০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে আসছে নতুন কর কাঠামো

  • Update Time : ০৩:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে নতুন কর কাঠামো প্রণয়ন, দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব বাড়াতে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একই সঙ্গে চোরাচালান ও জাল স্ট্যাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে জব্দকৃত পণ্য জনসমক্ষে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে এ প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা। এসময় আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ও সহসাধারণ সম্পাদক মানিক মুনতাছির। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশে তামাকের দাম আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম। সে কারণে আমরা চেষ্টা করব এখান থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এবং নতুন কর কাঠামো প্রণয়নের সম্ভাবনা খুঁজব। এতদিন পর্যন্ত চারটি লেয়ারে দাম নির্ধারণ করা ছিল, কিন্তু ট্যাক্সের হার অত্যধিক ছিল। বর্তমানে সিগারেটে ৮৩ শতাংশ ট্যাক্স প্রযোজ্য। বিড়ির ক্ষেত্রেও ফাঁকি ব্যাপক, যা আমরা সবাই জানি। বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। আমরা যখন রেশনালাইজেশন করতে চাই, তখন সরাসরি বিরোধ তৈরি হয়। তাই আপনার সহযোগিতা থাকলে আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে সমাধান করতে পারব। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর আমরা তামাক এবং বিড়ির কর সমন্বয় করি। বিড়ির ক্ষেত্রে রেশনালাইজেশন ও যৌক্তিকীকরণ জরুরি। সাধারণ ধারণার বিপরীতে, ট্যাক্স কম হলেও জালজালিয়াতি হয়। সারা বিশ্বে ট্যাক্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টার প্রবণতা দেখা যায়। আমরা রেশনালাইজেশন এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। মডার্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিগারেটের স্ট্যাম্প যাচাই করা সম্ভব হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, দেশে সিগারেটে QR কোড চালু করা হবে। সিগারেটের স্ট্যাম্পে আমাদের হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এটি রোধ করতে সিগারেট প্যাকেটে QR ও AR কোড ব্যবহার করা হবে। সাধারণ মানুষকে হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হবে। কেউ নকল পণ্য শনাক্ত করলে অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস মেকানিজমের মাধ্যমে জালজালিয়াতি কমানোর চেষ্টা করা হবে। সাধারণত এনবিআর জাল সিগারেট ধ্বংসের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করে। এবারও সিগারেট এবং বিড়িতে দাম কিছুটা বৃদ্ধি ও কর কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ থেকে বড় ধরনের রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনের আশা প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে আসছে নতুন কর কাঠামো

Update Time : ০৩:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে নতুন কর কাঠামো প্রণয়ন, দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব বাড়াতে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একই সঙ্গে চোরাচালান ও জাল স্ট্যাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে জব্দকৃত পণ্য জনসমক্ষে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে এ প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা। এসময় আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ও সহসাধারণ সম্পাদক মানিক মুনতাছির। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশে তামাকের দাম আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম। সে কারণে আমরা চেষ্টা করব এখান থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এবং নতুন কর কাঠামো প্রণয়নের সম্ভাবনা খুঁজব। এতদিন পর্যন্ত চারটি লেয়ারে দাম নির্ধারণ করা ছিল, কিন্তু ট্যাক্সের হার অত্যধিক ছিল। বর্তমানে সিগারেটে ৮৩ শতাংশ ট্যাক্স প্রযোজ্য। বিড়ির ক্ষেত্রেও ফাঁকি ব্যাপক, যা আমরা সবাই জানি। বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। আমরা যখন রেশনালাইজেশন করতে চাই, তখন সরাসরি বিরোধ তৈরি হয়। তাই আপনার সহযোগিতা থাকলে আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে সমাধান করতে পারব। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর আমরা তামাক এবং বিড়ির কর সমন্বয় করি। বিড়ির ক্ষেত্রে রেশনালাইজেশন ও যৌক্তিকীকরণ জরুরি। সাধারণ ধারণার বিপরীতে, ট্যাক্স কম হলেও জালজালিয়াতি হয়। সারা বিশ্বে ট্যাক্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টার প্রবণতা দেখা যায়। আমরা রেশনালাইজেশন এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। মডার্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিগারেটের স্ট্যাম্প যাচাই করা সম্ভব হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, দেশে সিগারেটে QR কোড চালু করা হবে। সিগারেটের স্ট্যাম্পে আমাদের হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এটি রোধ করতে সিগারেট প্যাকেটে QR ও AR কোড ব্যবহার করা হবে। সাধারণ মানুষকে হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হবে। কেউ নকল পণ্য শনাক্ত করলে অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস মেকানিজমের মাধ্যমে জালজালিয়াতি কমানোর চেষ্টা করা হবে। সাধারণত এনবিআর জাল সিগারেট ধ্বংসের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করে। এবারও সিগারেট এবং বিড়িতে দাম কিছুটা বৃদ্ধি ও কর কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ থেকে বড় ধরনের রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনের আশা প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ