জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
- Update Time : ১২:১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের চেতনার সঙ্গে পরিচিত করানোর পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন, সিলেট আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বিপিএম-সেবা, এবং সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মধ্যে দেশপ্রেম, ইতিহাসচেতনা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এ উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার ক, খ ও গ—তিনটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীদের হাতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা পুরস্কার, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র তুলে দেন। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অতিথিরা তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দেশপ্রেম আরও বিকশিত হবে। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মাধ্যমে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’-এর তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।




























