দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলায় কালী মন্দির শ্মশান ঘাটে ৯ প্রতিমা ভাঙচুর
- Update Time : ০৯:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ থেকে ::
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলায় কালী মন্দির শ্মশান ঘাটের ৯টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দূর্বৃত্তরা। রবিবার গভীর রাতে উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের কালী মন্দিরে (শ্মশান ঘাট) প্রতিমা ভাঙচুরের এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার দিনগত রাতেও মন্দিরের প্রতিমা কক্ষের দরজার প্রথম ধাপে গ্রিলের তালা দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে সাঁটার তালা লাগানো হয়। গভীর রাতে কে বা কারা সাঁটারের তালা ভেঙ্গে গ্রিলের তালা ভাঙারও চেষ্টা করে। তবে গ্রিলের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে বাঁশ দিয়ে খুঁচিয়ে মন্দির কক্ষে থাকা ১১ টি প্রতিমার মাঝে ৯ টি প্রতিমাকেই ভেঙ্গেছে দূর্বৃত্তরা।
রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরের ১১টি প্রতিমার মাঝে মাত্র দুটি প্রতিমা অক্ষত অবস্থায় আছে। বাকী শইব্যা, রুহিত, হরি চন্দ্র রাজা, বিশ্বামিত্র মনি, শিব, শেয়াল, কালী, ডাকিনী ও যোগিনীসহ ৯টি প্রতিমারই হাত, পা, মাথা, আবার কোনোটার নাভীর নিচ থেকে বেশির ভাগ প্রতিমার অংশই ভাঙ্গা।
স্থানীয়রা বলছেন, পাগলায় সব সম্প্রদায় এক হয়ে বসবাস করার সুনাম শত বছরের। এই সুনামকে নষ্ট করার জন্য বিশেষ কোনো কুচক্রী মহল এ ধরণের গর্হিত কাজ করতে পারে। তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা কোনো সুস্থ্য মস্তিষ্কের মানুষের কাজ হতে পারে না। মাদক সেবীরাও মাতাল অবস্থায় এ ধরণের কাজ করতে পারে। পাশের তহশিল অফিস সংলগ্ন পশু হাসপাতালের পিচনে প্রতিদিনই মাদক সেবীদের আখড়া বসে। এদিকে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।
এ ব্যপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি আল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সত্যি দুঃখজনক। এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না যে, কারা এ কাজটি করেছে। তবে এর পেচনে যারাই কাজ করুক না কেনো দ্রুত আমরা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।
অপরদিকে, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে মন্দির পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বিশিষ্ট্য ব্যক্তিরা। সকালে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ্ খান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলু, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি আবদুল হেকিম, সহ সভাপতি হাজি তহুর আলী, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হাসনাত, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম শিপন, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জগদীশ দেব, সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল দাশ, যুগ্ম সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরি টপ্পা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শিতাংসু শেখর ধর সিতু, উপজেলা যুবলীগ নেতা বদরুল আলম টিপু, কামরুল ইসলাম, সোহেল রানা তালুকদার প্রমূখ।





























