০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব, বিএনপিকর্মীকে এমপি হানজালা

  • Update Time : ০১:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে এমপি হানজালাকে বলতে শোনা যায়, কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন? একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বিএনপির কর্মী তারা মিয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। বিচার চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। ভুক্তভোগী তারা মিয়া দাবি করেন,ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। তিনি বলেন,সালিশে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে আমার মনে হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসাই স্বাভাবিক। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সবার বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা বিচারে পরিণত হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ শিবচর আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের। স্থানীয়রা আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চাননি, পরে আমি সেখানে যাই। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার প্যাঁচাপেঁচি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারটি সুন্দরভাবেই নিষ্পত্তি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের বক্তব্য থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব, বিএনপিকর্মীকে এমপি হানজালা

Update Time : ০১:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে এমপি হানজালাকে বলতে শোনা যায়, কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন? একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বিএনপির কর্মী তারা মিয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। বিচার চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। ভুক্তভোগী তারা মিয়া দাবি করেন,ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। তিনি বলেন,সালিশে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে আমার মনে হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসাই স্বাভাবিক। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সবার বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা বিচারে পরিণত হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ শিবচর আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগের। স্থানীয়রা আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চাননি, পরে আমি সেখানে যাই। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার প্যাঁচাপেঁচি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারটি সুন্দরভাবেই নিষ্পত্তি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের বক্তব্য থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ