১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে শাহজালাল মাজারের দানবক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

  • Update Time : ১০:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • / ৪০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই গণনা শেষে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন। নগদ টাকার পাশাপাশি এবার দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা এবং বিশ্বের ১৯টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণনা শেষে বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ মাস ৪ দিন পর মাজারের ৩টি বড় দানবাক্স ও ৩টি মানতের ডেগ খোলা হয়। এতে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ছাড়াও ২ ভরি ১ রতি সোনা এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এছাড়াও নজরানা হিসেবে ভক্তদের দেওয়া গরু, ছাগল ও হাস-মুরগিও সংগৃহীত হয়েছে।

দানবাক্সে বিশ্বের ১৯টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ৩১.১১ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৩২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৪ মার্কিন ডলার, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১০০০ জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ৯০ তুর্কি লিরা, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ৪ ইউরো। এছাড়াও নেপাল, ওমান, আরব আমিরাত, ইরাক, ভিয়েতনাম, লেবানন, মিসর, বাহরাইন ও কানাডার মুদ্রা পাওয়া গেছে।

গণনা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দ্রুতই একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সেই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে টাকা গণনা ও মাজারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

শনিবার সকাল ১০টায় সিলগালা করা দানবাক্সগুলো খোলার পর প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী টানা কয়েক ঘণ্টা টাকা গণনার কাজ করেন। এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা ফেরাতে গত জুন মাস থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই গণনার কাজ শুরু হয়। এর আগে প্রথম দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। আজ তৃতীয় দফার গণনায় সংগ্রহের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে শাহজালাল মাজারের দানবক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

Update Time : ১০:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই গণনা শেষে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন। নগদ টাকার পাশাপাশি এবার দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা এবং বিশ্বের ১৯টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণনা শেষে বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ মাস ৪ দিন পর মাজারের ৩টি বড় দানবাক্স ও ৩টি মানতের ডেগ খোলা হয়। এতে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ছাড়াও ২ ভরি ১ রতি সোনা এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এছাড়াও নজরানা হিসেবে ভক্তদের দেওয়া গরু, ছাগল ও হাস-মুরগিও সংগৃহীত হয়েছে।

দানবাক্সে বিশ্বের ১৯টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ৩১.১১ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৩২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৪ মার্কিন ডলার, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১০০০ জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ৯০ তুর্কি লিরা, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ৪ ইউরো। এছাড়াও নেপাল, ওমান, আরব আমিরাত, ইরাক, ভিয়েতনাম, লেবানন, মিসর, বাহরাইন ও কানাডার মুদ্রা পাওয়া গেছে।

গণনা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দ্রুতই একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সেই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে টাকা গণনা ও মাজারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

শনিবার সকাল ১০টায় সিলগালা করা দানবাক্সগুলো খোলার পর প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী টানা কয়েক ঘণ্টা টাকা গণনার কাজ করেন। এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা ফেরাতে গত জুন মাস থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই গণনার কাজ শুরু হয়। এর আগে প্রথম দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। আজ তৃতীয় দফার গণনায় সংগ্রহের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ