১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমাযান মাসের জরুরী মাসাইল

  • Update Time : ১১:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • / ১০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মুফতি শামসুল ইসলাম

ফাযায়েলে রমাযান
আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রমাযানের রোযাকে ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেযগার) হতে পার।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের উদ্দেশ্যে রোযা রাখে আল্লাহপাক তাঁর পিছনের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো এরশাদ করেন, যখন রমযান আসে, বেহেশতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়, দোযখের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অবাধ্য শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়।
হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- প্রত্যেক নেক কাজের সাওয়াব দশগুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত আমলনামায় লেখা হয়। কিন্তু রোযা বিশেষভাবে আমারই জন্য, এবং আমি নিজেই তার বদলা দান করবো। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক জিনিসেরই দরজা আছে, আর ইবাদতের দরজা হলো রোযা। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শরীয়তসম্মত ওযর ব্যতিত রমাযানের একটি রোযা ছেড়ে দিল সে যদি সারা জীবনও রোযা রাখে ঐ একটি রোযার ক্ষতিপুরণ হবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে সে ব্যক্তি রোযাদারের সমতুল্য সওয়াব পাবে। আর এতে রোযাদার ব্যক্তির সওয়াব কম হবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, রমাযানের প্রথম অংশ রহমাতের, দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাতের এবং শেষ অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তির জন্য।

রামাযান মাসের করণীয় আমলসমূহ

* অধিক পরিমাণে কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করা। দোকানে/অফিসে মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ যিকির করতে থাকা।
* অধিক পরিমাণে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া।
* আল্লাহপাকের নিকট বেহেশত পাওয়ার জন্য দো’আ করা।
* আল্লাহপাকের নিকট দোযখ থেকে মুক্তির জন্য দো’আ করা।
* যত অধিক সম্ভব কুরআন শরীফ তিলাওত করা। ভালভাবে তিলাওত না জানলে তিলাওত শেখার চেষ্টা করা।
ইমাম আবু হানিফা রাহ. পবিত্র রমযান মাসে প্রত্যহ দিনে এক খতম রাতে এক খতম এবং তারাবীর নামজের মাধ্যমে ৩০ দিনে এক খতম। এভাবে পবিত্র রমযান মাসে ৬১ খতম কোরআন পড়তেন। তাই আমাদেরকে বেশি কোরআন খতম করার চেষ্টা করা উচিত। নিজের সন্তানাদিকে নিকটস্থ ক্বারীয়ানা সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

* বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা। তাকবীরে উলার সাথে জামাআতের নামায আদায়ের ব্যাপারে খুব বেশী যত্নশীল হওয়া। তারাবীহের জন্য এশার জামাতের পূর্বেই উপস্থিত থাকা।
* এ’তেকাফের নিয়তে অবসর সময়ে মসজিদে অবস্থান করা। সাধ্যানুযায়ী দান খয়রাত করা। খুব বেশী দো’আ করা, কেননা এই মাসে রোজাদার এর দো’আ ব্যর্থ যায়না। নিজের ঈমান আমলের দৃঢ়তা এবং উম্মতের ইসলাহ এবং দেশ ও জাতীর জন্য দো’আ করা।

বর্জনীয় বিষয়

* অহেতুক কথা থেকে যত্নের সাথে বিরত থাকবে, কঠিন প্রয়োজন ব্যতিত দুনিয়াবী কথা বলবে না। সর্বপ্রকার গোনাহ বিশেষতঃ সিনেমা দেখা, কু-দৃষ্টি, গীবত, জুয়া, তাশ ও লটারী থেকে বিরত থাকা। হাত ও কথা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেওয়া। টেলিভিশন দেখা, রেডিওতে গান-বাজনা শোনা, মোবাইল ফোনের রিংটোনের গান বাজনা শোনা, বেপর্দা চলা। গালী-গালাজ ও ঝগড়া-বিবাদ করা। দাড়ি মুন্ডানো বা একমুঠের চেয়ে ছোট করে দাড়ি কাঁটা। উপরোক্ত গোনাহসমূহ হতে খুবই গুরুত্ব ও যত্নের সাথে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যথায় এরূপ রোযায় ফায়দা ও পুরস্কার অর্জিত হবে না।
* হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রোযা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরূপ, যতক্ষন না ভেঙ্গে ফেলা হয়, ঢাল ভেঙ্গে ফেলার অর্থ হলো, গোনাহে লিপ্ত হওয়া।
* হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে, রমাযান মাস পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারলো না।

সাহরী

সাহরী খাওয়া সুন্নাত। নবীজী সা. বলেন ইহুদী নাসারা এবং আমাদের মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী। আমরা সাহরি খাই আর তারা খায় না। নবীজী আরো বলেন তোমরা সাহরী খাও কেননা এতে বরকত রয়েছে। সাহরী খেয়ে রোজাদার মনে-মনে এ নিয়ত করবে যে, আমি আগামীকাল রোযা রাখবো অথবা দুপুরের মধ্যে এরুপ নিয়ত করবে যে, আমি আজ রোযা রাখলাম। মুখে নিয়ত করা জরুরী নয়।

ইফতার

খেজুর বা শরবত দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত। ইফতার সামনে নিয়ে নাড়া-চাড়া করত: এই দোয়া করবেন “ইয়া ওয়াসিয়াল ফাজলি ইগফিরলী” অর্থাৎ হে অসীম দয়ালু আমাকে ক্ষমা কর। ইফতারের সময় এই দোয়া পড়বেন “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু” হে আল্লাহ তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার রিজিক দিয়েই ইফতার করেছি।

তারাবীহ

* সম্পূর্ণ রমাযান মাসে প্রত্যেক রাতে এশার ফরয ও সুন্নাতের পর বিশ রাকাত করে তারাবীহ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
* তারাবীহর নামাযের মধ্যে পুরা কুরআন শরীফ খতম করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
* খতমে তারাবীতে তেলাওয়াত এমন ধীরে পড়া উচিত যাতে মুসল্লীগণ কুরআনের আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে শুনতে পায়। অন্যথায় তাড়াহুড়া করে খতমে তারাবী পড়ার চেয়ে ছূরা তারাবী পড়া উত্তম। তেমনি চার রাকাত পড়ার পর ঐ পরিমাণ সময় অথবা একটু কম বিশ্রাম নিয়ে আরো চার রাকাত পড়তে হবে। এ নামাজ বিশ্রাম নিয়ে পড়া হয় বলেই তার নাম তারাবীহ। (তারাবীহ অর্থ বিশ্রাম)

এ’তেকাফের ফজীলত, গুরুত্ব ও দায়িত্ব

* হাদিস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি রমাযান মাসের (শেষ) দশ দিন এতেকাফ করবে, তার জন্য দুটি হজ্ব এবং দুইটি ওমরার সমতুল্য সওয়াব হবে।
* যে ব্যক্তি খালেছ নিয়তে এবং ঈমানের সাথে সওয়াবের উদ্দেশ্যে এতেকাফ করবে তার পূর্ববর্তী (সমস্ত সগীরা) গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
* ২০ শে রমাযান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ২৯/৩০ রামাযান অর্থাৎ ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরুষদের জন্য মসজিদে এবং মহিলাদের জন্য নিজ গৃহে নামাজের নির্ধারিত স্থানে পাবন্দির সাথে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এই এতেকাফ সুন্নাতে মু’আক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ মহল্লার একজন হলেও এই এতেকাফ অবশ্যই করতে হবে। কাউকে পারিশ্রমিক দিয়ে এ’তেকাফে বসানো জায়েয নয়।
* পুরুষের ন্যায় মহিলাও ঘরে ইতিকাফ করে ইতিকাফের ফযীলত অর্জন করতে পারবে। তবে তার ইতিকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি শর্ত। পাশাপাশি ইতিকাফ অবস্থায় মাসিক ঋতুস্রাব এবং প্রসব পরবর্তী স্রাব থেকে পবিত্র হতে হবে। সে ঘরের যে জায়গায় নামায এবং অন্যান্য ইবাদত করা হয় সেখানেই ইতিকাফ করবে। কোন জায়গা নির্ধারিত না হলে, ইতিকাফের জন্য নির্ধারণ করে নিবে।
* মহিলার ক্ষেত্রে ইতিকাফের জন্য ঘরের নির্ধারিত জায়গা মসজিদের মত। পুরুষ যে সব প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হতে পারে, মহিলাও এমন প্রয়োজনে ইতিকাফের জায়গা ত্যাগ করতে পারবে। এ ছাড়া অন্য কোন কারনে বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
* মহিলার মাসিক স্রাব এবং প্রসব পরবর্তি স্রাব আসার কারণে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়।

যে কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে।

* এমন রোগে আক্রান্ত হওয়া যে কারণে রোযা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যায় বা যে কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা হয় কিংবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশংকা হয় । অবশ্য রোযা ছাড়তে হলে এ বিষয়গুলো অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শক্রমে অথবা নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রমাণিত হতে হবে। অন্যথায় শুধু ধারণাবশত রোযা ছাড়া যাবে না। তবে ছেড়ে দেয়া রোযা পরে অবশ্যই কাযা করতে হবে।
* গর্ভবতী ও দুগ্ধদায়িনী মহিলা (নিজের সন্তানকে হোক বা অন্যের সন্তানকে) রোযা রাখার কারণে যদি নিজের জীবন বা সন্তানের জীবনের ব্যাপারে আশংকা বোধ করে বা রোযা রাখলে দুধ শুকিয়ে যাওয়ার ভয় করে আর এতে সন্তানের কষ্ট হওয়ার প্রবল ধারণা করে। তবে পরে তার রোযা কাযা করতে হবে।
* মুসাফির (যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল [৭৭.২৪৮ কি.মি.] দূর সফরের নিয়তে ঘর থেকে বের হয়ছে) সফরে থাকা অবস্থায়। এক্ষেত্রে কষ্ট না হলে রোযা রাখাই উত্তম। আর কষ্ট হলে রোযা না রাখা উত্তম। তবে রোযা না রাখলে পরে কাযা করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, রোযা রেখে সফর শুরু করলে ঐ রোযা পূর্ণ করা আবশ্যক। আর রোযা না রাখা অবস্থায় সফর থেকে বাড়ি ফিরলে, দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরী। যদি কেউ পানাহার না করে সফর থেকে এমন সময় বাড়ি ফিরে যখন রোযার নিয়ত করা সহীহ হয়, তবে তার জন্য রোযার নিয়ত করা আবশ্যক।

যে কারণে রোযা রাখার পর ভাঙ্গা যায়

* কাজেন চাপ বা অন্য কারণে এমন পিপাসা বা ক্ষুধার শিকার হওয়া যাতে প্রাণনাশের আশংকা হয়। (উল্লেখ্য যে ব্যক্তি অন্যকে দিয়ে কাজ করাতে পারে বা তুলনামূলক সহজ পন্থায় কাজের ব্যবস্থা করতে পারে তা সত্বেও সে যদি এমন কাজ করে যে কারণে ক্ষুধা বা পিপাসায় রোযা ছাড়তে বাধ্য হয়, তবে সে গুনাহগার হবে।)
* এমন রোগ দেখা দেয়া যাতে তাৎক্ষণিক ঔষধ না খেলে প্রাণনাশের আশংকা হয়।
* যে অবস্থায় গর্ভবতী বা দুগ্ধদায়িনীর রোযা না ভাঙ্গলে তার বা সন্তানের প্রাণনাশের আশংকা হয়।
* কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তি প্রাণহানি বা অঙ্গহানির ভয় দেখিয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য করলে।

যে কারণে রোযার কোন সমস্যা হয় না

কিছু বিষয় এমন আছে, যেগুলোর কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না, মাকরূহও হয় না। অথচ অনেক মানুষ রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পরে আবার ইচ্ছা করে পানাহার করে। ফলে বাস্তবেই রোযা ভেঙ্গে যায়। নিম্নে এগুলো তুলে ধরা হলো-
* রোযার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করা কিংবা সহবাস করা।
* কাঁচা বা শুকনা যে কোন ধরণের মিসওয়াক ব্যবহার করা।
* চোখে বা কানে কোন ঔষধ ব্যবহার করা কিংবা পানি ঢুকে যাওয়া।
* ফুল কিংবা আতর ইত্যাদির ঘ্রাণ নেয়া।
* গরমের কারণে কিংবা পিপাসার কারণে গোসল করা বা ভিজা কাপড় দিয়ে গা মুছা।
* অনিচ্ছাকৃত গলায় ধোয়া, ধুলাবালি বা মাছি মশা প্রবেশ করা।
* স্বপ্নদোষ হওয়া কিংবা কামোত্তেজনার সাথে কারো দিকে শুধু তাকানোর দ্বারা বীর্যপাত হয়ে যাওয়া।
* মুখে থুথু আসার পর তা গিলে ফেলা।
* সাপ ইত্যাদির দংশনের শিকার হওয়া।
* পান খাওয়ার পর ভালভাবে কুলি করা স্বত্বেও থুথুর সাথে লালচে ভাব থেকে যাওয়া।
* ফরয-গোসল না করা অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়া।
* নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, যদি পেটে না যায়। তদ্রুপ শরীরের অন্য কোন স্থান থেকে রক্ত বের হলে।
* পাইরিয়া রোগের কারণে যে সামান্য রক্ত পুজ সর্বদা বের হতে থাকে, তা মুখের ভিতরে চলে যাওয়া।
* রোযা অবস্থায় প্রয়োজনে কাউকে রক্ত দেয়া। তবে রোযা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে-এমন দুর্বল হওয়ার আশংকা হলে, রক্ত দেয়া মাকরূহ।

যে কারণে রোযা মাকরূহ হয়

* বিনা প্রয়োজনে কোন বস্তু মুখে চিবানো বা লবণ ইত্যাদি চেখে দেখা। তবে ছোট বাচ্চার প্রয়োজনে কোন কিছু চিবানো বা স্বামী কিংবা মালিক বদ মেজাজী হলে, তরকারী চেকে দেখার অবকাশ আছে। তবে উভয় ক্ষেত্রে থুথু ফেলে দিতে হবে।
* টুথপেষ্ট, মাজন বা কয়লা ইত্যাদি ব্যবহার করা।
* গোসল ফরয অবস্থায় গোসল না করে পুরা দিন অতিবাহিত করা।
* এ পরিমাণ রক্ত দেয়া যাতে শরীর দূর্বল হয়ে যায়।
* গীবত, চোগলখুরী, ঝগড়া-বিবাদ কিংবা গালিগালাজ করা।
* নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না রাখার আশংকা সত্বেও স্ত্রীকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করা।
* ছোলা বুট থেকে ছোট কোন জিনিস দাঁতে আঁটকে গেলে তা বের না করে গিলে ফেলা।

যে কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হয়-

* নাকে তেল বা ঔষধ দিলে।
* ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে বা বমি আসার পর তা গিলে ফেললে।
* কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময় অসতর্কতার কারণে পানি ভিতরে চলে গেলে।
* নারীকে স্পর্শ করার কারণে বীর্যপাত হলে।
* হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে।
* কাঠ, লোহা, পাথর বা এ জাতীয় কোন অখাদ্য বস্তু খেয়ে ফেললে।
* আগরবাতি, ধুপ বা বিড়ি সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছা করে নাকে বা কণ্ঠ নালীতে পৌঁছালে।
* ভুলে পানাহার করার পর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পরে ইচ্ছা করে পানাহার করলে।
* সময় আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার বা সহবাস করলে বা ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের পূর্বেই ইফতার করে নিলে।
* পান মুখে রেখে ঘুমিয়ে গেলে আর এমতাবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে।
* নিয়ত একেবারেই না করলে বা এমন সময় করলে যে সময় নিয়ত গ্রহণযোগ্য হয় না।
* ছোলা-বুট পরিমাণ বা ততোধিক পরিমান কোন খাদ্যের টুকরা দাঁতে আটকে থাকলে এবং সুবহে সাদিকের পর তা মুখ থেকে বের না করে গিলে ফেললে। অবশ্য এর চেয়ে ছোট হলে রোযা ভাঙবে না। তবে কাজটা মাকরূহ হবে। হ্যাঁ, মুখ থেকে বের করার পর গিললে তা যতই ছোট হোক না কেন রোযা ভেঙ্গে যাবে।
* দাঁত বা মুখের ভিতর থেকে রক্ত বের হলে যদি তা পরিমাণে থুথু বরাবর বা বেশি হয় এবং গলার ভিতর চলে যায়।
* ভিজা আঙ্গুল পায়ূপথের ভিতরে প্রবেশ করালে।
* এক দেশে রোযা শুরু করে ভিন্ন দেশে চলে গেলে যদি দেখা যায় সেখানে আগে ঈদ হয়ে গেছে, তাহলে আগের দেশের হিসেবে যে কয়টা রোযা বাদ গেছে তা কাযা করতে হবে। পক্ষান্তরে ভিন্ন দেশে যাওয়ার পর সেখানে এক দুইটা রোযা বেড়ে গেলে তা রাখতে হবে।

যে কারণে রোযার কাযা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হয়
* রোযা রেখে ইচ্ছা করে পানাহার করলে।
* রোযা অবস্থায় ইচ্ছা করে সহবাস করলে। এমনকি যোনির মধ্যে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করালেও। ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে নারী-পুরুষ উভয়েরই কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে।
* ইচ্ছাকৃত প্রিয়জনের থুথু বা লালা চুষে গিলে নিলে।
* হুক্কা বা বিড়ি-সিগারেট পানে অভ্যস্ত লোক তা পান করলে।

রোযা কাযা করার পদ্ধতি

* কোন কারণে রোযা ছুটে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে অনতিবিলম্বে তা কাযা করে নেয়া উচিত। কারণ জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই।
* কাযা রোযা ধারাবাহিকভাবে রাখা আবশ্যক নয়।
* কয়েক রমযানের কাযা রোযা একত্রিত হয়ে গেলে সেগুলো রাখার সময় কোন্ রমযানের রোযা রাখতেছে নিয়তের সময় তা নির্ধারণ করা লাগবে।

কাফফারার বিবরণ

* একটি রোযার কাফফারা হলো, একটি দাস মুক্ত করা। দাস প্রথা না থাকার কারণে কিংবা অর্থ না থাকার কারণে তা অসম্ভব হলে, একাধারে ৬০ টি রোযা রাখতে হবে। মাঝে কোন বিরতি দেয়া যাবে না । যে কোন কারণে মাঝে একটি ছুটে গেলে পূণরায় শুরু থেকে ৬০ টি রোযা রাখতে হবে। অবশ্য মহিলাদের মাসিক ঋতু¯্রাবের কারণে ধারাবাহিকতায় সমস্যা হবে না। শর্ত হলো, রক্ত বন্ধ হওয়ার পর থেকে কালবিলম্ব না করে আবার রোযা রাখা আরম্ভ করে দিতে হবে।
* কাফফারার রোযা আরম্ভ করার আগে দেখে নিতে হবে যাতে মাঝে রোযা নিষিদ্ধ এমন কোন দিন (যেমন ঈদের দিন) না আসে। কারণ এতে ধারাবাহিকতা ছুটে যাবে।
* কোন কারনে ধারাবাহিকভাবে ৬০ টি রোযা রাখতে অক্ষম হলে, যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ৬০ জন দরিদ্র লোককে পেট ভরে দু বেলা খানা খাওয়াবে। এ ৬০ জন দরিদ্র প্রাপ্ত বয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়সে উপনীত হওয়ার কাছাকাছি হতে হবে। একবেলা যাদেরকে খাওয়ানো হবে অপর বেলায় তাদেরকেই খাওয়াতে হবে। একেবারে ছোট বাচ্চাকে খাওয়ালে তা যথেষ্ট হবে না।
* অনুরূপভাবে যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ৬০ জন দরিদ্র লোকের প্রত্যেককে এক সাদাকায়ে ফিতর পরিমাণ সম্পদ দান করলেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।
* কাফফারার ক্ষেত্রে একজনকে একদিনে একাধিক সাদাকাতুল ফিতর সমপরিমাণ সম্পদ দিলে তা এক সাদাকাতুল ফিতর ধরা হবে। তাই আরো ৫৯ টি সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।
* গ্রহণযোগ্য কারন ব্যতিত একই রমযানের একাধিক রোযা ভেঙ্গে দিলে কাফফারা একটাই আদায় করতে হবে। অবশ্য একাধিক রমযানের রোযা হলে, কাফফারা একাধিক আদায় করতে হবে।

ফিদিয়ার বিধান

* অতি বৃদ্ধ/বৃদ্ধা রোযা রাখতে পরিপূর্ণ অক্ষম বা রোযা রাখতে অসাধ্যকর কষ্ট হলে অথবা রোযার কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা হলে পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোযা রাখার শক্তি পাবে না বলে মনে হলে, প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক সাদাকায়ে ফিতর পরিমাণ সম্পদ গরীবদের দান করতে হবে বা কোন গরীবকে পেট ভরে দু বেলা খানা খাওয়াতে হবে। আর এটাকেই ফিদিয়া বলা হয়।
* মুসাফির সফর থেকে ফিরে কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ছুটে যাওয়া রোযা কাযা করার মত সময় পাওয়ার পরও যদি তা কাযা না করে আর এ অবস্থায় ইন্তিকাল করে এবং ইন্তিকালের পূর্বে ফিদিয়া দেয়ার অসিয়ত করে যায়, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশ দ্বারা ফিদিয়া আদায় করা উত্তরাধিকারীর উপর আবশ্যক। অসিয়ত না করে থাকলে প্রাপ্ত বয়স্ক উত্তরাধিকারীগণ নিজ অংশ থেকে ইচ্ছে করলে ফিদিয়া দিতে পারবে। তবে রোযা রাখার সুযোগ না পেয়ে মারা গেল ফিদিয়া দিতে হবে না।
* কারো পক্ষ থেকে ফিদিয়া দেয়ার পর যদি সে রোযা রাখতে সক্ষম হয়ে যায়, তবে তাকে ফিদিয়া দেয়া রোযার কাযা করতে হবে।
* কারো যদি ফিদিয়া আদায়ের সামর্থ না থাকে, তবে সে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করবে এবং অন্তর দিয়ে আশা রাখবে, যদি সামর্থবান হয় তাহলে ফিদিয়া আদায় করে দিবে।
(হিদায়া, আদদুররুল মুখতার, ফাতাওয়ায়ে শামী, আলফিক্বহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআ, বাদায়িউস সানায়ে, বাহরুর রায়িক, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাক্বী, আহকামুল আতফাল, মাসাইলে রোযা, জাওয়াহিরুল ফিক্বহ, আহকামে যিন্দেগী ইত্যাদি কিতাব থেকে সংগৃহিত)

যে চিকিৎসায় রোযা ভঙ্গ হয় না

* মস্তিষ্ক অপারেশন করা।
* কানে ড্রপ, ঔষধ, তেল বা পানি ইত্যাদি ব্যবহার করা। কারণ কান থেকে গলা পর্যন্ত কোন কিছু যাওয়ার পথ নেই। আগের যুগে পথ আছে বলে ধারণা করা হত, তাই তখনকার উলামায়ে কিরাম রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বলেছেন।
* যে কোন ধরণের ইনজেকশন বা স্যালাইন পুশ করা। অবশ্য রোযার কষ্ট লাগব করার জন্য ইনজেকশন বা স্যালাইন পুশ করা মাকরূহ।
* চোখে ঔষধ, সুরমা ও মলম ইত্যাদি ব্যবহার করা। যদিও গলায় ঔষধের ¯^াদ অনুভূত হয় তথাপি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, তাতে রোযা ভঙ্গ হবে না।
* নাকে বা মুখে অক্সিজেন নেয়া।
* এন্ডোসকপি করা। এতে চিকন একটি পাইপ মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। পাইপের মাথায় বাল্ব জাতীয় বস্তু থাকে। আর বাইরের প্রান্তে মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত এন্ডোসকপিতে নল বা বাল্বের সাথে কোন ঔষধ বা পানি ইত্যাদি কোন কিছু লাগানো হয় না। কিন্তু কোন মেডিসিন লাগানো হলে বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি ছিটানো হলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
* শরীরে রক্ত দেয়া বা শরীর থেকে রক্ত নেয়া।
* এনজিওগ্রাম করা। হার্টের রক্তনালী ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়ার দিকে কেটে বিশেষ একটি ধমনীর ভিতর দিয়ে (যা হার্ট পর্যন্ত পৌছে) ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করাকে এনজিওগ্রাম বলে।
* ইনসুলিন নেয়া।
* পুরুষাঙ্গের ভিতরে বা যোনিদ্বারে কোন ঔষধ ব্যবহার করা।
* সিষ্টোসকপি করা অর্থাৎ পেশাবের রাস্তায় ক্যাথেটার লাগানো।
* কপার-টি করা। অর্থাৎ জন্ম নিয়ন্ত্রণের লক্ষে যোনিদ্বারে এক ধরণের প্লাষ্টিক ফিট করা। অবশ্য কপার-টি লাগিয়ে সহবাস করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।
* ল্যাপারোস্কোপি-বায়োপসি করা হলে। মূলত এতে পেট ছিদ্র করে সিক জাতীয় একটি মেশিন ঢুকিয়ে পেটের ভিতরের কোন অংশ, গোশত ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য বের করে আনা হয়। উল্লেখ্য যে সিকের মধ্যে কোন ঔষধ লাগানো থাকলে আর তা গলা থেকে মলদ্বার পর্যন্ত নাড়িভুড়ির যে কোন জায়গায় পৌঁছলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
* সিরোদকার অপারেশন করা। অর্থাৎ অকাল গর্ভপাত রোধে জরায়ুর মুখের চতুর্দিক সেলাই করা।

যে চিকিৎসায় রোযা ভেঙ্গে যায়

* নাকে ড্রপ ব্যবহার করা।
* যে কোন ধরণের ঔষধ মুখ দিয়ে গিলে ফেলা।
* সালবুটামল, ইনহেলার ব্যবহার করা। শ্বাস কষ্ট দূর করার জন্য ঔষুধটি মুখের ভিতরে স্প্রে করা হয়। যা নিচের দিকে প্রবেশ করে। হ্যাঁ, যদি মুখে ইনহেলার স্প্রে করার পর না গিলে থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া হয় তবে রোযা ভঙ্গ হবে না। কোন কোন চিকিৎসক বলেন সাহরীতে ইনহেলার নেয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত ইনহেলার নেয়ার প্রয়োজন হয় না। অবশ্য যদি কারো শ্বাসকষ্ট এমন মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, ইনহেলার ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না, তবে সে ইনহেলার ব্যবহার করবে এবং পরবর্তীতে ঐ রোযা কাযা করে নিবে। পরে কাযা সম্ভব না হলে ফিদিয়া দিবে।
* নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করা। এটা এ্যারোসল জাতীয় একটা ঔষধ যা হার্টের রোগীদের জিহবার নিচে দুই/এক ফোটা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। যার কিছু অংশ গলায় চলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য কেউ যদি ঔষধটি ব্যবহারের পর না গিলে থুথু দিয়ে ফেলে দেয় তাহলে তার রোযা ভঙ্গ হবে না।
* এম.আর করা অর্থাৎ গর্ভধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে বিশেষ এক ধরণের সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে জীবিত কিংবা মৃত ভ্রæন বের করে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে ঋতু¯্রাব বন্ধ থাকার পর তা চালু হয়ে যায়।
* ডি এন্ড সি করা অর্থাৎ গর্ভ ধারণের আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে জীবিত বা মৃত বাচ্চা বের করে নিয়ে আসা।
* সাপজিটরি-ভোল্টালিন ব্যবহার করা, এটা মলদ্বারে ব্যবহারের একটি ঔষধ।
* ডুশ নেয়া। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা থেকে বিন্যস্ত ও সংক্ষেপকৃত)

সতর্কবাণী

হিম্মত করলে কঠিন কাজও আল্লাহপাকের দয়ায় খুবই সহজ হয়ে যায়। এক ব্যক্তি দিনে প্রায় বিশটি সিগারেট পান করত, তাকে যখন বলা হলো- যে মুখ দিয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয় আল্লাহপাকের যিকির করা হয় সেই মুখকে যদি সিগারেটের দ্বারা দূর্গন্ধযুক্ত করা হয় তাহলে সেটা কি ধরণের অসংগত ও অনুচিত বিষয় হবে? একথা শুনে তৎ¶ণাৎ এই ব্যক্তি হিম্মত করে দৃঢ়পণ করলো, এখন থেকে সে আর সিগারেট পান করবে না, অথচ তার সিগারেট পান করার অভ্যাস ত্রিশ বছরের অধিক।
এ মাসে দাড়ি রাখার হিম্মত করুন, শরীয়ত সম্মত দাড়ি রাখার পর নিজের চেহারা আয়না দিয়ে দেখুন। নিজেই দেখতে পাবেন, চেহারা কেমন নূরানী হয়েছে। দাড়ি মুণ্ডানো বা এক মুঠোর চেয়ে ছোট করে ছাটা, এটা এমন গোনাহ যা সব সময় সাথে লেগে থাকে। অন্যান্য গোনাহ যেমন- চুরি, ডাকাতি, যিনা ইত্যাদি যে সময় করা হয় সে সময়ের পর গোনাহগারের চেহারায় তা লেগে থাকে না, কিন্তু দাড়ি মুণ্ডালে বা এক মুঠের চেয়ে ছোট করে কাটলে নামায, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদতরত অবস্থায়ও ইবাদতকারী অপরাধীর চেহারা ধারণ করার কারণে আল্লাহপাকের খাস রহমত থেকে বঞ্চিত তাকে।
শরয়ী পর্দার অর্থ হলো, (অনাত্মীয় পুরুষ থেকে তো পর্দা করবেই) গায়রে মাহরাম আত্মীয় থেকেও শরীয়তের হুকুম মতো পর্দা করবে। এখানে এমন সকল গায়রে মাহরাম আত্মীয়ের কথা বলা হচ্ছে যাদেরকে লোকেরা গায়রে মাহরামই মনে করে না। পুরুষের জন্য যে সকল আত্মীয়া মহিলার সাথে পর্দা করতে হবে তাঁরা হচ্ছেন- ভাবী, ভ্রাতৃবধু, শ্যালিকা, খালাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন, চাচাতো বোন, মামী, চাচী গং। মহিলাদের জন্য যে সকল পুরুষ আত্মীয়ের সাথে পর্দা করতে হবে তাঁরা হলেন- দুলাভাই, দেবর, ভাসুর, খালাতো ভাই, মামাতো ভাই, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, খালু, ফুফা গং।
কু-দৃষ্টি থেকেও খুবই যতেœর সাথে বেঁচে থাকতে হবে। এটা শয়তানের মারাত্মক ধরণের বিষাক্ত তীর। কু-দৃষ্টির কারণে ইবাদাতের নূর খতম হয়ে যায়। অন্তরে এমন মারাত্মক অন্ধকার সৃষ্টি হয় যা কোন-কোন সময় ইস্তিগফার করলেও দূর হয় না। কু-দৃষ্টি থেকে দূরে থাকার সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যত¶ণ পর্যন্ত তা থেকে কেউ বিরত না থাকবে তত¶ণ পর্যন্ত তাঁর অন্তর থেকে কু-দৃষ্টির অন্ধকার দূর হবে না।

যবানের হিফাজত করুন

যবানের দ্বারা বিশটি গুনাহ সংঘটিত হয়- তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো মিথ্যা ও গীবত। উভয়টি গুনাহে কবীরা। মিথ্যাকে সকল গুনাহের ‘মা’ বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে আছে, মানুষ যখন মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহর দফতরে তার নাম লেখা হয় ‘মিথ্যাবাদী’। মিথ্যাবাদী সত্য কথা বললেও কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।
গীবত (পরনিন্দা) থেকে খুবই সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকতে হবে। গীবতের কারণে অধিকাংশ রোযাদারের রোযা নষ্ট হয়ে যায়। হাদিস শরীফে আছে, গীবত করা যিনা, ব্যভিচার থেকেও খারাপ কাজ। কাজেই রোযা অবস্থায় এহেন মারাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।

যাকাত

রোযার মত যাকাতও ফরজ। নিজ সম্পদ হিসাব করে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার সমান হয়ে থাকে (প্রায় ৭০ হাজার টাকা) তাহলে শতকরা আড়াই টাকা যাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে। যাকাতের দ্বারা বাকী মাল পবিত্র হয়। যাকাত না দিলে ঐ মাল বিষধর সাপ হয়ে দংশন করতে থাকে। এবং বলতে থাকে আমি তোমার সঞ্চিত মাল যার যাকাত তোমি দেওনাই। আমি এভাবে তোমাকে দংশন করতে থাকব। তাই সোনা রোপা, নগদ টাকা, ব্যংকের টাকা, ব্যবসায়ী সম্পদ এবং শেয়ার ব্যবসা ইত্যাদি হিসাব করে যাকাত আদায় করুন। মহিলাদের ব্যবহারী সোনা ও মহরের টাকার ও যাকাত দিতে হয়। ¯^ামী দিয়ে দিলে ও আদায় হয়ে যাবে। রমজান মাসে যাকাত আদায় করলে অতিরিক্ত ৭০গুন সওয়াব পাওয়া যায় যা অন্য মাসে আদায় করলে পাওয়া যায়না। যাকাত যাকে দিবেন তাকে এমন ভাবে দেওয়া ভাল যাদিয়ে সে কোন ব্যবসা ইত্যাদি করতে পারে এবং পরবর্তী বছর সেও যাকাত দাতা হয়ে যায়। ( যেমন পানের দোকান, রিক্সা ও ভ্যান ইত্যাদি) কাপড় দিয়ে/ভি¶ার মত অল্প অল্প করে টাকা দিয়ে সমাজ থেকে গরীবি দূর করা যাবে না এবং যাকাতের উদ্যেশ্য ও হাসিল হবে না। কোন গরীব রোগীর সম্পূর্ণ ঔষদ খরিদ করে দেওয়া, কোন ছাত্রের লেখা পড়া চালিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে কোন মাদরাসার ছাত্রের খরছ বহন করা ও মাদরাসার গরীব/এতিম ফান্ডে দেওয়ায় দ্বিগুন সওয়াব পাওয়া যায়। (১) যাকাতের সওয়াব (২) দ্বীনী ইলিম জারি রাখার সওয়াব। তাই যাকাত, ফিৎরা ও কাফফারা ইত্যাদি মাদরাসায় দেওয়া বেশী সওয়াবের কাজ। আমাদের ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মাদরাসা টিলাগড় সিলেট এর গরিব ও এতিম ফান্ডে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইল।

যাকাত কার উপর ফরয এবং কোন জিনিষে ফরয

* প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ-মস্তিষ্ক সম্পন্ন কোন মুসলমানের মালিকানায় যাকাত যোগ্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার উপর যাকাত ফরয। অর্থাৎ সরাসরি ঐ সম্পদের ৪০ভাগের একভাগ (শতকরা ২.৫%) বা তার মূল্য যাকাতের উপযুক্ত লোকদেরকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। তবে এর জন্য শর্তহচ্ছে ঐ সম্পদ নগদ পরিশোধযোগ্য ঋণ ও মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত হওয়া এবং তার মালিকানায় পূর্ণ এক চন্দ্রবছর অতিবাহিত হওয়া ।
* ব্যবসায়ীক পণ্য ছাড়া ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড়, ফার্নিচার ইত্যাদিতে যাকাত আসে না। তদ্রুপ নিজে থাকা বা ভাড়ার জন্য বানানো বাসা-বাড়ি বা মার্কেট, ভাড়ায় দেয়া গাড়ি, বাড়ি বা অন্য জিনিষ, কারখানায় ব্যবহারের যন্ত্রপাতি এবং পেশাজীবির পেশা চালানোর যন্ত্রপাতি (যেমন কম্পোজম্যানের কম্পিউটার, ইলেকট্রিশিয়ানের ড্রিল মেশিন) ইত্যাদিতে যাকাত আসে না। তবে ব্যবসার নিয়তে কিনলে যাকাতের হিসাবে আসবে।
* ¯^র্ণ-রূপা কাঁচা হোক বা অলংকার আকারে হোক, ব্যবহার হোক আর নাই হোক, নিসাব পরিমাণ হলেই-যাকাত দিতে হবে।
* ভবিষ্যতে হজ্জ, বিবাহ, গৃহ নির্মাণ বা ব্যবসার জন্য জমাকৃত টাকা সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয়ের আগে বছর পূর্ণ হলে যাকাত আসবে ।
* ¯^র্ণ-রূপা খাদ (তথা রাং, দস্তা, তামা ইত্যাদি) যুক্ত হলে বেশি অংশের ভিত্তিতে ফয়সালা হবে। ¯^র্ণ বা রূপার অংশ বেশি হলে পুরোটাকে ¯^র্ণ বা রূপা ধরে যাকাত দিতে হবে। যদি খাদ অধিক হয় তাহলে পুরাটা খাদ গণ্য হবে। তখন এর যাকাত দিতে হবে না। তবে ব্যবসার নিয়তে কিনলে তাতেও যাকাত আসবে।
* ব্যবসার সম্পদ দ্বারা এমন বস্তু উদ্দেশ্য যা বিক্রির লক্ষে কেনা হয়েছে এবং পরবর্তিতে ভিন্ন কোন নিয়ত করা হয় নি। সুতরাং বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয় করা প্লট, ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাড়ি বা অন্য কোন আসবাবপত্র নিসাব পরিমাণ হলে সেগুলোতে যাকাত আসবে। বাজারমূল্য ধরে সেগুলো যদি ¯^তন্ত্রভাবে বা যাকাতযোগ্য অন্য সম্পদের সাথে মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমপরিমাণ হয়, তাহলে সেগুলোর যাকাত দিতে হবে।
* হাঁস, মোরগ, গরু, ছাগল ইত্যাদি সরাসরি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কিনে থাকলে এগুলোর মূল্যের উপর যাকাত আসবে। তবে ডিম বা দুধের ব্যবসার জন্য ক্রয় করা হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। কিন্তু ডিম ও দুধ বিক্রি করে যে আয় হয়, তা নিসাব পরিমাণ হলে এবং বছর অতিবাহিত হলে যাকাত আসবে। পুকুর বা খাল বিলে বিক্রির উদ্দশ্যে যে সব মাছ বা মাছের পোনা ক্রয় করে ছাড়া হয়, সেগুলোর বাজারমূল্য ধরে নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে ।
* মূল্য হিসাব করে সম্পদের যাকাত দেয়ার ক্ষেত্রে যে দিন যাকাত দিবে ঐ দিনের মূল্য হিসাব করতে হবে এবং যাকাতের সম্পদ যে স্থানে থাকবে সেখানের মূল্য হিসাব করতে হবে।
* যদি কেউ একবার নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যায়, মনে করুন রমযানের শুরুতে কেউ নিসাবের মালিক হয়ে গেল আর আগামী বছর রমযানের পহেলা তারিখেও যদি তার মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাকে ‘সাহিবে নিসাব’ বলা হবে এবং দ্বিতীয় রমযানের পহেলা তারিখে তার উপর যাকাত আদায় করা ফরয হবে। বছরের মাঝে যদি সম্পদ কমে যায় তাতে যাকাত রহিত হবেনা। আবার মাঝে সম্পদ বেড়ে গেলে সে সম্পদের উপর বছর অতিবাহিত হওয়াও জরুরী নয়। বরং প্রথম রমযানে বিধ্যমান সম্পদের বছর পূর্তির দিন যাকাতযোগ্য যত সম্পদ থাকবে সবগুলোর যাকাত দিতে হবে। ধরুন ঐ ব্যক্তি পহেলা রমযানে এক লক্ষ টাকার মালিক হয়ে ছিল। দুইমাস পর তা কমে পঞ্চাশ হাজার টাকা হয়ে গেল। কিন্তু পরের পহেলা রমযানের দু’দিন পূর্বে তার নিকট নতুন করে এক লক্ষ টাকা এসে গেল। ফলে যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিন অর্থাৎ পহেলা রমযানে তার মালিকানায় দেড় লক্ষ টাকা জমা হয়ে গেল। অতএব তাকে এই দেড় লক্ষ টাকার উপরই যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যে সম্পদ কমে পঞ্চাশ হাজার হয়েছে আবার মাত্র দু দিন আগে এক লক্ষ টাকা যোগ হয়েছে-সে দিকে দেখা হবে না।
* পরিবারের একাধিক সদস্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এবং তাতে এক বছর পূর্ণ হলে প্রত্যেকের উপর শতকরা ২.৫% হারে যাকাত আসবে।
* শেয়ারের ক্ষেত্রে দেখতে হবে শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে কি। ব্যবসা উদ্দেশ্য হলে বাজারমূল্য হিসেব করে এর যাকাত দিতে হবে। পক্ষান্তরে যদি নির্দিষ্ট পিরিয়ডে কোম্পানী থেকে লভ্যাংশ নেয়া বা লাভ পেলে বিক্রি করা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে প্রতিটি শেয়ারের বাজারদরের যে অংশ কোম্পানীর যাকাতযোগ্য সম্পদের বিপরীতে আছে, তাতে যাকাত আসবে। ধরুন শেয়ারের বাজার ১০০ টাকা। তার মধ্যে ৬০ ভাগ কোম্পানীর বিল্ডিং, মেশিনারীজ ইত্যাদির বিপরীতে আর ৪০ ভাগ কোম্পানীর নগদ অর্থ, কাঁচামাল ও উৎপাদীত মালের বিপরীতে। তাহলে যাকাতের হিসাব করার সময় শেয়ারের ৬০% মূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৪০% মূল্য হিসাব করা হবে।

পাওনা সম্পদের যাকাত

কারো কাছে আপনার যাকাতযোগ্য কোন সম্পদ পাওয়ার থাকলে, এর যাকাত দেয়াও আপনার উপর ফরয । তবে শর্ত হলো যার কাছে পাওনা রয়েছে সে তা অ¯^ীকার না করে যথা সময়ে আদায়ের নিশ্চয়তা প্রদান করবে, কিংবা আপনার নিকট উপযুক্ত সাক্ষ্য বা লিখিত প্রমাণ থাকতে হবে। যাতে আইনের শরণাপন্ন হয়ে আপনি ঐ ঋণ উসূল করতে পারেন।
* যে সকল পাওনা সম্পদ উসূল করার ব্যাপারে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে যায়, ঘটনাক্রমে যদি সেগুলো হাতে এসে যায়, তবে সে সম্পদের বিগত বছরের যাকাত দিতে হবেনা।
* সুদী ব্যাংকের (চলতি, সঞ্চয়ী, দীর্ঘমেয়াদী) যে কোন ধরণের একাউন্টে জমাকৃত অর্থ এবং সুদভিত্তিক পরিচালিত সমবায় সমিতি, হাউজিং কোং বা অন্য যে কোন অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকৃত অর্থ উসুল করার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে।
* বৈধভাবে পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার হিসেবে (মুদারাবা বা শিরকতের ভিত্তিতে) যে সম্পদ বিনিয়োগ করা হয় সেগুলো নিসাব পরিমাণ হলে বছর শেষে মূল পুজি এবং লভ্যাংশ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
* ফেরতযোগ্য বীমা পলিসিতে জমাকৃত প্রিমিয়াম এবং যে কোন বন্ড, ডিবেঞ্চার ও ট্রেজারী বিল ইত্যাদির মূল্য হাতে আসার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত দিতে হবে।
* যে কোন স্থাপনা ভাড়া নেয়ার সময় প্রদত্ত সিকিউরিটি মানি, এডভান্স মানি কিংবা ব্যাংক গ্যারান্টি মানি যদি ফেরতযোগ্য হয় এবং ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয় তাহলে সেগুলো উসুল হওয়ার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে।
* ঐচ্ছিক কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের সমুদয় অর্থ এবং বাধ্যতামূলক কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের ¯ে^চ্ছা প্রদত্ত অতিরিক্ত অংশ হাতে আসার পর বিগত বছরের যাকাত দেয়া চাই।
* বাধ্যতামূলক কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ হাতে আসার পর বিগত দিনের যাকাত দিতে হবে না বরং ঐ অর্থ নিসাব পরিমাণ হলে এখন থেকে যাকাত বছর হিসাব করা হবে।
* সুদ, ঘুষ বা এজাতীয় অন্যান্য হারাম মাল সম্পূর্ণটাই মালিকের কাছে/তার মৃত্যুর পর উত্তরাধীকারিদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। আর মালিকের সন্ধান না পেলে সদকা করে দিতে হয়। তাই এর উপর যাকাতের প্রশ্নই আসে না।

ঋণগ্রস্থের যাকাত

* সম্পদের মালিক ঋণগ্রস্থ হলে প্রথমে সম্পদের মূল্য থেকে ঋণ পরিমাণ টাকা বাদ হবে। এরপর যদি অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে যাকাত আসবে। অবশ্য ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য যে ঋণ করা হয় সে ক্ষেত্রে এই হুকুম প্রযোজ্য। কিন্তু বড় বড় ইন্ডাষ্ট্রি এবং কলকারখানার জন্য যে ঋণ করা হয়, তার মধ্যে একটু ব্যাখ্যা আছে। আর তা এই যে, যদি এর দ্বারা যাকাতের অযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয় তাহলে সে ঋন বিয়োগ হবে না। আর যদি তা দ্বারা যাকাতযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয়, তবে সে ঋণ বাদ দেয়া হবে।
* কিস্তিতে কিছু ক্রয় করা হলে, বা কিস্তি করা ঋণ থাকলে, এ বৎসর যে পরিমাণ কিস্তি আদায় করতে হবে তৎপরিমাণ টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদের যাকাত দিতে হবে ।
* স্ত্রীর মহরানা ঋণ বাবদ কর্তন করা হবেনা।

ফিতরা

ঈদের দিন ফিতরা ফরয হওয়ার পরিমাণ সম্পদ যার কাছে থাকে তার উপরে ফিতরা ওয়াজিব হয়। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের আগে জন্ম নেওয়া সহ সকল সন্তানাদির পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হয়। শুধু পৌনে দুই কেজি আটার দামে ফিতরা দিতে হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং সামর্থ অনুযায়ী বেশি ধনীকে বেশ দামী জিনিষের হিসাবে ফিতরা দিতে হবে। যেমন সাড়ে তিন কেজি খেজুর, কিসমিস ও যব ইত্যাদির মূল্য।
আল্লাহপাক আমাদেরকে সকল প্রকার গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে ও পরিপূর্ণভাবে হক আদায় করে রোযা রাখার তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে শবে ক্বদর নসীব করুন। আমিন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রমাযান মাসের জরুরী মাসাইল

Update Time : ১১:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মুফতি শামসুল ইসলাম

ফাযায়েলে রমাযান
আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রমাযানের রোযাকে ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেযগার) হতে পার।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের উদ্দেশ্যে রোযা রাখে আল্লাহপাক তাঁর পিছনের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো এরশাদ করেন, যখন রমযান আসে, বেহেশতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়, দোযখের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অবাধ্য শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়।
হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- প্রত্যেক নেক কাজের সাওয়াব দশগুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত আমলনামায় লেখা হয়। কিন্তু রোযা বিশেষভাবে আমারই জন্য, এবং আমি নিজেই তার বদলা দান করবো। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক জিনিসেরই দরজা আছে, আর ইবাদতের দরজা হলো রোযা। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শরীয়তসম্মত ওযর ব্যতিত রমাযানের একটি রোযা ছেড়ে দিল সে যদি সারা জীবনও রোযা রাখে ঐ একটি রোযার ক্ষতিপুরণ হবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে সে ব্যক্তি রোযাদারের সমতুল্য সওয়াব পাবে। আর এতে রোযাদার ব্যক্তির সওয়াব কম হবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, রমাযানের প্রথম অংশ রহমাতের, দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাতের এবং শেষ অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তির জন্য।

রামাযান মাসের করণীয় আমলসমূহ

* অধিক পরিমাণে কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করা। দোকানে/অফিসে মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ যিকির করতে থাকা।
* অধিক পরিমাণে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া।
* আল্লাহপাকের নিকট বেহেশত পাওয়ার জন্য দো’আ করা।
* আল্লাহপাকের নিকট দোযখ থেকে মুক্তির জন্য দো’আ করা।
* যত অধিক সম্ভব কুরআন শরীফ তিলাওত করা। ভালভাবে তিলাওত না জানলে তিলাওত শেখার চেষ্টা করা।
ইমাম আবু হানিফা রাহ. পবিত্র রমযান মাসে প্রত্যহ দিনে এক খতম রাতে এক খতম এবং তারাবীর নামজের মাধ্যমে ৩০ দিনে এক খতম। এভাবে পবিত্র রমযান মাসে ৬১ খতম কোরআন পড়তেন। তাই আমাদেরকে বেশি কোরআন খতম করার চেষ্টা করা উচিত। নিজের সন্তানাদিকে নিকটস্থ ক্বারীয়ানা সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

* বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা। তাকবীরে উলার সাথে জামাআতের নামায আদায়ের ব্যাপারে খুব বেশী যত্নশীল হওয়া। তারাবীহের জন্য এশার জামাতের পূর্বেই উপস্থিত থাকা।
* এ’তেকাফের নিয়তে অবসর সময়ে মসজিদে অবস্থান করা। সাধ্যানুযায়ী দান খয়রাত করা। খুব বেশী দো’আ করা, কেননা এই মাসে রোজাদার এর দো’আ ব্যর্থ যায়না। নিজের ঈমান আমলের দৃঢ়তা এবং উম্মতের ইসলাহ এবং দেশ ও জাতীর জন্য দো’আ করা।

বর্জনীয় বিষয়

* অহেতুক কথা থেকে যত্নের সাথে বিরত থাকবে, কঠিন প্রয়োজন ব্যতিত দুনিয়াবী কথা বলবে না। সর্বপ্রকার গোনাহ বিশেষতঃ সিনেমা দেখা, কু-দৃষ্টি, গীবত, জুয়া, তাশ ও লটারী থেকে বিরত থাকা। হাত ও কথা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেওয়া। টেলিভিশন দেখা, রেডিওতে গান-বাজনা শোনা, মোবাইল ফোনের রিংটোনের গান বাজনা শোনা, বেপর্দা চলা। গালী-গালাজ ও ঝগড়া-বিবাদ করা। দাড়ি মুন্ডানো বা একমুঠের চেয়ে ছোট করে দাড়ি কাঁটা। উপরোক্ত গোনাহসমূহ হতে খুবই গুরুত্ব ও যত্নের সাথে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যথায় এরূপ রোযায় ফায়দা ও পুরস্কার অর্জিত হবে না।
* হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রোযা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরূপ, যতক্ষন না ভেঙ্গে ফেলা হয়, ঢাল ভেঙ্গে ফেলার অর্থ হলো, গোনাহে লিপ্ত হওয়া।
* হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে, রমাযান মাস পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারলো না।

সাহরী

সাহরী খাওয়া সুন্নাত। নবীজী সা. বলেন ইহুদী নাসারা এবং আমাদের মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী। আমরা সাহরি খাই আর তারা খায় না। নবীজী আরো বলেন তোমরা সাহরী খাও কেননা এতে বরকত রয়েছে। সাহরী খেয়ে রোজাদার মনে-মনে এ নিয়ত করবে যে, আমি আগামীকাল রোযা রাখবো অথবা দুপুরের মধ্যে এরুপ নিয়ত করবে যে, আমি আজ রোযা রাখলাম। মুখে নিয়ত করা জরুরী নয়।

ইফতার

খেজুর বা শরবত দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত। ইফতার সামনে নিয়ে নাড়া-চাড়া করত: এই দোয়া করবেন “ইয়া ওয়াসিয়াল ফাজলি ইগফিরলী” অর্থাৎ হে অসীম দয়ালু আমাকে ক্ষমা কর। ইফতারের সময় এই দোয়া পড়বেন “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু” হে আল্লাহ তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার রিজিক দিয়েই ইফতার করেছি।

তারাবীহ

* সম্পূর্ণ রমাযান মাসে প্রত্যেক রাতে এশার ফরয ও সুন্নাতের পর বিশ রাকাত করে তারাবীহ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
* তারাবীহর নামাযের মধ্যে পুরা কুরআন শরীফ খতম করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
* খতমে তারাবীতে তেলাওয়াত এমন ধীরে পড়া উচিত যাতে মুসল্লীগণ কুরআনের আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে শুনতে পায়। অন্যথায় তাড়াহুড়া করে খতমে তারাবী পড়ার চেয়ে ছূরা তারাবী পড়া উত্তম। তেমনি চার রাকাত পড়ার পর ঐ পরিমাণ সময় অথবা একটু কম বিশ্রাম নিয়ে আরো চার রাকাত পড়তে হবে। এ নামাজ বিশ্রাম নিয়ে পড়া হয় বলেই তার নাম তারাবীহ। (তারাবীহ অর্থ বিশ্রাম)

এ’তেকাফের ফজীলত, গুরুত্ব ও দায়িত্ব

* হাদিস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি রমাযান মাসের (শেষ) দশ দিন এতেকাফ করবে, তার জন্য দুটি হজ্ব এবং দুইটি ওমরার সমতুল্য সওয়াব হবে।
* যে ব্যক্তি খালেছ নিয়তে এবং ঈমানের সাথে সওয়াবের উদ্দেশ্যে এতেকাফ করবে তার পূর্ববর্তী (সমস্ত সগীরা) গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
* ২০ শে রমাযান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ২৯/৩০ রামাযান অর্থাৎ ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরুষদের জন্য মসজিদে এবং মহিলাদের জন্য নিজ গৃহে নামাজের নির্ধারিত স্থানে পাবন্দির সাথে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এই এতেকাফ সুন্নাতে মু’আক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ মহল্লার একজন হলেও এই এতেকাফ অবশ্যই করতে হবে। কাউকে পারিশ্রমিক দিয়ে এ’তেকাফে বসানো জায়েয নয়।
* পুরুষের ন্যায় মহিলাও ঘরে ইতিকাফ করে ইতিকাফের ফযীলত অর্জন করতে পারবে। তবে তার ইতিকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি শর্ত। পাশাপাশি ইতিকাফ অবস্থায় মাসিক ঋতুস্রাব এবং প্রসব পরবর্তী স্রাব থেকে পবিত্র হতে হবে। সে ঘরের যে জায়গায় নামায এবং অন্যান্য ইবাদত করা হয় সেখানেই ইতিকাফ করবে। কোন জায়গা নির্ধারিত না হলে, ইতিকাফের জন্য নির্ধারণ করে নিবে।
* মহিলার ক্ষেত্রে ইতিকাফের জন্য ঘরের নির্ধারিত জায়গা মসজিদের মত। পুরুষ যে সব প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হতে পারে, মহিলাও এমন প্রয়োজনে ইতিকাফের জায়গা ত্যাগ করতে পারবে। এ ছাড়া অন্য কোন কারনে বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
* মহিলার মাসিক স্রাব এবং প্রসব পরবর্তি স্রাব আসার কারণে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়।

যে কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে।

* এমন রোগে আক্রান্ত হওয়া যে কারণে রোযা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যায় বা যে কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা হয় কিংবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশংকা হয় । অবশ্য রোযা ছাড়তে হলে এ বিষয়গুলো অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শক্রমে অথবা নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রমাণিত হতে হবে। অন্যথায় শুধু ধারণাবশত রোযা ছাড়া যাবে না। তবে ছেড়ে দেয়া রোযা পরে অবশ্যই কাযা করতে হবে।
* গর্ভবতী ও দুগ্ধদায়িনী মহিলা (নিজের সন্তানকে হোক বা অন্যের সন্তানকে) রোযা রাখার কারণে যদি নিজের জীবন বা সন্তানের জীবনের ব্যাপারে আশংকা বোধ করে বা রোযা রাখলে দুধ শুকিয়ে যাওয়ার ভয় করে আর এতে সন্তানের কষ্ট হওয়ার প্রবল ধারণা করে। তবে পরে তার রোযা কাযা করতে হবে।
* মুসাফির (যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল [৭৭.২৪৮ কি.মি.] দূর সফরের নিয়তে ঘর থেকে বের হয়ছে) সফরে থাকা অবস্থায়। এক্ষেত্রে কষ্ট না হলে রোযা রাখাই উত্তম। আর কষ্ট হলে রোযা না রাখা উত্তম। তবে রোযা না রাখলে পরে কাযা করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, রোযা রেখে সফর শুরু করলে ঐ রোযা পূর্ণ করা আবশ্যক। আর রোযা না রাখা অবস্থায় সফর থেকে বাড়ি ফিরলে, দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরী। যদি কেউ পানাহার না করে সফর থেকে এমন সময় বাড়ি ফিরে যখন রোযার নিয়ত করা সহীহ হয়, তবে তার জন্য রোযার নিয়ত করা আবশ্যক।

যে কারণে রোযা রাখার পর ভাঙ্গা যায়

* কাজেন চাপ বা অন্য কারণে এমন পিপাসা বা ক্ষুধার শিকার হওয়া যাতে প্রাণনাশের আশংকা হয়। (উল্লেখ্য যে ব্যক্তি অন্যকে দিয়ে কাজ করাতে পারে বা তুলনামূলক সহজ পন্থায় কাজের ব্যবস্থা করতে পারে তা সত্বেও সে যদি এমন কাজ করে যে কারণে ক্ষুধা বা পিপাসায় রোযা ছাড়তে বাধ্য হয়, তবে সে গুনাহগার হবে।)
* এমন রোগ দেখা দেয়া যাতে তাৎক্ষণিক ঔষধ না খেলে প্রাণনাশের আশংকা হয়।
* যে অবস্থায় গর্ভবতী বা দুগ্ধদায়িনীর রোযা না ভাঙ্গলে তার বা সন্তানের প্রাণনাশের আশংকা হয়।
* কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তি প্রাণহানি বা অঙ্গহানির ভয় দেখিয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য করলে।

যে কারণে রোযার কোন সমস্যা হয় না

কিছু বিষয় এমন আছে, যেগুলোর কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না, মাকরূহও হয় না। অথচ অনেক মানুষ রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পরে আবার ইচ্ছা করে পানাহার করে। ফলে বাস্তবেই রোযা ভেঙ্গে যায়। নিম্নে এগুলো তুলে ধরা হলো-
* রোযার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করা কিংবা সহবাস করা।
* কাঁচা বা শুকনা যে কোন ধরণের মিসওয়াক ব্যবহার করা।
* চোখে বা কানে কোন ঔষধ ব্যবহার করা কিংবা পানি ঢুকে যাওয়া।
* ফুল কিংবা আতর ইত্যাদির ঘ্রাণ নেয়া।
* গরমের কারণে কিংবা পিপাসার কারণে গোসল করা বা ভিজা কাপড় দিয়ে গা মুছা।
* অনিচ্ছাকৃত গলায় ধোয়া, ধুলাবালি বা মাছি মশা প্রবেশ করা।
* স্বপ্নদোষ হওয়া কিংবা কামোত্তেজনার সাথে কারো দিকে শুধু তাকানোর দ্বারা বীর্যপাত হয়ে যাওয়া।
* মুখে থুথু আসার পর তা গিলে ফেলা।
* সাপ ইত্যাদির দংশনের শিকার হওয়া।
* পান খাওয়ার পর ভালভাবে কুলি করা স্বত্বেও থুথুর সাথে লালচে ভাব থেকে যাওয়া।
* ফরয-গোসল না করা অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়া।
* নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, যদি পেটে না যায়। তদ্রুপ শরীরের অন্য কোন স্থান থেকে রক্ত বের হলে।
* পাইরিয়া রোগের কারণে যে সামান্য রক্ত পুজ সর্বদা বের হতে থাকে, তা মুখের ভিতরে চলে যাওয়া।
* রোযা অবস্থায় প্রয়োজনে কাউকে রক্ত দেয়া। তবে রোযা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে-এমন দুর্বল হওয়ার আশংকা হলে, রক্ত দেয়া মাকরূহ।

যে কারণে রোযা মাকরূহ হয়

* বিনা প্রয়োজনে কোন বস্তু মুখে চিবানো বা লবণ ইত্যাদি চেখে দেখা। তবে ছোট বাচ্চার প্রয়োজনে কোন কিছু চিবানো বা স্বামী কিংবা মালিক বদ মেজাজী হলে, তরকারী চেকে দেখার অবকাশ আছে। তবে উভয় ক্ষেত্রে থুথু ফেলে দিতে হবে।
* টুথপেষ্ট, মাজন বা কয়লা ইত্যাদি ব্যবহার করা।
* গোসল ফরয অবস্থায় গোসল না করে পুরা দিন অতিবাহিত করা।
* এ পরিমাণ রক্ত দেয়া যাতে শরীর দূর্বল হয়ে যায়।
* গীবত, চোগলখুরী, ঝগড়া-বিবাদ কিংবা গালিগালাজ করা।
* নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না রাখার আশংকা সত্বেও স্ত্রীকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করা।
* ছোলা বুট থেকে ছোট কোন জিনিস দাঁতে আঁটকে গেলে তা বের না করে গিলে ফেলা।

যে কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হয়-

* নাকে তেল বা ঔষধ দিলে।
* ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে বা বমি আসার পর তা গিলে ফেললে।
* কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময় অসতর্কতার কারণে পানি ভিতরে চলে গেলে।
* নারীকে স্পর্শ করার কারণে বীর্যপাত হলে।
* হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে।
* কাঠ, লোহা, পাথর বা এ জাতীয় কোন অখাদ্য বস্তু খেয়ে ফেললে।
* আগরবাতি, ধুপ বা বিড়ি সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছা করে নাকে বা কণ্ঠ নালীতে পৌঁছালে।
* ভুলে পানাহার করার পর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পরে ইচ্ছা করে পানাহার করলে।
* সময় আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার বা সহবাস করলে বা ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের পূর্বেই ইফতার করে নিলে।
* পান মুখে রেখে ঘুমিয়ে গেলে আর এমতাবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে।
* নিয়ত একেবারেই না করলে বা এমন সময় করলে যে সময় নিয়ত গ্রহণযোগ্য হয় না।
* ছোলা-বুট পরিমাণ বা ততোধিক পরিমান কোন খাদ্যের টুকরা দাঁতে আটকে থাকলে এবং সুবহে সাদিকের পর তা মুখ থেকে বের না করে গিলে ফেললে। অবশ্য এর চেয়ে ছোট হলে রোযা ভাঙবে না। তবে কাজটা মাকরূহ হবে। হ্যাঁ, মুখ থেকে বের করার পর গিললে তা যতই ছোট হোক না কেন রোযা ভেঙ্গে যাবে।
* দাঁত বা মুখের ভিতর থেকে রক্ত বের হলে যদি তা পরিমাণে থুথু বরাবর বা বেশি হয় এবং গলার ভিতর চলে যায়।
* ভিজা আঙ্গুল পায়ূপথের ভিতরে প্রবেশ করালে।
* এক দেশে রোযা শুরু করে ভিন্ন দেশে চলে গেলে যদি দেখা যায় সেখানে আগে ঈদ হয়ে গেছে, তাহলে আগের দেশের হিসেবে যে কয়টা রোযা বাদ গেছে তা কাযা করতে হবে। পক্ষান্তরে ভিন্ন দেশে যাওয়ার পর সেখানে এক দুইটা রোযা বেড়ে গেলে তা রাখতে হবে।

যে কারণে রোযার কাযা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হয়
* রোযা রেখে ইচ্ছা করে পানাহার করলে।
* রোযা অবস্থায় ইচ্ছা করে সহবাস করলে। এমনকি যোনির মধ্যে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করালেও। ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে নারী-পুরুষ উভয়েরই কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে।
* ইচ্ছাকৃত প্রিয়জনের থুথু বা লালা চুষে গিলে নিলে।
* হুক্কা বা বিড়ি-সিগারেট পানে অভ্যস্ত লোক তা পান করলে।

রোযা কাযা করার পদ্ধতি

* কোন কারণে রোযা ছুটে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে অনতিবিলম্বে তা কাযা করে নেয়া উচিত। কারণ জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই।
* কাযা রোযা ধারাবাহিকভাবে রাখা আবশ্যক নয়।
* কয়েক রমযানের কাযা রোযা একত্রিত হয়ে গেলে সেগুলো রাখার সময় কোন্ রমযানের রোযা রাখতেছে নিয়তের সময় তা নির্ধারণ করা লাগবে।

কাফফারার বিবরণ

* একটি রোযার কাফফারা হলো, একটি দাস মুক্ত করা। দাস প্রথা না থাকার কারণে কিংবা অর্থ না থাকার কারণে তা অসম্ভব হলে, একাধারে ৬০ টি রোযা রাখতে হবে। মাঝে কোন বিরতি দেয়া যাবে না । যে কোন কারণে মাঝে একটি ছুটে গেলে পূণরায় শুরু থেকে ৬০ টি রোযা রাখতে হবে। অবশ্য মহিলাদের মাসিক ঋতু¯্রাবের কারণে ধারাবাহিকতায় সমস্যা হবে না। শর্ত হলো, রক্ত বন্ধ হওয়ার পর থেকে কালবিলম্ব না করে আবার রোযা রাখা আরম্ভ করে দিতে হবে।
* কাফফারার রোযা আরম্ভ করার আগে দেখে নিতে হবে যাতে মাঝে রোযা নিষিদ্ধ এমন কোন দিন (যেমন ঈদের দিন) না আসে। কারণ এতে ধারাবাহিকতা ছুটে যাবে।
* কোন কারনে ধারাবাহিকভাবে ৬০ টি রোযা রাখতে অক্ষম হলে, যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ৬০ জন দরিদ্র লোককে পেট ভরে দু বেলা খানা খাওয়াবে। এ ৬০ জন দরিদ্র প্রাপ্ত বয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়সে উপনীত হওয়ার কাছাকাছি হতে হবে। একবেলা যাদেরকে খাওয়ানো হবে অপর বেলায় তাদেরকেই খাওয়াতে হবে। একেবারে ছোট বাচ্চাকে খাওয়ালে তা যথেষ্ট হবে না।
* অনুরূপভাবে যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ৬০ জন দরিদ্র লোকের প্রত্যেককে এক সাদাকায়ে ফিতর পরিমাণ সম্পদ দান করলেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।
* কাফফারার ক্ষেত্রে একজনকে একদিনে একাধিক সাদাকাতুল ফিতর সমপরিমাণ সম্পদ দিলে তা এক সাদাকাতুল ফিতর ধরা হবে। তাই আরো ৫৯ টি সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।
* গ্রহণযোগ্য কারন ব্যতিত একই রমযানের একাধিক রোযা ভেঙ্গে দিলে কাফফারা একটাই আদায় করতে হবে। অবশ্য একাধিক রমযানের রোযা হলে, কাফফারা একাধিক আদায় করতে হবে।

ফিদিয়ার বিধান

* অতি বৃদ্ধ/বৃদ্ধা রোযা রাখতে পরিপূর্ণ অক্ষম বা রোযা রাখতে অসাধ্যকর কষ্ট হলে অথবা রোযার কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা হলে পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোযা রাখার শক্তি পাবে না বলে মনে হলে, প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক সাদাকায়ে ফিতর পরিমাণ সম্পদ গরীবদের দান করতে হবে বা কোন গরীবকে পেট ভরে দু বেলা খানা খাওয়াতে হবে। আর এটাকেই ফিদিয়া বলা হয়।
* মুসাফির সফর থেকে ফিরে কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ছুটে যাওয়া রোযা কাযা করার মত সময় পাওয়ার পরও যদি তা কাযা না করে আর এ অবস্থায় ইন্তিকাল করে এবং ইন্তিকালের পূর্বে ফিদিয়া দেয়ার অসিয়ত করে যায়, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশ দ্বারা ফিদিয়া আদায় করা উত্তরাধিকারীর উপর আবশ্যক। অসিয়ত না করে থাকলে প্রাপ্ত বয়স্ক উত্তরাধিকারীগণ নিজ অংশ থেকে ইচ্ছে করলে ফিদিয়া দিতে পারবে। তবে রোযা রাখার সুযোগ না পেয়ে মারা গেল ফিদিয়া দিতে হবে না।
* কারো পক্ষ থেকে ফিদিয়া দেয়ার পর যদি সে রোযা রাখতে সক্ষম হয়ে যায়, তবে তাকে ফিদিয়া দেয়া রোযার কাযা করতে হবে।
* কারো যদি ফিদিয়া আদায়ের সামর্থ না থাকে, তবে সে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করবে এবং অন্তর দিয়ে আশা রাখবে, যদি সামর্থবান হয় তাহলে ফিদিয়া আদায় করে দিবে।
(হিদায়া, আদদুররুল মুখতার, ফাতাওয়ায়ে শামী, আলফিক্বহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআ, বাদায়িউস সানায়ে, বাহরুর রায়িক, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাক্বী, আহকামুল আতফাল, মাসাইলে রোযা, জাওয়াহিরুল ফিক্বহ, আহকামে যিন্দেগী ইত্যাদি কিতাব থেকে সংগৃহিত)

যে চিকিৎসায় রোযা ভঙ্গ হয় না

* মস্তিষ্ক অপারেশন করা।
* কানে ড্রপ, ঔষধ, তেল বা পানি ইত্যাদি ব্যবহার করা। কারণ কান থেকে গলা পর্যন্ত কোন কিছু যাওয়ার পথ নেই। আগের যুগে পথ আছে বলে ধারণা করা হত, তাই তখনকার উলামায়ে কিরাম রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বলেছেন।
* যে কোন ধরণের ইনজেকশন বা স্যালাইন পুশ করা। অবশ্য রোযার কষ্ট লাগব করার জন্য ইনজেকশন বা স্যালাইন পুশ করা মাকরূহ।
* চোখে ঔষধ, সুরমা ও মলম ইত্যাদি ব্যবহার করা। যদিও গলায় ঔষধের ¯^াদ অনুভূত হয় তথাপি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, তাতে রোযা ভঙ্গ হবে না।
* নাকে বা মুখে অক্সিজেন নেয়া।
* এন্ডোসকপি করা। এতে চিকন একটি পাইপ মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। পাইপের মাথায় বাল্ব জাতীয় বস্তু থাকে। আর বাইরের প্রান্তে মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত এন্ডোসকপিতে নল বা বাল্বের সাথে কোন ঔষধ বা পানি ইত্যাদি কোন কিছু লাগানো হয় না। কিন্তু কোন মেডিসিন লাগানো হলে বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি ছিটানো হলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
* শরীরে রক্ত দেয়া বা শরীর থেকে রক্ত নেয়া।
* এনজিওগ্রাম করা। হার্টের রক্তনালী ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়ার দিকে কেটে বিশেষ একটি ধমনীর ভিতর দিয়ে (যা হার্ট পর্যন্ত পৌছে) ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করাকে এনজিওগ্রাম বলে।
* ইনসুলিন নেয়া।
* পুরুষাঙ্গের ভিতরে বা যোনিদ্বারে কোন ঔষধ ব্যবহার করা।
* সিষ্টোসকপি করা অর্থাৎ পেশাবের রাস্তায় ক্যাথেটার লাগানো।
* কপার-টি করা। অর্থাৎ জন্ম নিয়ন্ত্রণের লক্ষে যোনিদ্বারে এক ধরণের প্লাষ্টিক ফিট করা। অবশ্য কপার-টি লাগিয়ে সহবাস করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।
* ল্যাপারোস্কোপি-বায়োপসি করা হলে। মূলত এতে পেট ছিদ্র করে সিক জাতীয় একটি মেশিন ঢুকিয়ে পেটের ভিতরের কোন অংশ, গোশত ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য বের করে আনা হয়। উল্লেখ্য যে সিকের মধ্যে কোন ঔষধ লাগানো থাকলে আর তা গলা থেকে মলদ্বার পর্যন্ত নাড়িভুড়ির যে কোন জায়গায় পৌঁছলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
* সিরোদকার অপারেশন করা। অর্থাৎ অকাল গর্ভপাত রোধে জরায়ুর মুখের চতুর্দিক সেলাই করা।

যে চিকিৎসায় রোযা ভেঙ্গে যায়

* নাকে ড্রপ ব্যবহার করা।
* যে কোন ধরণের ঔষধ মুখ দিয়ে গিলে ফেলা।
* সালবুটামল, ইনহেলার ব্যবহার করা। শ্বাস কষ্ট দূর করার জন্য ঔষুধটি মুখের ভিতরে স্প্রে করা হয়। যা নিচের দিকে প্রবেশ করে। হ্যাঁ, যদি মুখে ইনহেলার স্প্রে করার পর না গিলে থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া হয় তবে রোযা ভঙ্গ হবে না। কোন কোন চিকিৎসক বলেন সাহরীতে ইনহেলার নেয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত ইনহেলার নেয়ার প্রয়োজন হয় না। অবশ্য যদি কারো শ্বাসকষ্ট এমন মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, ইনহেলার ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না, তবে সে ইনহেলার ব্যবহার করবে এবং পরবর্তীতে ঐ রোযা কাযা করে নিবে। পরে কাযা সম্ভব না হলে ফিদিয়া দিবে।
* নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করা। এটা এ্যারোসল জাতীয় একটা ঔষধ যা হার্টের রোগীদের জিহবার নিচে দুই/এক ফোটা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। যার কিছু অংশ গলায় চলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য কেউ যদি ঔষধটি ব্যবহারের পর না গিলে থুথু দিয়ে ফেলে দেয় তাহলে তার রোযা ভঙ্গ হবে না।
* এম.আর করা অর্থাৎ গর্ভধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে বিশেষ এক ধরণের সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে জীবিত কিংবা মৃত ভ্রæন বের করে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে ঋতু¯্রাব বন্ধ থাকার পর তা চালু হয়ে যায়।
* ডি এন্ড সি করা অর্থাৎ গর্ভ ধারণের আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে জীবিত বা মৃত বাচ্চা বের করে নিয়ে আসা।
* সাপজিটরি-ভোল্টালিন ব্যবহার করা, এটা মলদ্বারে ব্যবহারের একটি ঔষধ।
* ডুশ নেয়া। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা থেকে বিন্যস্ত ও সংক্ষেপকৃত)

সতর্কবাণী

হিম্মত করলে কঠিন কাজও আল্লাহপাকের দয়ায় খুবই সহজ হয়ে যায়। এক ব্যক্তি দিনে প্রায় বিশটি সিগারেট পান করত, তাকে যখন বলা হলো- যে মুখ দিয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয় আল্লাহপাকের যিকির করা হয় সেই মুখকে যদি সিগারেটের দ্বারা দূর্গন্ধযুক্ত করা হয় তাহলে সেটা কি ধরণের অসংগত ও অনুচিত বিষয় হবে? একথা শুনে তৎ¶ণাৎ এই ব্যক্তি হিম্মত করে দৃঢ়পণ করলো, এখন থেকে সে আর সিগারেট পান করবে না, অথচ তার সিগারেট পান করার অভ্যাস ত্রিশ বছরের অধিক।
এ মাসে দাড়ি রাখার হিম্মত করুন, শরীয়ত সম্মত দাড়ি রাখার পর নিজের চেহারা আয়না দিয়ে দেখুন। নিজেই দেখতে পাবেন, চেহারা কেমন নূরানী হয়েছে। দাড়ি মুণ্ডানো বা এক মুঠোর চেয়ে ছোট করে ছাটা, এটা এমন গোনাহ যা সব সময় সাথে লেগে থাকে। অন্যান্য গোনাহ যেমন- চুরি, ডাকাতি, যিনা ইত্যাদি যে সময় করা হয় সে সময়ের পর গোনাহগারের চেহারায় তা লেগে থাকে না, কিন্তু দাড়ি মুণ্ডালে বা এক মুঠের চেয়ে ছোট করে কাটলে নামায, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদতরত অবস্থায়ও ইবাদতকারী অপরাধীর চেহারা ধারণ করার কারণে আল্লাহপাকের খাস রহমত থেকে বঞ্চিত তাকে।
শরয়ী পর্দার অর্থ হলো, (অনাত্মীয় পুরুষ থেকে তো পর্দা করবেই) গায়রে মাহরাম আত্মীয় থেকেও শরীয়তের হুকুম মতো পর্দা করবে। এখানে এমন সকল গায়রে মাহরাম আত্মীয়ের কথা বলা হচ্ছে যাদেরকে লোকেরা গায়রে মাহরামই মনে করে না। পুরুষের জন্য যে সকল আত্মীয়া মহিলার সাথে পর্দা করতে হবে তাঁরা হচ্ছেন- ভাবী, ভ্রাতৃবধু, শ্যালিকা, খালাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন, চাচাতো বোন, মামী, চাচী গং। মহিলাদের জন্য যে সকল পুরুষ আত্মীয়ের সাথে পর্দা করতে হবে তাঁরা হলেন- দুলাভাই, দেবর, ভাসুর, খালাতো ভাই, মামাতো ভাই, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, খালু, ফুফা গং।
কু-দৃষ্টি থেকেও খুবই যতেœর সাথে বেঁচে থাকতে হবে। এটা শয়তানের মারাত্মক ধরণের বিষাক্ত তীর। কু-দৃষ্টির কারণে ইবাদাতের নূর খতম হয়ে যায়। অন্তরে এমন মারাত্মক অন্ধকার সৃষ্টি হয় যা কোন-কোন সময় ইস্তিগফার করলেও দূর হয় না। কু-দৃষ্টি থেকে দূরে থাকার সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যত¶ণ পর্যন্ত তা থেকে কেউ বিরত না থাকবে তত¶ণ পর্যন্ত তাঁর অন্তর থেকে কু-দৃষ্টির অন্ধকার দূর হবে না।

যবানের হিফাজত করুন

যবানের দ্বারা বিশটি গুনাহ সংঘটিত হয়- তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো মিথ্যা ও গীবত। উভয়টি গুনাহে কবীরা। মিথ্যাকে সকল গুনাহের ‘মা’ বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে আছে, মানুষ যখন মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহর দফতরে তার নাম লেখা হয় ‘মিথ্যাবাদী’। মিথ্যাবাদী সত্য কথা বললেও কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।
গীবত (পরনিন্দা) থেকে খুবই সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকতে হবে। গীবতের কারণে অধিকাংশ রোযাদারের রোযা নষ্ট হয়ে যায়। হাদিস শরীফে আছে, গীবত করা যিনা, ব্যভিচার থেকেও খারাপ কাজ। কাজেই রোযা অবস্থায় এহেন মারাত্মক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।

যাকাত

রোযার মত যাকাতও ফরজ। নিজ সম্পদ হিসাব করে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপার সমান হয়ে থাকে (প্রায় ৭০ হাজার টাকা) তাহলে শতকরা আড়াই টাকা যাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে। যাকাতের দ্বারা বাকী মাল পবিত্র হয়। যাকাত না দিলে ঐ মাল বিষধর সাপ হয়ে দংশন করতে থাকে। এবং বলতে থাকে আমি তোমার সঞ্চিত মাল যার যাকাত তোমি দেওনাই। আমি এভাবে তোমাকে দংশন করতে থাকব। তাই সোনা রোপা, নগদ টাকা, ব্যংকের টাকা, ব্যবসায়ী সম্পদ এবং শেয়ার ব্যবসা ইত্যাদি হিসাব করে যাকাত আদায় করুন। মহিলাদের ব্যবহারী সোনা ও মহরের টাকার ও যাকাত দিতে হয়। ¯^ামী দিয়ে দিলে ও আদায় হয়ে যাবে। রমজান মাসে যাকাত আদায় করলে অতিরিক্ত ৭০গুন সওয়াব পাওয়া যায় যা অন্য মাসে আদায় করলে পাওয়া যায়না। যাকাত যাকে দিবেন তাকে এমন ভাবে দেওয়া ভাল যাদিয়ে সে কোন ব্যবসা ইত্যাদি করতে পারে এবং পরবর্তী বছর সেও যাকাত দাতা হয়ে যায়। ( যেমন পানের দোকান, রিক্সা ও ভ্যান ইত্যাদি) কাপড় দিয়ে/ভি¶ার মত অল্প অল্প করে টাকা দিয়ে সমাজ থেকে গরীবি দূর করা যাবে না এবং যাকাতের উদ্যেশ্য ও হাসিল হবে না। কোন গরীব রোগীর সম্পূর্ণ ঔষদ খরিদ করে দেওয়া, কোন ছাত্রের লেখা পড়া চালিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে কোন মাদরাসার ছাত্রের খরছ বহন করা ও মাদরাসার গরীব/এতিম ফান্ডে দেওয়ায় দ্বিগুন সওয়াব পাওয়া যায়। (১) যাকাতের সওয়াব (২) দ্বীনী ইলিম জারি রাখার সওয়াব। তাই যাকাত, ফিৎরা ও কাফফারা ইত্যাদি মাদরাসায় দেওয়া বেশী সওয়াবের কাজ। আমাদের ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মাদরাসা টিলাগড় সিলেট এর গরিব ও এতিম ফান্ডে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইল।

যাকাত কার উপর ফরয এবং কোন জিনিষে ফরয

* প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ-মস্তিষ্ক সম্পন্ন কোন মুসলমানের মালিকানায় যাকাত যোগ্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার উপর যাকাত ফরয। অর্থাৎ সরাসরি ঐ সম্পদের ৪০ভাগের একভাগ (শতকরা ২.৫%) বা তার মূল্য যাকাতের উপযুক্ত লোকদেরকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। তবে এর জন্য শর্তহচ্ছে ঐ সম্পদ নগদ পরিশোধযোগ্য ঋণ ও মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত হওয়া এবং তার মালিকানায় পূর্ণ এক চন্দ্রবছর অতিবাহিত হওয়া ।
* ব্যবসায়ীক পণ্য ছাড়া ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড়, ফার্নিচার ইত্যাদিতে যাকাত আসে না। তদ্রুপ নিজে থাকা বা ভাড়ার জন্য বানানো বাসা-বাড়ি বা মার্কেট, ভাড়ায় দেয়া গাড়ি, বাড়ি বা অন্য জিনিষ, কারখানায় ব্যবহারের যন্ত্রপাতি এবং পেশাজীবির পেশা চালানোর যন্ত্রপাতি (যেমন কম্পোজম্যানের কম্পিউটার, ইলেকট্রিশিয়ানের ড্রিল মেশিন) ইত্যাদিতে যাকাত আসে না। তবে ব্যবসার নিয়তে কিনলে যাকাতের হিসাবে আসবে।
* ¯^র্ণ-রূপা কাঁচা হোক বা অলংকার আকারে হোক, ব্যবহার হোক আর নাই হোক, নিসাব পরিমাণ হলেই-যাকাত দিতে হবে।
* ভবিষ্যতে হজ্জ, বিবাহ, গৃহ নির্মাণ বা ব্যবসার জন্য জমাকৃত টাকা সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয়ের আগে বছর পূর্ণ হলে যাকাত আসবে ।
* ¯^র্ণ-রূপা খাদ (তথা রাং, দস্তা, তামা ইত্যাদি) যুক্ত হলে বেশি অংশের ভিত্তিতে ফয়সালা হবে। ¯^র্ণ বা রূপার অংশ বেশি হলে পুরোটাকে ¯^র্ণ বা রূপা ধরে যাকাত দিতে হবে। যদি খাদ অধিক হয় তাহলে পুরাটা খাদ গণ্য হবে। তখন এর যাকাত দিতে হবে না। তবে ব্যবসার নিয়তে কিনলে তাতেও যাকাত আসবে।
* ব্যবসার সম্পদ দ্বারা এমন বস্তু উদ্দেশ্য যা বিক্রির লক্ষে কেনা হয়েছে এবং পরবর্তিতে ভিন্ন কোন নিয়ত করা হয় নি। সুতরাং বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয় করা প্লট, ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাড়ি বা অন্য কোন আসবাবপত্র নিসাব পরিমাণ হলে সেগুলোতে যাকাত আসবে। বাজারমূল্য ধরে সেগুলো যদি ¯^তন্ত্রভাবে বা যাকাতযোগ্য অন্য সম্পদের সাথে মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমপরিমাণ হয়, তাহলে সেগুলোর যাকাত দিতে হবে।
* হাঁস, মোরগ, গরু, ছাগল ইত্যাদি সরাসরি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কিনে থাকলে এগুলোর মূল্যের উপর যাকাত আসবে। তবে ডিম বা দুধের ব্যবসার জন্য ক্রয় করা হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের মূল্যের উপর যাকাত আসবে না। কিন্তু ডিম ও দুধ বিক্রি করে যে আয় হয়, তা নিসাব পরিমাণ হলে এবং বছর অতিবাহিত হলে যাকাত আসবে। পুকুর বা খাল বিলে বিক্রির উদ্দশ্যে যে সব মাছ বা মাছের পোনা ক্রয় করে ছাড়া হয়, সেগুলোর বাজারমূল্য ধরে নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে ।
* মূল্য হিসাব করে সম্পদের যাকাত দেয়ার ক্ষেত্রে যে দিন যাকাত দিবে ঐ দিনের মূল্য হিসাব করতে হবে এবং যাকাতের সম্পদ যে স্থানে থাকবে সেখানের মূল্য হিসাব করতে হবে।
* যদি কেউ একবার নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যায়, মনে করুন রমযানের শুরুতে কেউ নিসাবের মালিক হয়ে গেল আর আগামী বছর রমযানের পহেলা তারিখেও যদি তার মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাকে ‘সাহিবে নিসাব’ বলা হবে এবং দ্বিতীয় রমযানের পহেলা তারিখে তার উপর যাকাত আদায় করা ফরয হবে। বছরের মাঝে যদি সম্পদ কমে যায় তাতে যাকাত রহিত হবেনা। আবার মাঝে সম্পদ বেড়ে গেলে সে সম্পদের উপর বছর অতিবাহিত হওয়াও জরুরী নয়। বরং প্রথম রমযানে বিধ্যমান সম্পদের বছর পূর্তির দিন যাকাতযোগ্য যত সম্পদ থাকবে সবগুলোর যাকাত দিতে হবে। ধরুন ঐ ব্যক্তি পহেলা রমযানে এক লক্ষ টাকার মালিক হয়ে ছিল। দুইমাস পর তা কমে পঞ্চাশ হাজার টাকা হয়ে গেল। কিন্তু পরের পহেলা রমযানের দু’দিন পূর্বে তার নিকট নতুন করে এক লক্ষ টাকা এসে গেল। ফলে যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিন অর্থাৎ পহেলা রমযানে তার মালিকানায় দেড় লক্ষ টাকা জমা হয়ে গেল। অতএব তাকে এই দেড় লক্ষ টাকার উপরই যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যে সম্পদ কমে পঞ্চাশ হাজার হয়েছে আবার মাত্র দু দিন আগে এক লক্ষ টাকা যোগ হয়েছে-সে দিকে দেখা হবে না।
* পরিবারের একাধিক সদস্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এবং তাতে এক বছর পূর্ণ হলে প্রত্যেকের উপর শতকরা ২.৫% হারে যাকাত আসবে।
* শেয়ারের ক্ষেত্রে দেখতে হবে শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে কি। ব্যবসা উদ্দেশ্য হলে বাজারমূল্য হিসেব করে এর যাকাত দিতে হবে। পক্ষান্তরে যদি নির্দিষ্ট পিরিয়ডে কোম্পানী থেকে লভ্যাংশ নেয়া বা লাভ পেলে বিক্রি করা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে প্রতিটি শেয়ারের বাজারদরের যে অংশ কোম্পানীর যাকাতযোগ্য সম্পদের বিপরীতে আছে, তাতে যাকাত আসবে। ধরুন শেয়ারের বাজার ১০০ টাকা। তার মধ্যে ৬০ ভাগ কোম্পানীর বিল্ডিং, মেশিনারীজ ইত্যাদির বিপরীতে আর ৪০ ভাগ কোম্পানীর নগদ অর্থ, কাঁচামাল ও উৎপাদীত মালের বিপরীতে। তাহলে যাকাতের হিসাব করার সময় শেয়ারের ৬০% মূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৪০% মূল্য হিসাব করা হবে।

পাওনা সম্পদের যাকাত

কারো কাছে আপনার যাকাতযোগ্য কোন সম্পদ পাওয়ার থাকলে, এর যাকাত দেয়াও আপনার উপর ফরয । তবে শর্ত হলো যার কাছে পাওনা রয়েছে সে তা অ¯^ীকার না করে যথা সময়ে আদায়ের নিশ্চয়তা প্রদান করবে, কিংবা আপনার নিকট উপযুক্ত সাক্ষ্য বা লিখিত প্রমাণ থাকতে হবে। যাতে আইনের শরণাপন্ন হয়ে আপনি ঐ ঋণ উসূল করতে পারেন।
* যে সকল পাওনা সম্পদ উসূল করার ব্যাপারে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে যায়, ঘটনাক্রমে যদি সেগুলো হাতে এসে যায়, তবে সে সম্পদের বিগত বছরের যাকাত দিতে হবেনা।
* সুদী ব্যাংকের (চলতি, সঞ্চয়ী, দীর্ঘমেয়াদী) যে কোন ধরণের একাউন্টে জমাকৃত অর্থ এবং সুদভিত্তিক পরিচালিত সমবায় সমিতি, হাউজিং কোং বা অন্য যে কোন অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকৃত অর্থ উসুল করার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে।
* বৈধভাবে পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার হিসেবে (মুদারাবা বা শিরকতের ভিত্তিতে) যে সম্পদ বিনিয়োগ করা হয় সেগুলো নিসাব পরিমাণ হলে বছর শেষে মূল পুজি এবং লভ্যাংশ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
* ফেরতযোগ্য বীমা পলিসিতে জমাকৃত প্রিমিয়াম এবং যে কোন বন্ড, ডিবেঞ্চার ও ট্রেজারী বিল ইত্যাদির মূল্য হাতে আসার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত দিতে হবে।
* যে কোন স্থাপনা ভাড়া নেয়ার সময় প্রদত্ত সিকিউরিটি মানি, এডভান্স মানি কিংবা ব্যাংক গ্যারান্টি মানি যদি ফেরতযোগ্য হয় এবং ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয় তাহলে সেগুলো উসুল হওয়ার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে।
* ঐচ্ছিক কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের সমুদয় অর্থ এবং বাধ্যতামূলক কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের ¯ে^চ্ছা প্রদত্ত অতিরিক্ত অংশ হাতে আসার পর বিগত বছরের যাকাত দেয়া চাই।
* বাধ্যতামূলক কর্তনকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ হাতে আসার পর বিগত দিনের যাকাত দিতে হবে না বরং ঐ অর্থ নিসাব পরিমাণ হলে এখন থেকে যাকাত বছর হিসাব করা হবে।
* সুদ, ঘুষ বা এজাতীয় অন্যান্য হারাম মাল সম্পূর্ণটাই মালিকের কাছে/তার মৃত্যুর পর উত্তরাধীকারিদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। আর মালিকের সন্ধান না পেলে সদকা করে দিতে হয়। তাই এর উপর যাকাতের প্রশ্নই আসে না।

ঋণগ্রস্থের যাকাত

* সম্পদের মালিক ঋণগ্রস্থ হলে প্রথমে সম্পদের মূল্য থেকে ঋণ পরিমাণ টাকা বাদ হবে। এরপর যদি অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে যাকাত আসবে। অবশ্য ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য যে ঋণ করা হয় সে ক্ষেত্রে এই হুকুম প্রযোজ্য। কিন্তু বড় বড় ইন্ডাষ্ট্রি এবং কলকারখানার জন্য যে ঋণ করা হয়, তার মধ্যে একটু ব্যাখ্যা আছে। আর তা এই যে, যদি এর দ্বারা যাকাতের অযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয় তাহলে সে ঋন বিয়োগ হবে না। আর যদি তা দ্বারা যাকাতযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয়, তবে সে ঋণ বাদ দেয়া হবে।
* কিস্তিতে কিছু ক্রয় করা হলে, বা কিস্তি করা ঋণ থাকলে, এ বৎসর যে পরিমাণ কিস্তি আদায় করতে হবে তৎপরিমাণ টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদের যাকাত দিতে হবে ।
* স্ত্রীর মহরানা ঋণ বাবদ কর্তন করা হবেনা।

ফিতরা

ঈদের দিন ফিতরা ফরয হওয়ার পরিমাণ সম্পদ যার কাছে থাকে তার উপরে ফিতরা ওয়াজিব হয়। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের আগে জন্ম নেওয়া সহ সকল সন্তানাদির পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হয়। শুধু পৌনে দুই কেজি আটার দামে ফিতরা দিতে হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং সামর্থ অনুযায়ী বেশি ধনীকে বেশ দামী জিনিষের হিসাবে ফিতরা দিতে হবে। যেমন সাড়ে তিন কেজি খেজুর, কিসমিস ও যব ইত্যাদির মূল্য।
আল্লাহপাক আমাদেরকে সকল প্রকার গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে ও পরিপূর্ণভাবে হক আদায় করে রোযা রাখার তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে শবে ক্বদর নসীব করুন। আমিন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ