ঘর গুঁড়িয়ে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট
- Update Time : ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: রাতের আঁধারে এক নারীর বসতঘর ও দোকানসহ তিনটি ঘর ভাঙচুর এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী ফরিদা আক্তার উজ্জ্বলার অভিযোগ, একদল সংঘবদ্ধ লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় তাঁকে ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে মারধর করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উজ্জ্বলার দোকানঘরসহ তিনটি ঘর ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি শৌচাগারটিও রক্ষা পায়নি। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা আসবাবপত্র ও ধ্বংসস্তূপ। একসময়ের বসতবাড়িটি এখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফরিদা আক্তার উজ্জ্বলা বলেন, ‘গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ এক থেকে দেড় শ লোক আমার বাড়িতে হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বৈদ্যুতিক বাতিগুলো ভেঙে ফেলে এবং দোকানসহ তিনটি ঘর তছনছ করে দেয়।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারীরা আমাকে ও আমার অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ঘরে থাকা আড়াই থেকে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও বেশ কয়েকটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। দোকানের মালামাল, ফ্রিজ, এলইডি টেলিভিশন ও আসবাবপত্রসহ আমার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ ক্ষতিসাধন ও লুট করা হয়েছে।’ নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে উজ্জ্বলা বলেন, ‘আমার ফুফু বীরাঙ্গনা জমিলা বেগম, দাদা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন এবং বাবা যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী ছিলেন। এমন একটি পরিবারের সদস্য হয়ে আজ আমাকে এমন নির্যাতনের শিকার হতে হলো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।’ তবে পরিবারের এসব মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সরকারি নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার নেপথ্যে পূর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী জানান, গত ২৩ অক্টোবর তাঁর দোকানে চুরির ঘটনার অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ তদন্তে আসে। পুলিশ চলে যাওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়। তিনি বারবার ৯৯৯ নম্বরে কল করলেও তাৎক্ষণিক সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেন। তিনি স্থানীয় জালাল মিয়া, হেকিম মিয়া, আজিজুল মিয়া, শাহীনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল মিয়া এবং শাল্লা উপজেলা মাদকবিরোধী কমিটির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ওই এলাকায় মাদকবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত। তবে রাতের আঁধারে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ‘কেউ অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করার সুযোগ নেই। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




























