সানি হত্যা: ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্যে জনমনে উদ্বেগ
- Update Time : ১১:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুলাই ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: শিল্পনগরী ছাতকে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে সানি সরকার নামের এক হিন্দু যুবক নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এখানের সাধারণ মানুষ। হত্যা মামলায় ‘গ্যায়ের এক সদস্যকে যুক্ত করতে থানা পুলিশের কাছে নিহতের পিতার দায়ের করা আবেদনের অগ্রগতি এক মাসেও না হওয়ায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে তাদের। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে এবং শহরে মাথাছাড়া দিয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাঠনের লক্ষ্যে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিএই) ন্যাস্ত করার দাবিও উঠেছে নাগরিক সমাজের মধ্যে। জানা যায়, ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের রাস্তায় পূর্ব বিরোধের জেরে শোয়েব আহমদের নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যায়ের সদস্যরা বিকাশের স্যালস ম্যান সানি সরকারকে(২৪) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত সানি সরকারের মুল বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর গ্রামে। ছাতক পৌরসভার মণ্ডলীভোগ আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় থাকেন সানি সরকারের পরিবার। পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের রাস্তায় সানি সরকারকে ফোনে ডেকে নেয় কিশোর গ্যাংয়ের হোতা শোয়েব আহমদ। ফোন পেয়ে সানি সেখানে গেলে চাকু, রামদা, রড ইত্যাদি অস্ত্র দিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ধারালো অস্ত্রে র এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতর জখম হন সে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এদিকে, ছেলের উপর হামলার ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের আট সদস্যকে আসামি করে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আহত সানি সরকারের পিতা কাজল কান্তি সরকার। এতে কিশোর গ্যায়ের সদস্য সোয়েব আহমদ, নাঈম আহমদ, শরিফ উদ্দিন, মোরসালিন, তোফায়েল আহমদ, নোমান মিয়া, তানিম আহমদও জুবায়ের আহমদকে আসামি করা হয়। ১ মে মামলাটি প্রাথমিক তথ্যবিবরণীভুক্ত (এফআইআর) করে ছাতক থানা পুলিশ। অপরদিকে, গুরুতর আহত সানি সরকার ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২ মে মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পিতার দায়েরী অভিযোগ হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। মামলার এজহারভুক্ত দুই আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছেলে গুরুতর আহত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে মামলায় আসামিদের নাম সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে ছাতক থানায় একটি লিখিত আবেদন করেন বাদী কাজল কান্তি সরকার। গত ১১ মে দায়ের করা আবেদনে, কিশোর গ্যাংয়ে অপর সদস্য শহরের দক্ষিণ মণ্ডলীভোগ আবাসিক এলাকার আনু মিয়ার ছেলে তাহসিনের নাম হত্যা মামলায় অন্তভুর্ক্ত করার আবেদন করেন তিনি। আবেদনে বলা হয়, আহত অবস্থায় সানি সরকার ছাতক হাসপাতালে পরিবারের কাছে ঘটনায় তাহসিন সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি জানায়।
এদিকে, আবেদন করার প্রায় এক মাস গত হয়ে গেলেও এ ব্যাপারে আইনানুগ অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মামলার বাদীসহ ছাতকের নাগরিক সমাজ। কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবশালী অভিভাকদের তদবিরে মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত না হলে শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবণতি হওয়ার আশঙ্কা তাদের। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে ন্যাস্ত করার পক্ষে তারা। ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার মিয়া বলেন, সানি সরকার হত্যা মামলায় তাহসিন নামের একজনকে আসামি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করতে মামলার বাদী যে আবেদন করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। তদন্তে তাহসিনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আসামী করা হবে।




























