নববর্ষে নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা শরিফ
- Update Time : ০৩:১৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / ৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে নতুন হিজরি বছরের শুরুতে পবিত্র কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হয়েছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গিলাফ পরিবর্তনের এই বার্ষিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীবিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ সৌদি কারিগরদের অংশগ্রহণে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। প্রথমে পুরোনো গিলাফে সংযুক্ত সোনার প্রলেপযুক্ত ও রুপার তৈরি ক্যালিগ্রাফি, অলঙ্করণ এবং কাবা শরিফের দরজার পর্দা সতর্কতার সঙ্গে অপসারণ করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে পুরোনো গিলাফ নামিয়ে নতুন গিলাফ পরানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবার গিলাফ পরিবর্তন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কাপড় বদলের কাজ নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত কারিগরি দক্ষতা এবং বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত নিবিড় প্রস্তুতির ফল। আল্লাহর ঘরের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গিলাফের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত যত্ন ও নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয়।

নতুন গিলাফ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৮২৫ কেজি উচ্চমানের প্রাকৃতিক সিল্ক। এর বাইরের আবরণ তৈরিতে ৪৭ থান কালো সিল্ক এবং অভ্যন্তরীণ আস্তরের জন্য প্রায় ৪০০ কেজি খাঁটি তুলা ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া গিলাফের নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি ও অলঙ্করণে প্রায় ৬০ কেজি রুপা এবং ১২ কেজি সোনা জড়ানো রুপার সুতো ব্যবহার করা হয়েছে।
গিলাফ তৈরির আগে ব্যবহৃত কাঁচামাল বিশেষ পরীক্ষাগারে বিভিন্ন মাননিয়ন্ত্রণ ও স্থায়িত্ব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব সহ্য করে এক বছর ধরে গিলাফের মান অক্ষুণ্ন রাখতে এসব পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।
পরীক্ষা শেষে কাপড়ের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াত ও ইসলামিক নকশার নকশা অঙ্কন করা হয়। এরপর দক্ষ কারিগররা সোনা ও রুপার সুতো ব্যবহার করে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির মাধ্যমে আয়াত ও অলঙ্করণ ফুটিয়ে তোলেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প পদ্ধতিও এই কাজে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে জটিল ও সূক্ষ্ম অংশগুলো তৈরিতে।

গিলাফ তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এগুলো হলো— সুতো রঙ করা, মেশিনে কাপড় বোনা, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, নকশা প্রস্তুত, এমব্রয়ডারি, হাতে বয়ন এবং চূড়ান্ত সংযোজন। সব অংশ প্রস্তুত হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গিলাফটি মসজিদুল হারামে নিয়ে গিয়ে কাবা শরিফে পরানো হয়।
উল্লেখ্য, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব পবিত্র দুই মসজিদের খেদমতের অংশ হিসেবে প্রতি বছর কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের দায়িত্ব পালন করে আসছে। হিজরি নববর্ষের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে গভীর আবেগ, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।




























