নদীর উপর গ্রামবাসী উদ্যোগে বাঁশের সেতু নির্মাণ
- Update Time : ১০:০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মানের দাবি জানিয়ে আসলেও তা পূরন না হওয়ার কয়েকটি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার উদ্যোগে নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভাঙারখাল নদীর উপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর মাদ্রাসা অংশে টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মান করায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের কারনে চলাচলকারীদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) এই সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন উদ্বোধন করেন উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক ও সেতুটির উদ্যোগতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য বক্তি ও এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানাগেছে, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভাঙারখাল নদী বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নকে আলাদা করেছে। নদীটির উপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর অংশে সেতু নির্মানের দাবী জানিয়ে আসলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। অথছ পৈলানপুর গ্রামসহ ৫-৬ টি গ্রামের বাসিন্দারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ীগন শুকনো মৌসুমে পায়ে হেটে আর বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হয়। অনেক সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে অনেককেই, শিক্ষার্থীদের বই খাতা পানি ডুবে যায়। পৈলানপুর গ্রামে মাদ্রাসা আছে এখানেও শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করে নির্মিত সেতু হওয়ার পূর্বে। সহজে যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। এখানে সেতু নির্মানের দাবি জানানোর পরও দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ আমলেই নেয়নি। জানা গেছে, বাঁশের সেতুটি তৈরি করায় বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনার অবসান ঘটছে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া আন্তরিকতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিকের উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন। সরকারী ভাবে সেতু নির্মানের দাবী জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারি ভাবে কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগে নিয়ে এগিয়ে আসলে ও সবাই সহযোগিতা করলে বড় কাজ ও সহজ হয়ে যায়, তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনস্বার্থ কাজ করার আহবান জানিয়েছে সচেতন মহল।
পৈলানপুর গ্রামে শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের কয়েকটি গ্রামে স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা এই নদী দিয়ে বর্ষায় ছোট্ট নৌকা দিয়ে পার হতে হয়,অনেক সময় নৌকা ডুবে বই খাতা পানি বিজে যায়,আর শুকনো মৌসুমে নদীর মধ্যে বাঁধ সাকো দিয়ে পার হতে গিয়ে একেই দূর্ভোগে পরি। বাঁশের সেতু হওয়ায় আর দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলাম। এখানে যদি স্থায়ী একটি সেতু নির্মান করা হতো তাহলে ভালো হতো। বিশিষ্ট সমাজ সেবক আবুল হোসেন জানান, পৈলনপুর মাদ্রাসা ও প্রাইমারি স্কুলের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী ও দু পাড়ের প্রায় পাঁচ হাজার সাধারণ জনগণের কোন টাকা ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার সুযোগ সৃষ্টি হল। সেতুটির উদ্যোগতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিক মিয়া দাবি জানিয়েছেন, আমাদের যেহেতু টাকা নেই তার জন্য জনগনের সুবিধার্থে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ উদ্যোগ নেই স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ সবাই সহযোগী করার সেতুটি পূর্নতা লাভ করেছে। সবাই সহজে চলাচল করতে পারবে। এখানে স্থায়ী সেতু নির্মানের জন্য সংসদ সদস্য সুনামগঞ্জ ১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল এর একটু সুদৃষ্টি কামনা করছি। উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, বর্ষায় নৌকায় পারাপার করতে করতে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটে। এই বাঁশের সেতুটি তৈরী করে চালু করার জন্য যারা সহযোগিতা করছেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইল। আমি জনগনের স্বার্থে সব সময় পাশে আছি আর আগামী দিন গুলোতে ও থাকবো।


















