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেশে ফিরতে দিবেন না তারেক রহমান।

 

 

 

এদিকে খালেদা-তারেক দুজনকেই বাদ দিয়ে বিএনপি`র সংস্কারপন্থী নেতারা দলটির নেতৃত্ব সাবেক বর্ষীয়ান নেতা ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা যায়, খালেদা ও তারেক দুজনই দুর্নীতির দায়ে প্রচন্ড ইমেজ সংকটে থাকায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে খালেদা ও তারেক দুজনই ব্যর্থ হবেন বলে সংস্কারপন্থী নেতারা মনে করেন। সে লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঈদ পুনর্মিলনীর আড়ালে বিএনপি পন্থী সুশীল সমাজের নেতা ও সরকারবিরোধী কয়েকজন ডানপন্থী-বামপন্থী নেতা এক গোপন বৈঠকে মিলিত হোন। বৈঠকে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিএনপি চেয়ারপার্সন করার সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছেন নেতারা। জানা যায়, আওয়ামী লীগ ফেরত কিছু নেতা ও সরকারবিরোধী বামপন্থী নেতাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি`র সংস্কারপন্থী অংশ বিএনপিকে নতুনভাবে সাজাতে চাচ্ছে। কেননা তাঁরা মনে করেন আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে এসব নেতার সমর্থন দরকার বিএনপি`র। ভবিষ্যতে তাদেরকে জানিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। তাই বিএনপির নেতৃত্বের এই রদবদলে এসব নেতার মনোভাব জানা ও সমর্থন আদায় করা প্রয়োজন। উত্তরার বৈঠকে নেতৃবৃন্দ সাবেক বর্ষীয়ান নেতা ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ