ইতিহাস গড়লো মেয়েরা
- Update Time : ০৩:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
স্পোর্টস ডেস্ক :: ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ক্রিকেটের পরাশক্তি পাকিস্তানকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সুজন-নান্নুদের নবীন বাংলাদেশ। হ্যামিল্টনের সিডন পার্কে গতকাল নর্দাম্পটনের ওই সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। পাকিস্তানের স্কোর যখন ২ উইকেটে ১৮৩ রান, কে ভেবেছিল এ ম্যাচে জিতবে বাংলাদেশ! কিন্তু সিডন পার্কে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এক গল্প লিখলেন নিগার সুলতানারা। রুমানা-ফাহিমাদের অসাধারণ এক স্পেলে ঘুরে গেল ম্যাচের মোড়। মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে ৫ রানে ৫ উইকেট তুলে নিলো টাইগ্রেসরা। গতকাল নারী বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৯ রানে হারায় বাংলাদেশ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়।
হ্যামিল্টনে বাংলাদেশের ২৩৪ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ২২৫ রানে থামে পাকিস্তান নারী দল। ওপেনার সিদ্রা আমিনের সেঞ্চুরিও জেতাতে পারেনি তাদের। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ফারজানা হকের হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ২৩৪ রান। বিশ্বকাপ তো বটেই ওয়ানডেতেই এটি টাইগ্রেসদের দলীয় সর্বোচ্চ। ওপেনার শামিমা সুলতানা ১৭ এবং শারমিন আখতার ৫৫ বলে খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস। টানা তৃতীয় ম্যাচে ৩০’র বেশি ওপেনিং জুটি পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার ৫৩ বলে শামিমা-শারমিন তুলেন ৩৭ রান। তিনে নামা ফারজানা হক পিংকি ১১৫ বলে করেন ৭১ রান। যাতে ছিল ৫টি বাউন্ডারি। বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন পিংকি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে তার উইলো থেকে আসে ৫২ রান। দ্বিতীয় উইকেটে পিংকি-শারমিনের নৈপুণ্যে ৪২ রানের জুটি পায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা পাশ কাটিয়ে অধিনায়ক নিগার সুলতানার ব্যাটও হেসেছে এবার। ৬৪ বলে করেছেন ৪৬ রান। তৃতীয় উইকেটে পিংকির সঙ্গে ১২৪ বলে ৯৪ রান যোগ করেন তিনি। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশ নারী দলের সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ এটি। রুমানা আহমেদের অবদান ১৩ বলে ১৬ রান। ফারজানার সঙ্গে ২৯ বলে ২৯ রানের একটি ছোট অথচ কার্যকরী জুটি উপহার দেন তিনি। পাকিস্তানের নাস্ত্রা সান্ধু ৪১ রানে নেন ৩ উইকেট।
জবাব দিতে নেমে দুই ওপেনার নাহিদা খান-সিদ্রা আমিনের ব্যাটে দুর্দান্ত শুরু করে পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতেই তারা তুলে ফেলেছিল ৯১ রান। নাহিদাকে (৪৩) সরাসরি বোল্ড করে এ জুটির লাগাম টানেন রুমানা আহমেদ। এরপর অধিনায়ক বিসমাহ মারুফের সঙ্গে নতুন জুটি গড়ে তুলেন আমিন। দলীয় ১৫৫ রানে মারুফকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি এনে দেন পেসার জাহানারা আলম। ৪২তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ওমাইমা সোহেলকে (১০) তুলে নেন ফাহিমা খাতুন। এরপরই ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপে। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন তিন ব্যাটার। নিদা দারকে ফেরান রুমানা। একই ওভারে আলিয়া রিয়াজ ও ফাতিমা সানাকে তুলে নেন ফাহিমা। ডায়ানা বেগকে এলবি’র ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে ইতিহাসের আরও কাছে নিয়ে যান সালমা। ৪৮তম ওভারে সিদ্রা আমিনের (১০৪) রান আউটে পাকিস্তানের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। তবে নাহিদা আক্তারের করা ওই ওভারে ৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি পাকিস্তান।




























