০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিকড়ের টান এবং জীবনের আসল সমীকরণ

  • Update Time : ০২:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ:

রসুনের শিকড় যেমন একটিই থাকে এবং তার কোয়াগুলো সব একসাথে গাঁথা থাকে, আমাদের সমাজটাও ঠিক তেমনই। যতক্ষণ আমরা একসাথে মিলেমিশে থাকি, ততক্ষণ সবাই আপন। কিন্তু যেইমাত্র কারো মতের ভিন্নতা দেখা দেয়, অমনি আমরা একে অপরকে পর করে দিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো-কেন আমরা পর হব? আমাদের উচিত নিজেদের ভেতরের হিংসা, বিদ্বেষ আর সংকীর্ণ স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করে বিবেক, বুদ্ধি ও মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করা। আমরা যদি তা করতে পারি, তবে সমাজে কেউ কারো শত্রু হবে না, কাউকে নিয়ে আমাদের বিষোদ্গার করতে হবে না। আমাদের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ বাস করে। কিন্তু এই বৈচিত্র্য কোনো বিভেদের কারণ হওয়া উচিত নয়। আমরা যদি মন থেকে সমস্ত অহংকার ও অহমিকা দূর করে হাতে হাত এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারি, তবে সমাজে কোনো দ্বন্দ্ব বা সংঘাতের অবকাশ থাকে না। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন, যখন আমরা কোনো বড় বিপদে বা সমস্যায় পড়ি, তখন বুঝতে পারি এই স্বার্থের দুনিয়ায় আসলে কেউ কারো নয়। তবে কিসের এত অহংকার? এই যে আমাদের অহমিকা, তা কেবল একটা নিঃশ্বাসের ওপর টিকে আছে। শ্বাসটি বেরিয়ে গেলেই চারপাশ অন্ধকার! এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়, এটি কেবলই এক ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানা। তাই আসুন, ক্ষণিকের এই জীবনের চেয়ে আমরা পরকালকে নিয়ে একটু ভাবি, পরকালের পাথেয় জোগাড় করি। তাহলেই আমাদের জীবনের আসল হিসাব মিলে যাবে, সমাজ হয়ে উঠবে সুন্দর ও শান্তিময়।

লেখক: কাজী ও সাংবাদিক- শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

শিকড়ের টান এবং জীবনের আসল সমীকরণ

Update Time : ০২:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ:

রসুনের শিকড় যেমন একটিই থাকে এবং তার কোয়াগুলো সব একসাথে গাঁথা থাকে, আমাদের সমাজটাও ঠিক তেমনই। যতক্ষণ আমরা একসাথে মিলেমিশে থাকি, ততক্ষণ সবাই আপন। কিন্তু যেইমাত্র কারো মতের ভিন্নতা দেখা দেয়, অমনি আমরা একে অপরকে পর করে দিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো-কেন আমরা পর হব? আমাদের উচিত নিজেদের ভেতরের হিংসা, বিদ্বেষ আর সংকীর্ণ স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করে বিবেক, বুদ্ধি ও মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করা। আমরা যদি তা করতে পারি, তবে সমাজে কেউ কারো শত্রু হবে না, কাউকে নিয়ে আমাদের বিষোদ্গার করতে হবে না। আমাদের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ বাস করে। কিন্তু এই বৈচিত্র্য কোনো বিভেদের কারণ হওয়া উচিত নয়। আমরা যদি মন থেকে সমস্ত অহংকার ও অহমিকা দূর করে হাতে হাত এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারি, তবে সমাজে কোনো দ্বন্দ্ব বা সংঘাতের অবকাশ থাকে না। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন, যখন আমরা কোনো বড় বিপদে বা সমস্যায় পড়ি, তখন বুঝতে পারি এই স্বার্থের দুনিয়ায় আসলে কেউ কারো নয়। তবে কিসের এত অহংকার? এই যে আমাদের অহমিকা, তা কেবল একটা নিঃশ্বাসের ওপর টিকে আছে। শ্বাসটি বেরিয়ে গেলেই চারপাশ অন্ধকার! এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়, এটি কেবলই এক ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানা। তাই আসুন, ক্ষণিকের এই জীবনের চেয়ে আমরা পরকালকে নিয়ে একটু ভাবি, পরকালের পাথেয় জোগাড় করি। তাহলেই আমাদের জীবনের আসল হিসাব মিলে যাবে, সমাজ হয়ে উঠবে সুন্দর ও শান্তিময়।

লেখক: কাজী ও সাংবাদিক- শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ