আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে সহসম্পাদক হবে এক শর কম
- Update Time : ০৩:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুলাই ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদকদের সংখ্যা দুই অঙ্কেই হচ্ছে। দলের ১৯টি সম্পাদক পদের মধ্যে ১৬টির উপকমিটিতে তিনজন করে সহসম্পাদক স্থান পাবেন। অন্য তিন সম্পাদক পদের মধ্যে দপ্তরে পাঁচ, প্রচার ও প্রকাশনায় পাঁচ এবং তথ্য ও গবেষণায় চারজন সহসম্পাদক নিয়ে উপকমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিগুলোর সহসম্পাদকের সংখ্যা ৯৫ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রতিটি উপকমিটির পরিধি হবে ২০, ২৫ অথবা ৩০ জনের। প্রয়োজন অনুসারে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এ পরিধি ঠিক করবেন। গতকাল বিকেলে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বৈঠকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলীয় কোন্দল, নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাদের দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনের দীর্ঘদিন পরও যে আট জেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি সেগুলোতে আগস্টের আগেই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, অসীম কুমার উকিল, আব্দুস সবুর, দেলোয়ার হোসেন, আমিনুল ইসলাম আমিন, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের সূত্রগুলো জানায়, দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে সহসম্পাদকের সদস্য সংখ্যা এক শর নিচে রাখার বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা একমত হন। বিগত উপকমিটিতে বিপুলসংখ্যক সহসম্পাদক নিয়ে নানা বিতর্ক ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এবার প্রত্যেক সম্পাদকীয় পদের উপকমিটিতে সহসম্পাদকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সহসম্পাদকসহ প্রতিটি উপকমিটির সদস্যসংখ্যা ৩০-এর মধ্যে রাখা হবে। এসব উপকমিটিতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্থান পাবে। তবে আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী কোনো সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা বা অন্য কোনো পর্যায়ে কোনো পদে থাকলে তাঁরা সহসম্পাদক হতে পারবেন না।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের যে ১৯টি উপকমিটি রয়েছে, এগুলো গঠনের ব্যাপারে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার আবার আমরা বসে বিভিন্ন সম্পাদকের প্রস্তাব অনুযায়ী উপকমিটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব। এবার খুব বিচার-বিশ্লেষণ করে উপকমিটিগুলো করা হবে। যাতে কোনো বিতর্ক না হয়। ’
ওবায়দুল কাদের জানান, ‘যাঁরা অন্যান্য শাখা বা কমিটিতে আছেন, তাঁরা উপকমিটিতে সহসম্পাদক থাকতে পারবেন না, কিন্তু সদস্য থাকতে পারবেন। উপকমিটিতে সহসম্পাদকের সংখ্যা ১০০ পার করবে না। সর্বমোট ৯৫ জনের মতো হবেন। ’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে তিনজন করে সহসম্পাদক সংযুক্ত থাকবেন। এ ব্যাপারে আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রচার এবং দপ্তর এই দুটি বিভাগে পাঁচজন করে থাকবেন। তথ্য ও গবেষণায় চারজন থাকবেন। একইভাবে আমরা চিন্তা-ভাবনা করেছি। ওই আলোকে আমরা পরবর্তী মিটিংয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করব। হয়তো সে ক্ষেত্রে আরো একটি মিটিং করে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর আমরা আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করব। ’
কেন্দ্রীয় উপকমিটির পরিধির কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উপকমিটির সদস্য ২০ থেকে ৩০ জন হবেন। এখানে পার্লামেন্টের মেম্বাররা থাকবেন পাঁচ থেকে সাতজন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। আওয়ামী লীগার হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। অনেকে আছেন আওয়ামী লীগমনস্ক। আমাদের আদর্শের লোক। এমন যাঁরা আছেন, তাঁরাও স্থান পাবেন। ’
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমাদের আটটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। কমিটি জমা পড়েছে কিন্তু সেটা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এই আট জেলার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় আসবেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। ’
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাজের সুবিধার্থে উপকমিটিগুলো গঠন করা হবে। সম্পাদকরা তাঁদের সাংগঠনিক কাজ ভালোভাবে করার জন্য যাঁদের যোগ্য মনে করবেন, তাঁদের নিয়েই উপকমিটি গঠন করবেন। ’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘এর আগে উপকমিটিতে সদস্যসংখ্যা নিয়ে নানা বিতর্ক হয়েছে। সহসম্পাদক পদ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও ছিল। কিন্তু এবার আর কতিপয় নেতা সহসম্পাদক পদ দিতে পারবেন না। প্রত্যেক সম্পাদক আলাদা উপকমিটি গঠন করবেন। ফলে এবার পদ নিয়ে বাণিজ্য বা বিশেষ কারো কর্তৃত্বের সুযোগ নেই। ’
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫ অনুচ্ছেদের চ (বিভাগীয় উপকমিটি গঠন) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগে একটি করে উপকমিটি গঠন করবে। ওই উপকমিটি একজন চেয়ারম্যান, একজন সম্পাদক, অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহসম্পাদক, প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। ’
বিগত কমিটিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যসংখ্যা প্রায় এক হাজারের মতো ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় দলের মধ্যে নানা সমালোচনাও হয়। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় একাধিক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদকদের সংখ্যা নিয়ে অসন্তোষের কথা জানান। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘উপকমিটির সহসম্পাদক ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়েছে। পার্টি অফিসের সামনে যাঁর সঙ্গে ধাক্কা লাগে তিনিই বলেন আমি আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক। কিন্তু তাঁরা যে উপকমিটির সহসম্পাদক এটা বলেন না। এই সহসম্পাদকের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে অনেকে নিজ জেলায় অনেক হুমকি-ধমকিও মারেন। ’
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা জানান, গতকালের বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় নেতাদের মধ্যে কোন্দল বাড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিভিন্ন নেতা নিজের এলাকায় নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমে গেছেন। এতে করে সেখানে এমপিদের সঙ্গে কোন্দল বাড়ছে। উদাহরণ তুলে ধরে হানিফ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী চাঁদপুরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে করে সেখানকার সংসদ সদস্য দীপু মণির সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাড়ছে।
তবে হানিফের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। সুত্র কালের কন্ঠ


























