০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি এখন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

  • Update Time : ০৮:০৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে সরকারি উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এজন্য আট সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।
শিশু মুক্তামনির বাবা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন জানান, মেয়েকে তিনি ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছেন। সকাল ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকায় অবস্থানরত শিশু মুক্তার মা আয়েশা খাতুন জানান, ডা. সামন্তলাল তাদের মেয়ের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে তার রক্তশূন্য দেহে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উন্নত মানের খাবার খাইয়ে তাকে সুস্থ করে তুলবার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। এখন মেয়ের রোগমুক্তি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন মুক্তামনির মা।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু অবহেলার কারণেই আজ মুক্তামনির করুণ পরিণতি। তবে মুক্তামনি দ্রুত সেরে উঠবেন বলে জানান ডা. সামন্তলাল সেন।শিশুটির চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে আট সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। শিশুটির এমন অবস্থার জন্য শুধু অবহেলাকেই দায়ী করেন চিকিৎসক। খুলনার আবুল বাজানদারের মতো মুক্তামনিও সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানান চিকিৎসক।
উল্লেখ্য, ১২ বছরের শিশু মুক্তামনির দেহে জন্মের দেড় বছর পর একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। তার আক্রান্ত ডানহাত এখন ছোট আকারের গাছের গুড়ির রূপ নিয়ে প্রচণ্ড ভারি হয়ে উঠেছে। এতে পচন ধরেছে। পোকাও জন্মেছে। দিন রাত চুলকানি ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে থাকে মুক্তামনি। আক্রান্ত স্থান থেকে বিকট গন্ধ ছুটছে। এ রোগ তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি এখন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

Update Time : ০৮:০৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০১৭
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে সরকারি উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এজন্য আট সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।
শিশু মুক্তামনির বাবা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন জানান, মেয়েকে তিনি ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছেন। সকাল ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকায় অবস্থানরত শিশু মুক্তার মা আয়েশা খাতুন জানান, ডা. সামন্তলাল তাদের মেয়ের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে তার রক্তশূন্য দেহে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উন্নত মানের খাবার খাইয়ে তাকে সুস্থ করে তুলবার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। এখন মেয়ের রোগমুক্তি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন মুক্তামনির মা।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু অবহেলার কারণেই আজ মুক্তামনির করুণ পরিণতি। তবে মুক্তামনি দ্রুত সেরে উঠবেন বলে জানান ডা. সামন্তলাল সেন।শিশুটির চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে আট সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। শিশুটির এমন অবস্থার জন্য শুধু অবহেলাকেই দায়ী করেন চিকিৎসক। খুলনার আবুল বাজানদারের মতো মুক্তামনিও সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানান চিকিৎসক।
উল্লেখ্য, ১২ বছরের শিশু মুক্তামনির দেহে জন্মের দেড় বছর পর একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। তার আক্রান্ত ডানহাত এখন ছোট আকারের গাছের গুড়ির রূপ নিয়ে প্রচণ্ড ভারি হয়ে উঠেছে। এতে পচন ধরেছে। পোকাও জন্মেছে। দিন রাত চুলকানি ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে থাকে মুক্তামনি। আক্রান্ত স্থান থেকে বিকট গন্ধ ছুটছে। এ রোগ তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ