ওসমানীনগরে প্রবাসীর বসত বাড়ি দখলের পায়তারা
- Update Time : ১০:২৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের ওসমনীনগরে স্থানীয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ম্যানেজ করে এক প্রবাসীর বসতবাড়ি দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে।
এ ব্যপারে প্রতিকার চেয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি থেকে রক্ষা পাওয়ার আবেদন করেন গোয়ালাবাজারের গ্রামতলারোডস্থ আছাব ভিলার সত্ত্বাধিকারী প্রবাসী আছাব মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষাসহ নিরাপত্তার বিষয়ে সাংবাদিদের সহযোগীতা কমনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওসমানীনগরের গ্রামতলা মৌজার অন্তর্গত বর্তমান জেএলনং-৭৫, খতিয়ান নং ২৯ ও ৬৯৩ মোট ৩২ শতাংশ জায়গা খরিদ করে আছাব ভিলা নামে বাড়ি নির্মান করে করে ১৮০ সাল থেকে পরিবার নিয়ে আছাবা মিয়া বসবাস করেন। বর্তমানে ওই বসত বাড়িটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উপজেলার গ্রামতলা এলাকায় বসবাসকারী ও বালাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন চান্দাইপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উল্ল্যার পুত্র বোয়ালজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিক আহমদ। দাশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোয়ালাবাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি, উপজেলা বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন। আওয়ামী যুবলীগ ঘরনার দাবিদ্বর দাশপাড়া গ্রামের সজল দেব ও বর্তমানে গ্রামতলা এলাকার বাসিন্ধা বাদল দেবসহ তাদের সহযোগীরা। এর ধারাবাহিকতায় আছাব মিয়া যুক্তরাজ্যে থাকাকালিন সময়ে চলতি বছরের প্রথম দিকে বিএনপি নেতা রফিক আহমদ সরকারী এলজিইডি রাস্তা বিনা অনুমতিতে কেটে ফেলে তার বাড়ির ড্রেইনের ময়লা আবর্জনার নালা করে আছাব মিয়ার বাড়ির ড্রেইনের সাথে জোরপূর্বক সংযুক্ত করেন। ওই নালা দিয়ে রফিক আহমদের বাড়ির ময়লা আবর্জনায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ পচা দূগন্ধে প্রবাসীর বাড়িটি লোকজন বসবাসের অনোপযোগী হয়ে পরে।
আছাব মিয়া দেশে এসে রফিকের কাছে এর কারন জনতে চাইলে রফিক কোন সদউত্তর না দিয়ে প্রবাসীকে বলেন, আপনি প্রবাসী মানুষ গোপনে আমাদের সাথে বসেন। সব মিটমাট হয়ে যাবে আপনার পরিবারও শান্তিতে থাকবে। অবশেষে ৯ জুন রফিক ও তার সহযোগিদের নাম উল্লেখ করে এ বিষয়ে গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর পর থেকে বিএনপি নেতা রফিক আহমদ, তাজউদ্দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নানা ভাবে প্রবাসী পরিবারকে হয়রানীর চেষ্টা চালায় এবং ভয় ভিতি প্রদর্শন করেন। বিএনপি নেতা রফিক ও তাজউদ্দিন বিভিন্ন মাধ্যমে বলে বেরাচ্ছে যে, আছাব মিয়া প্রবাসে চলে যাওয়ার পর যে কোন ভাবে তারা বসতবাড়িটির দখলে নেবে, না হয় ওরা প্রাবাসীর পরিবারের মারাত্বক ক্ষতি করবে। ফলে তাদের ভয়ে বৃদ্ধ মা স্ত্রী সন্তানের ক্ষতির আশংঙ্কায় নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে যুক্তরাজ্যে কাজকর্ম ফেলে রেখে বিগত ৫ মাস ধরে দেশে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর রফিক, তাজ উদ্দিন, বাদল ও সজল এর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন যুবক আছাব ভিলায় প্রবেশ করে বাড়ির সীমানা প্রচীররের দেয়ালের পূর্বাংশে লাল রং দিয়ে দাগ দিতে থাকে। হঠাৎ এতো যুবক ও এমন কর্মকান্ডের কারণ জানতে চাইলে নেতৃত্বদান কারীদের মধ্যে সজল দেব ও বাদল দেব জানায়, গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক এর নির্দেশে তারা বসত বাড়ি দখল করতে এসেছে। এ ব্যাপারে আছাব মিয়া জরুরী ভিত্তিতে গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিকের সাথে যোগাযোগ না করলে শিগ্রই সম্পন্ন বাড়িটি তারা দখল করে নেবে। প্রশাসনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাদের ম্যানেজ রয়েছে বলে বাড়ির দেয়ালের ভিতরের এক পার্শ্বে বাশেঁর খুঁটা ফুতে সীমানা আগলিয়ে তারা চলে যায়। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিককে জানালে এসময় তিনি যাবতীয় কাগজপত্র দেখেন।
কিন্তু সমস্ত কাগজপত্র সঠিক পাওয়ার পরও চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিকসহ তাজ ও রফিক আছাব মিয়াকে বলেছেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলে হবে না, বসত বাড়িটি রক্ষা করতে হলে তাদের সাথে বসতে হবে। না হলে স্থানীয় প্রশাসনসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের সহযোগিতায় যেকোনো মূহূত্বে বাড়িটির দখল করে নেবেন। তাদের এমন হুমকিতে পরিবার নিয়ে চরম আতংঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আছাব মিয়া। স্ত্রী সন্তান রেখে প্রবাসে যেতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে ৩ নভেম্বর সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন।





























