১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Update Time : ১২:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে।’ এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

বৈঠকে থাকা পদস্থ এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান এবং কাজের বাইরে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয়ের বাইরে তাকে নিয়ে টানানো একটি ব্যানারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, এ ধরনের বিষয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য; কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। তারা তাদের কাজ করবে এসব না।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী বলেছেন, অতীতে যা ঘটেছে তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা বলেন, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।

প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে দাবি আদায়ের নামে কোনো ধরনের ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না। দাবি-দাওয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। মিছিল-সমাবেশ করা যাবে এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, তবে মহাসড়ক অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না।

পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে সাধারণ মানুষ মূলত পুলিশকেই বোঝে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং অতীতে ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে।

আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আগে দেখা করে গেছেন এবং অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আইজিপি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামফলক সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ, করিডর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ১২:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে।’ এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

বৈঠকে থাকা পদস্থ এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান এবং কাজের বাইরে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয়ের বাইরে তাকে নিয়ে টানানো একটি ব্যানারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, এ ধরনের বিষয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য; কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। তারা তাদের কাজ করবে এসব না।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী বলেছেন, অতীতে যা ঘটেছে তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা বলেন, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।

প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে দাবি আদায়ের নামে কোনো ধরনের ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না। দাবি-দাওয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। মিছিল-সমাবেশ করা যাবে এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, তবে মহাসড়ক অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না।

পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে সাধারণ মানুষ মূলত পুলিশকেই বোঝে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং অতীতে ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে।

আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আগে দেখা করে গেছেন এবং অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আইজিপি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামফলক সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ, করিডর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ