আফগানিস্তানকে টপকানোর হাতছানি বাংলাদেশের
- Update Time : ০৩:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ মার্চ ২০২২
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
স্পোর্টস ডেস্ক :: সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দল। জিতলে সপ্তমবারের মতো একাধিক ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ নেবে টাইগাররা। পাশাপাশি আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দলের। আফগানিস্তানকে টপকে আট নম্বরে উঠে যাবে বাংলাদেশ । তবে আজ হেরে গেলে আবার বাংলাদেশ নেমে যাবে দশ নম্বরে। সর্বশেষ আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ২৩২ রেটিং নিয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান আট নম্বরে। মাত্র ১ রেটিং পিছিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে পাবে ১ পয়েন্ট, অন্যদিকে ২ পয়েন্ট খোয়াবে আফগানরা। এতে ভগ্নাংশের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আফগানিস্তান নেমে যাবে দশ নম্বরে, বাংলাদেশ তাদের জায়গা নেবে। আর দশ নম্বর থেকে শ্রীলঙ্কা উঠে আসবে নয়ে। টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৮ দেখায় বাংলাদেশের জয় ৩টি। বৃহস্পতিবার মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬১ রানের বড় জয় কুড়ায় টাইগাররা। আফগানদের বিপক্ষে এর আগে একবারই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮তে ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেয় রশিদ বাহিনী। এবার ওই লজ্জা ফিরিয়ে দেবার মিশনে নামছেন রিয়াদরা। প্রথম ম্যাচে যেমন খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে বুকভরা আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলতে নামবে তারা। ব্যাটিংয়ে লিটন দাসের লড়াকু ইনিংসের পর বোলিংয়ে আফগানদের টপ-অর্ডার ধসিয়ে দেন নাসুম আহমেদ। ওয়ানডে সিরিজে ওপেনিংয়ে সফল লিটনকে টি- টোয়েন্টিতে খেলানো হয়েছে ওয়ান ডাউনে। পজিশন বদলালেও ফর্ম হারাননি তিনি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রানের ইনিংস আসে তারই উইলো থেকে। ম্যাচের পর লিটন বলেন, ‘আমাকে যদি কাল (আজ) বলা হয় ওপেন করতে, আমি করবো। এতদিন কিপিং করিনি, আজ (বৃহস্পতিবার) করতে বলেছে, করেছি। যখন যেটা বলবে শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করবো।’ বাংলাদেশের ১৫৫ রানের পুঁজিটাকেই আফগানিস্তানের কাছে দুরূহ এক লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেন নাসুম আহমেদ। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেই ৪ উইকেট তুলে নেন এ বাঁহাতি স্পিনার। আর একটা উইকেট পেলেই এক ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে লাসিথ মালিঙ্গার সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার রেকর্ডটা ছুঁয়ে ফেলতেন নাসুম। অধিনায়ক যেভাবে চেয়েছিলেন তিনি সেভাবেই বল করেছেন। দলের চাহিদা পূরণে তৃপ্ত নাসুম বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে আমাকে একটা লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়। যেন ২ ওভারে ১২ রানের বেশি রান না দিই। আমি ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছি। পাওয়ার প্লেতে আমি যতটা পারি কম রান দেয়ার চেষ্টা করি।’ নাসুমের পাশাপাশি বল হাতে অবদান রাখেন সাকিব আল হাসানও। ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাকিব ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এতে প্রথম বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে সাদা বলে ৪০০ উইকেট নেয়ার এক অনন্য নজির গড়েন সাকিব। তবে ব্যাটার সাকিবের কাছ থেকে আরেকটু বেশি চাইবে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে নিজের শেষ ৪ ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ২৮ রান করেছেন তিনি। তিনবারই আউট হয়েছেন দশের নিচে। এ ফরম্যাটে সাকিবের সবশেষ হাফসেঞ্চুরি ৩ বছর আগে। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই খেলেন ৭০* রানের ইনিংস। ম্যাচে ৪ উইকেটের জয় কুড়ায় বাংলাদেশ। শুধু স্পিন নয়, প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেস বিভাগও ভালো করেছে। বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার একটি। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একশ’ও ছুঁতে পারেনি আফগানিস্তান। ১৭.৪ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় নবীদের ইনিংস। বাংলাদেশি বোলাররা কতটা ভালো করেছেন, প্রতিপক্ষের অধিনায়কের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট হয়। নবী বলেন, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালোই ছিল। ওদের ১৫৫ রানে আটকে দেয়ার পর আমরা লক্ষ্যটা টপকে যাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু ৬ ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেট খুইয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাই।’ লিটন বলেছেন, এ উইকেটে আরো ২০-২৫ রান বেশি করতে পারতো বাংলাদেশ। মূলত লিটন ছাড়া টপ অর্ডারের বাকি ৩ ব্যাটার রান না পাওয়ায় বেশিদূর এগোতে পারেনি দল। অভিষিক্ত মুনিম শাহরিয়ার ১৭ ও নাঈম শেখ মাত্র ২ রান করে আউট হন। চারে নামা সাকিব ৫ এবং অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। এ জায়গায় আরেকটু উন্নতি করলে আজকের ম্যাচে ব্যাটিংটা আরো ভালো হবে বাংলাদেশের।




























