দক্ষিণ সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ক্ষতিগ্রস্থ ৩শতাধিক ঘরবাড়ি
- Update Time : ১১:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে :: কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের বেশ ক’টি গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, মসজিদসহ গাছপালা। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এসব এলাকায়। এসময় ঘর ভেঙ্গে একজন মহিলাসহ ৬ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সহস্রাধিক গাছপালা ভেঙ্গে পড়া ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় বৈদ্যুতিক খুটি ভেঙ্গে পড়ে বন্ধ হয়ে আছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বোরবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধমকা বাতাস বইতে শুরু করে। কিছু বুঝে উঠার আগে ঈশান কোন থেকে প্রবল বেগে তেড়ে আসা তুফান লণ্ডভণ্ড করে দেয় সবকিছু। এসময় একজন মহিলাসহ ন্যূনতম দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত মহিলা পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের ইশাদ আলীর স্ত্রী পলি বেগম (৪৫)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজন একই ইউনিয়নের পশ্চিম কান্দিগাঁও গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে ফরিদ মিয়া (৪০)। ঘরবাড়ি,গাছপালাসহ বিভিন্ন মসজিদ মন্দিরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চালও উপড়ে ফেলে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বসতঘর, গরুর গোয়াল, মিলঘরসহ প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। অস্তিত্বহীনভাবে ভেঙ্গে পড়েছে অর্ধ শতাধিক ঘর। সহস্রাধিক গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা ব্যাপী ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সঠিকভাবে নিরুপন করা না হলেও ক্ষতির পরিমান কোটি টাকার উপরে হবে বলে ধারণা করেছেন অনেকে।
সূত্র জানায়- উপজেলার প্রবেশ পথ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক, মদনপুর-দিরাই সড়ক, পাগলা-জগন্নাথপুর ভায়া সড়কসহ সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় বড় গাছ উপড়ে পরে ছিলো। এতে রাতভর দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ যাত্রীবাহী সবধরণের যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝড়ের সময় থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলো না এসব এলাকায়।
সোমবার সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের পর গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে। মানুষের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। কোথাও গাছ ভেঙ্গে পড়ে আছে, কোথাও ঘর। জয়কল ইউনিয়নের কামরূপদং গ্রামে রাস্তার পাশে ঘর ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পূর্ব বীর ইউনিয়নেও অর্ধ শতাধিক ঘর ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। দরগাপাশার সিচনী, মৌগাঁও, ছয়হাড়া, হরিনগরসহ আশপাশের সবগ্রাম মিলিয়ে অর্ধশতাধিক ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন, কান্দিগাঁও, ইনাতনগর, কাদিপুর, ব্রাহ্মণগাঁও, চন্দপুর, রসুলপুর, পালপাড়া, নিদনপুরসহ সব গ্রামে শতাধিক ঘর ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে। এদের মধ্যে কান্দিগাঁও পশ্চিমের মৃত ময়না মিয়ার পাঁচ ছেলে ফরিদ মিয়া, শাহাব উদ্দিন, সালাম মিয়া, দিলাল মিয়া, শামীম আহমদ, শত্রুমর্দন গ্রামের ইশাদ আলী, চন্দপুর গ্রামের রিয়ান উদ্দিন, বাবুল মিয়া, কান্দিগাঁও গ্রামের আউয়াল উদ্দিন, সিদ্দেকুর রহমানসহ নিদনপুরের একজনের বসতঘর একদম উপড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
এদিকে বৈশাখী তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড এলাকা পরিদর্শন করেছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালাম, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরুল হক, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানন নূর কালাম। তারা নিজেদের এলাকা পরিদর্শন করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।





























