পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শিক্ষা ও করণীয় : অধ্যক্ষ সৈয়দ রেজওয়ান অাহমদ
- Update Time : ০১:৫৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০১৯
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বছরে এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর এর আগমন হয়। মুসলমানগণ পবিত্র মাহে রমজানের রোজা রাখার পর অত্যন্ত আত্মতৃপ্তির সাথে এ দিবসটি পালন করে থাকেন।
ঈদ আরবি শব্দ। অর্থ হলো আনন্দ বা উৎসব। ঈদের দিন হলো মুসলমানদের মহামিলন, জাতীয় খুশির দিন। মহানবী স. এর বাণী, “প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আমাদের মুসলমানদের উৎসব হলো ঈদ।” (বুখারী)
বছরে আমাদের দুটি ঈদ। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ঈদের দিন সকালে সকল মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদগাহে যান এবং দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ পড়েন। মহান আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করেন।
সারা বিশ্বের মুসলামনগণ এ উৎসবটি পালন করে থাকেন। ঈদুল ফিতরের দিন দু’টি কাজ করা ওয়াজিব- ১. ফিতরা দেওয়া এবং ২. ঈদের দুই রাকাত সালাত ছয় তাকবিরের সাথে আদায় করা।
ঈদুল ফিতরের দিন ১৩টি কাজ করা সুন্নাত। যেমন- ১. শরীয়তের মধ্যে থেকে যথাসাধ্য সুসজ্জিত হওয়া, ২. গোসল করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. যথাসম্ভব উত্তম কাপড় পরা, ৫. খুশবো ব্যবহার করা, ৬. ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, ৭. ফজরের নামাজের পরই সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া, ৮. মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া (ঈদগাহে যাওয়ার আগে), ৯. ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতরা আদায় করা, ১০. ঈদের নামাজ মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে গিয়ে পড়া, ১১. ঈদগাহে এক রাস্তায় যাওয়া ও অন্য রাস্তায় ফিরে আসা, ১২. ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং ১৩. ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির বলতে বলতে যাওয়া।
ঈদের দিন সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের সালাত আদায় করা যায়। নিয়ম- নিয়ত করা, তাহরিমা বাঁধা, ছানা পড়া তারপর ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তিন তাকবির বলা তাকবির বলার সময় প্রত্যেকবার হাত কান পর্যন্ত উঠাতে৷ হবে এবং তৃতীয় তাকবির বলার পর হাত না ছেড়ে তাহরিমা বেঁধে নিবে। এমনিভাবে দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে আবার অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবেন মুসল্লি ও ইমামের সাথে তাকবির বলবে। তাকবিরে রুকুতে যাবে। নামায শেষে ইমাম সাহেব দুটি খুতবা পাঠ করবেন। প্রত্যেক মুসল্লির খুতবা শোনা ওয়াজিব।
ঈদগাহে যাবার পথে ঈদুল ফিতরের তাকবির ঈদুল আযহার তাকবিরের অনুরূপ আর ঈদের নামাজের নিয়তের সময় শুধু নাম পরিবর্তন করে পড়তে হবে।
সাদাকাতুল ফিতর : ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পূর্বে রোযার ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সম্পদ দান করা হয় তাকে সাদাকাতুল ফিতর বলে। মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মাালিক প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম নর-নারীর ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
পবিত্র রমজান মাসে রোযা পালন করে সৃষ্টি কর্তার ইবাদতে মশগুল থাকেন।
রোজা পালনে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয় তার ক্ষতিপূরণের জন্য শরিয়তে রমজানের শেষে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করে দেয়া হয়েছে। ফিতর পেলে গরিব অনাথ লোকেরা ও ঈদের খুশীতে অংশীদার হতে পারে। এভাবে ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমে আসে এবং একে অপরের মধ্যে সৌহার্দ্যভাব, ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠে। হাদিসে আছে সাদাকাতুল ফিতর দ্বারা রোজা পালানের সকল ত্রুটি দূরীভূত হয়। গরিবের পানাহার অর্থাৎ ঈদ আনন্দের ব্যবস্থা হয় (আবু সউদ)।
ঈদের দুই একদিন আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়। তবে ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে মাঠে যাওয়ার পূর্বে সাদা কাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম। ঈদের পরে ইহা আদায় করলে আদায় হবে, কিন্তু সাওয়াব কম হবে।
সারা বছরে দুদিন মহান আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের জন্য ঈদ আনন্দের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সমাজের ধনী ব্যক্তিদের উচিত এ আনন্দে গরিবদের শরিক করা। সমাজের কোনো গরিব অনাহারী ব্যক্তি যেন এ উৎসব থেকে বাদ না যায় তার খোঁজখবর রাখা ধনী লোকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে সীমাহীন প্রীতি ভালোবাসা ও কল্যাণের সংবাদ নিয়ে সেই ঈদকে যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপন করা মুসলমানদের অবশ্য কর্তব্য। লেখক: হাফিজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান অাহমদ, অধ্যক্ষ সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।




























