বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এবার খাদ্যে সংকটের পাশাপাশি রোগ বালাইয়ের চিকিৎসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। হাওরে পানি কমা শুরু হলে, কিংবা সারা বছরেই রোগ বালাই হলে এবার ওষুধ কীভাবে পাবেন সেই উৎকণ্ঠা রয়েছে হাওর পাড়ের কৃষক পরিবারে। সুনামগঞ্জে কৃষক পরিবার রয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩১৬ টি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ টি । জেলায় কার্ডধারী জেলে পরিবার রয়েছে ৮৪ হাজার ২৪৮ টি। জলাশয়ে নদীতে মাছ মরে কমে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৫ পরিবার। জেলে ও কৃষক মিলিয়ে ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৩৩ পরিবার এবার খাবার সংকটে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দরিদ্র পরিবারের বেশিরভাগ লোকজন হাওরের পানি ব্যবহার করেন।
হাওরে পানি কমা শুরু হলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, নিউমেনিয়াসহ নানা রোগ বালাই দেখা দেওয়ার আশংকা রয়েছে।
সুনামগঞ্জের দেখার হাওর পাড়ের সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন বললেন,‘হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় আমার মহাজন (বড় গৃহস্থ) আমাকে চাকুরি থেকে বাদ দিয়েছেন। এখন কাজও পাওয়া যাচ্ছে না। যারা কাজ দেবে, তাদের ঘরেই খাবার নেই। আমার সাড়ে ৪ বছরের মেয়ে’র (সাবিহা আক্তার মীম) চর্মরোগ হয়েছে। টাকার অভাবে দেখাতে পারছি না।’
একই গ্রামের ধন মিয়া জানালেন, তাঁর ৫ বছরের ভাতিজি লোবনার কানে সমস্যা, ৩ মাস আগেই ডাক্তার দেখাতে চেয়েছিলেন। টাকা বেশি লাগবে,
এজন্য পরিবারের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ধান উঠানোর পর চিকিৎসা করাবেন। হাওরের সকল ধান তলিয়ে যাবার পর এখন চিকিৎসা করানোর চিন্তা বাদ দিয়ে খেয়ে-বেঁচে থাকবেন কীভাবে এই চিন্তায় ব্যস্ত সকলে।’
হাওর পাড়ের মানুষের এমন দুশ্চিন্তার সময় আশার কথা শুনালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বুধবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা মডেল হাইস্কুল এ- কলেজ চত্বরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের সময় বলেছেন,‘দুর্দশাগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১২৮ টি মেডিকেল টিম সারা জেলায় কাজ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা সদর হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতালে এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্দশাগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।’ শহরতলির লক্ষণ¤্রী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের আয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ’র) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এখানকার ত্রাণ বিতরণের আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন,‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য যা যা বলেছেন, সব কিছুই আমরা সকলে মিলে বাস্তবায়ন করবো, দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই। একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না।’ এখানে মন্ত্রী হাম-রুবেলা রোগের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচীতে বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. ইহতেসামুল হক চৌধুরী দুলাল, সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, ডা. গৌতম রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূর হোসেনের সঞ্চালনায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বক্তব্য রাখেন। পরে মন্ত্রী ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।
বিকাল ৩ টায় মন্ত্রী গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এখানে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ বড়–য়া ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কৃষক পরিবারগুলো চিন্তিত চিকিৎসাসেবা নিয়ে
- Update Time : ১১:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
























