ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- Update Time : ০৬:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সরকারি সহায়তার টাকা পাঠানোর ফরমে ভাতাভোগীর মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে নিজের ছেলের নম্বর দিয়ে বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এই জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাপানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী খান অভিযোগ করে বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলায়মান মৃধা আমার নামে বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে দুই বছর আগে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন। পরবর্তীতে আমার নামে একটি বয়স্ক ভাতা মঞ্জুরও হয়। কিন্তু ভাতার সম্পূর্ণ টাকা আমার অজান্তেই ইউপি সদস্য সোলায়মান তার নিজের ছেলের (০১৬৩০-৪০৪….) মোবাইল নম্বরে নিয়ে আত্মসাৎ করে আসছেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে সাহাদাত খান অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য সোলায়মান ইতোমধ্যে জালিয়াতি করে লিয়াকত আলী খানের ছয় মাসের ভাতার টাকা তুলে নিয়েছেন। এই অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আমরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য ও তার লোকজন উল্টো আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে এবং মিথ্যা বলার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে নিজের ও ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা এই জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোলায়মান মৃধা। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আমার ছেলের নম্বরে সরকারি কোনো ভাতার টাকা ঢোকেনি। আত্মসাতের এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমি ইতোমধ্যে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা বলেন, গত তিন মাস আগে লিয়াকত আলী খানের নামে একটি বয়স্ক ভাতা চালু হয়। ভাতা অনুমোদনের পরপরই সরকারি ডাটাবেজ ও ফরমে দেওয়া ০১৬৩০-৪০৪…. নম্বরে প্রথম কিস্তির তিন মাসের টাকা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরও তিন মাসের টাকাসহ মোট ৩ হাজার ৯০০ টাকা ওই নির্দিষ্ট নম্বরেই চলে গেছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত মোবাইল নম্বর পরিবর্তনসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে জালিয়াতি বা অর্থ আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























