০২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোনকে উত্ত্যক্তকারীর সঙ্গে মীমাংসা, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

  • Update Time : ০১:৫৮:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ১০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ছোট বোনের বিয়ে নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ মে) সকালে নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া এলাকার পেট্রল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বড় ভাই আল আমিন (৩০) ও তার ছোট ভাই হাসান (২৬) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহতের স্বজনরা জানায়, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আল আমিনের ছোট বোনকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নাঈম উত্ত্যক্ত করছিল চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি নিয়ে নাঈমের সঙ্গে মীমাংসা করেন আল আমিন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি তার ছোটভাই হাসান মেনে নিতে না পারেননি। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে দুই ভাইয়ের মধ্যে মোবাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার সকালে চৌয়ালা এলাকায় এসে বড় ভাই আল আমিনের সঙ্গে পুনরায় তর্কে জড়ায় হাসান। একপর্যায়ে আল আমিনের পেটে ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে হাসান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমাদেরকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ৩ দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। তবে আমার দেবর মীমাংসার পক্ষে ছিলনা। পরে আমার স্বামী একাই মিমাংসা করে শহরে চলে আসে। এ নিয়ে ঘটনার আগের রাতে আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দেয় হাসান। পরদিন সকালে বাজারে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত মোবাইলে কল দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। পরে নাইমের সঙ্গে মিমাংসা করে আমরা আবার শহরে আসি। আর এই শহরে আসাই আমার ভাইয়ের জন্য কাল হলো। এক ভাই অন্য ভাইকে খুন করল। নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান এবং নাইমকে আটক করা হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বোনকে উত্ত্যক্তকারীর সঙ্গে মীমাংসা, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

Update Time : ০১:৫৮:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: ছোট বোনের বিয়ে নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে এক যুবক খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ মে) সকালে নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া এলাকার পেট্রল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বড় ভাই আল আমিন (৩০) ও তার ছোট ভাই হাসান (২৬) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহতের স্বজনরা জানায়, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আল আমিনের ছোট বোনকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নাঈম উত্ত্যক্ত করছিল চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি নিয়ে নাঈমের সঙ্গে মীমাংসা করেন আল আমিন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি তার ছোটভাই হাসান মেনে নিতে না পারেননি। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে দুই ভাইয়ের মধ্যে মোবাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার সকালে চৌয়ালা এলাকায় এসে বড় ভাই আল আমিনের সঙ্গে পুনরায় তর্কে জড়ায় হাসান। একপর্যায়ে আল আমিনের পেটে ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করে হাসান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমাদেরকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ৩ দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। তবে আমার দেবর মীমাংসার পক্ষে ছিলনা। পরে আমার স্বামী একাই মিমাংসা করে শহরে চলে আসে। এ নিয়ে ঘটনার আগের রাতে আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দেয় হাসান। পরদিন সকালে বাজারে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত মোবাইলে কল দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। পরে নাইমের সঙ্গে মিমাংসা করে আমরা আবার শহরে আসি। আর এই শহরে আসাই আমার ভাইয়ের জন্য কাল হলো। এক ভাই অন্য ভাইকে খুন করল। নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান এবং নাইমকে আটক করা হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ