০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঁশের সাঁকোতেই ৪০ পরিবারের চলাচল, জীবন ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

  • Update Time : ০২:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ‘তথ্য-প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর আধুনিকতার এ যুগে সড়কের উপর বাঁশের সাঁকোতে চলাচল, এ যেনো এক অলীক কল্পনা। তাও আবার পৌরসভার মানচিত্রে ঠাঁই পাওয়া একটি গ্রামে। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে মধ্যযুগীয় দুর্ভোগের কাহিনী। সেখানেই আবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ও গ্রামের ৪০টি পরিবারের প্রায় ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ পৌরসভার উন্নয়নের মানচিত্র থেকে রয়েছেন বিচ্ছিন্ন। এযেনো ‘অভিশপ্ত’ কল্প-কাহিনীকেও হার-মানানোর গল্প ফুটে উঠেছে সেই গ্রামটিতে।’ বলছি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের কথা। যে গ্রামে টানা বৃষ্টি হলে বা বর্ষাকাল এলেই গ্রামের প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারেন না গ্রামবাসী।

চলাচলের জন্য সড়কের উপরই গ্রামবাসীকে নির্মাণ করতে প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ‘বাঁশের সাঁকো’। আর সেই বাঁশের সাঁকোতেই দুলছে তাদের জীবনের পাশাপাশি স্বপ্নগুলোও। কারণ গার্ডওয়াল বিহীন সেই সড়ক বা বাঁশের সাঁকোর পাশে থাকা গভীর খালটিও গ্রামবাসীর আরেক দূর্ভোগ। প্রায়ই পিচ্ছিল থাকা বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।

২০১৯ সালে বিশ্বনাথ পৌরসভা গঠিত হলেও আজও পৌরসভা থেকে সরকারি কোন বরাদ্ধ পাননি ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামবাসী। ফলে পৌরসভায় অন্তভর্‚ক্ত হওয়ার পূর্ব থেকে চলমান চরম দূর্ভোগের সাথে আতœীয়তা করেই যেনো চলছে গ্রামবাসীর জীবন-যাপন। আর তাই বেঁচে থাকার জন্য কর্ম করতে গ্রামের বাইরে যাওয়া-আসার জন্য প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ওই বাঁশের সাঁকোটিই গ্রামের ৪০টি পরিবারের প্রায় ৪ শতাধিক নারী-পুরুষের একমাত্র অবলম্বন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা গেছে, গত কিছু দিনের টানা বৃষ্টিতে উন্নয়ন বঞ্চিত ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের সড়কটি খানা খন্দ আর গাদাগাদা কাদায় ভরপুর। আর বর্ষা মৌসুমে সড়কের পরিস্থিতি আরোও ভয়াবহ হয়। তাই এমতাবস্তায় সেই সড়ক দিয়ে পায়ে বা গাড়িতে গ্রামবাসীর চলাচল সম্ভব নয়। তাই গ্রামবাসী বাধ্য হয়েই গার্ডওয়াল বিহীন সড়কের উপরই নির্মাণ করেছেন প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ওই ‘বাঁশের সাঁকো’। সেই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করার সময় পা পিছলে সাঁকোর পাশে থাকা গভীর খালে পড়ে বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন গ্রামবাসী। এতে চরম আতঙ্ক ও জীবন ঝুঁকিতে থাকতে হয় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা পড়–য়া কোমলমতি শিক্ষার্থী, মুমুর্ষ অসুস্থ রোগী বা বয়োবৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীদের। কারণ ইতিমধ্যে পিচ্ছিল থাকা ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।

নিজের মধ্যে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, পৌরসভার মানচিত্রে ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের ঠাঁই হলেও, পৌরসভা গঠনের পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভার উন্নয়নের মানচিত্রে ঠাঁই পায়নি আমাদের উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রামটির। তাইতো দেশ ডিজিটাল হলেও আজও ইকবালপুর গ্রামের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা সবার থেকে পিছিয়ে আধুনিক জীবন-যাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। তাইতো শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই গ্রামের কৃষকরা নিজের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বাজারে যেতে পারছেন না, স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন ঝুঁকিতে থাকতে হয় শিক্ষার্থী’সহ মুমুর্ষ অসুস্থ রোগী বা বয়োবৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীদের।

ইকবালপুর গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আলী বলেন, আমাদের গ্রামটি (ইকবালপুর) পৌরসভার সীমানার ভেতরে থাকার পরও আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত। নির্বাচন এলে প্রার্থীরা এসে আমাদেরকে শুধু আশ্বাসের বড় বড় বাণী শুনিয়ে যান, এরপর আর কেউই কোন খোঁজ নেন না অবহেলিত-বঞ্চিত গ্রামটির। অথচ বর্তমান সময়ে এসে সড়কের উপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করতে হচ্ছেন আমাদেরকে। আর প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ওই সাঁকোটিই আমাদের জীবনে বড় প্রকারের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমির আলী বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে, বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আমাদেরকে সর্বদা চরম আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। আর ভরে অন্যতম প্রধান কারণই হচ্ছে ওই ‘বাঁশের সাঁকো’। সাঁকো দিয়ে চলাচলে কখন যে কে পা পিছলে খালে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হবে, এর কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। জানিনা খালের পাশে গার্ডওয়াল দিয়ে গ্রামের প্রধান সড়কটি পাকাকরণের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করতে হবে আমাদেরকে?

গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আব্দুল আহাদ, আব্দুল খলিল ও শফিক আলী বলেন, খালটি ভরাট করলেও হবে না, পানি চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাই খালের পার্শ্বে একটি গার্ডওয়াল অত্যন্ত জরুরী। আর বৃষ্টি হলেই বা বর্ষাকালে সড়কটি চলাচলের অনুপোযী হয়ে পড়ে, সেজন্য গ্রামের প্রধান সড়কটি পাকাকরণ গ্রামবাসীর প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে। যত দ্রæত সম্ভব আমাদের ওই দাবীপূরণে পৌর কর্তৃপক্ষ’সহ সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এলাকাবাসী আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করলে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়ে সড়কের মেজারমেন্ট করে আমাদের (পৌরসভার) সাধ্যের মধ্যে থাকলে আগামী অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিষয়টি অত্যান্ত মানবিক উল্লেখ করে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উন্মে কুলসুম রুবি বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। জানার পর পৌরসভার প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পৌরসভার সাধ্যের মধ্যে থাকলে আগামী অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া জন্য।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বাঁশের সাঁকোতেই ৪০ পরিবারের চলাচল, জীবন ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

Update Time : ০২:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: ‘তথ্য-প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর আধুনিকতার এ যুগে সড়কের উপর বাঁশের সাঁকোতে চলাচল, এ যেনো এক অলীক কল্পনা। তাও আবার পৌরসভার মানচিত্রে ঠাঁই পাওয়া একটি গ্রামে। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে মধ্যযুগীয় দুর্ভোগের কাহিনী। সেখানেই আবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ও গ্রামের ৪০টি পরিবারের প্রায় ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ পৌরসভার উন্নয়নের মানচিত্র থেকে রয়েছেন বিচ্ছিন্ন। এযেনো ‘অভিশপ্ত’ কল্প-কাহিনীকেও হার-মানানোর গল্প ফুটে উঠেছে সেই গ্রামটিতে।’ বলছি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের কথা। যে গ্রামে টানা বৃষ্টি হলে বা বর্ষাকাল এলেই গ্রামের প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারেন না গ্রামবাসী।

চলাচলের জন্য সড়কের উপরই গ্রামবাসীকে নির্মাণ করতে প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ‘বাঁশের সাঁকো’। আর সেই বাঁশের সাঁকোতেই দুলছে তাদের জীবনের পাশাপাশি স্বপ্নগুলোও। কারণ গার্ডওয়াল বিহীন সেই সড়ক বা বাঁশের সাঁকোর পাশে থাকা গভীর খালটিও গ্রামবাসীর আরেক দূর্ভোগ। প্রায়ই পিচ্ছিল থাকা বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।

২০১৯ সালে বিশ্বনাথ পৌরসভা গঠিত হলেও আজও পৌরসভা থেকে সরকারি কোন বরাদ্ধ পাননি ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামবাসী। ফলে পৌরসভায় অন্তভর্‚ক্ত হওয়ার পূর্ব থেকে চলমান চরম দূর্ভোগের সাথে আতœীয়তা করেই যেনো চলছে গ্রামবাসীর জীবন-যাপন। আর তাই বেঁচে থাকার জন্য কর্ম করতে গ্রামের বাইরে যাওয়া-আসার জন্য প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ওই বাঁশের সাঁকোটিই গ্রামের ৪০টি পরিবারের প্রায় ৪ শতাধিক নারী-পুরুষের একমাত্র অবলম্বন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা গেছে, গত কিছু দিনের টানা বৃষ্টিতে উন্নয়ন বঞ্চিত ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের সড়কটি খানা খন্দ আর গাদাগাদা কাদায় ভরপুর। আর বর্ষা মৌসুমে সড়কের পরিস্থিতি আরোও ভয়াবহ হয়। তাই এমতাবস্তায় সেই সড়ক দিয়ে পায়ে বা গাড়িতে গ্রামবাসীর চলাচল সম্ভব নয়। তাই গ্রামবাসী বাধ্য হয়েই গার্ডওয়াল বিহীন সড়কের উপরই নির্মাণ করেছেন প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ওই ‘বাঁশের সাঁকো’। সেই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করার সময় পা পিছলে সাঁকোর পাশে থাকা গভীর খালে পড়ে বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন গ্রামবাসী। এতে চরম আতঙ্ক ও জীবন ঝুঁকিতে থাকতে হয় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা পড়–য়া কোমলমতি শিক্ষার্থী, মুমুর্ষ অসুস্থ রোগী বা বয়োবৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীদের। কারণ ইতিমধ্যে পিচ্ছিল থাকা ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।

নিজের মধ্যে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, পৌরসভার মানচিত্রে ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের ঠাঁই হলেও, পৌরসভা গঠনের পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভার উন্নয়নের মানচিত্রে ঠাঁই পায়নি আমাদের উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রামটির। তাইতো দেশ ডিজিটাল হলেও আজও ইকবালপুর গ্রামের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা সবার থেকে পিছিয়ে আধুনিক জীবন-যাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। তাইতো শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই গ্রামের কৃষকরা নিজের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বাজারে যেতে পারছেন না, স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন ঝুঁকিতে থাকতে হয় শিক্ষার্থী’সহ মুমুর্ষ অসুস্থ রোগী বা বয়োবৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীদের।

ইকবালপুর গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আলী বলেন, আমাদের গ্রামটি (ইকবালপুর) পৌরসভার সীমানার ভেতরে থাকার পরও আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত। নির্বাচন এলে প্রার্থীরা এসে আমাদেরকে শুধু আশ্বাসের বড় বড় বাণী শুনিয়ে যান, এরপর আর কেউই কোন খোঁজ নেন না অবহেলিত-বঞ্চিত গ্রামটির। অথচ বর্তমান সময়ে এসে সড়কের উপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করতে হচ্ছেন আমাদেরকে। আর প্রায় ২ শত ফুট দৈঘ্যের ওই সাঁকোটিই আমাদের জীবনে বড় প্রকারের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমির আলী বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে, বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আমাদেরকে সর্বদা চরম আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। আর ভরে অন্যতম প্রধান কারণই হচ্ছে ওই ‘বাঁশের সাঁকো’। সাঁকো দিয়ে চলাচলে কখন যে কে পা পিছলে খালে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হবে, এর কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। জানিনা খালের পাশে গার্ডওয়াল দিয়ে গ্রামের প্রধান সড়কটি পাকাকরণের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করতে হবে আমাদেরকে?

গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আব্দুল আহাদ, আব্দুল খলিল ও শফিক আলী বলেন, খালটি ভরাট করলেও হবে না, পানি চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাই খালের পার্শ্বে একটি গার্ডওয়াল অত্যন্ত জরুরী। আর বৃষ্টি হলেই বা বর্ষাকালে সড়কটি চলাচলের অনুপোযী হয়ে পড়ে, সেজন্য গ্রামের প্রধান সড়কটি পাকাকরণ গ্রামবাসীর প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে। যত দ্রæত সম্ভব আমাদের ওই দাবীপূরণে পৌর কর্তৃপক্ষ’সহ সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এলাকাবাসী আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করলে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়ে সড়কের মেজারমেন্ট করে আমাদের (পৌরসভার) সাধ্যের মধ্যে থাকলে আগামী অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিষয়টি অত্যান্ত মানবিক উল্লেখ করে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উন্মে কুলসুম রুবি বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। জানার পর পৌরসভার প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পৌরসভার সাধ্যের মধ্যে থাকলে আগামী অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া জন্য।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ