jagannathpurpotrika-latest news

আজ, , ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ শিরোনাম :



হাসপাতাল থেকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিলেন সেই মা

ডেস্ক রিপোর্ট :: তিন দিনের শিশুসন্তান নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বৃষ্টি আক্তার (১৬) আবারো পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুস্থ হয়ে পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে তিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পাঁচ দিনের শিশুসন্তান নিয়ে উপস্থিত হন। পরে শিশুটিকে তার দাদি আয়েশা আক্তারের কাছে রেখে তিনি ইংরেজি প্রথমপত্রের লিখিত পরীক্ষা দেন।

গত রোববার গণমাধ্যমে ‘৩ দিনের শিশুকে নিয়ে এসএসসির হলে মা, ২ ঘণ্টা পর অসুস্থ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বৃষ্টি আক্তারের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে কলমাকান্দা উপজেলা সদরের ঘোষপাড়া এলাকার বজলুর রহমানের মেয়ে বৃষ্টি আক্তারের সঙ্গে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট এলাকার শাহজাহান মিয়ার বিয়ে হয়। তখন সে কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার ছাত্রী ছিল। বিয়ের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। দুই মাস আগে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে আসেন।

 

গত বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলে তিনি কলমাকান্দা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম পরীক্ষা শেষে তার প্রসব বেদনা ওঠে। পরে নেত্রকোনা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন বৃষ্টি।

 

রোববার সকালে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে বৃষ্টি ওই ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা হলে যান। হলের বাইরে এক আত্মীয়ের কাছে ছিল তার সন্তান। পরীক্ষা শুরুর দুই ঘণ্টা পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে নিয়ে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি মঙ্গলবার আবারো পরীক্ষায় অংশ নেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ওই শিশুর মাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ।

তিনি আরও বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তান হওয়া ও অস্ত্রোপচার করার পর বিশ্রাম না নেওয়ায় এ সমস্যা হয়েছিল।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, মানবিক কারণে পরীক্ষার সব নিয়ম মেনে বৃষ্টির জন্য আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সুস্থবোধ করায় তার ইচ্ছায় সবার সঙ্গে বসে সে পরীক্ষা দেয়। তাছাড়া কেন্দ্রে একটি চিকিৎসা দলও রাখা হয়েছিল। আর পরীক্ষা কেন্দ্রে শিশুটির জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ