০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ দলের মতামত- পানি দূষণ-দুর্গন্ধের মাত্রা কমে আসছে

  • Update Time : ০১:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শুক্রবার পানি দূষণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মৎস্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল ৩ টি বৃহৎ হাওরের পানি পরীক্ষা করেছেন। হাওরগুলো হচ্ছে তাহিরপুর ও ধর্মপাশার টাঙ্গুয়ার হাওর, তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওর এবং বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওর। এরমধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওরে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ কম এবং পানি স্বাভাবিকের কাছাকাছি পাওয়া গেছে, মাটিয়ান হাওর ও শনির হাওরে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ একটু বেশি, তবে ঐ দুই হাওরের পানির দূষণের অবস্থারও কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞদলের নেতৃত্বদানকারী মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ মেহেদী হাসান। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং দুদক’র ৬ সদস্যের তদন্ত দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শনির হাওরের ডুবে না যাওয়া বাঁধের পরিমাপ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান। দুদক’র তদন্ত দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদক পরিচালক বেলাল হোসেন।
মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ মেহেদী হাসান বলেন, ‘এই       মাসের ১৬ তারিখ থেকে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। আমরা জেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছেন টাঙ্গুয়ার হাওরে ধান কম ছিল, পঁচেছে কম, পানি ভাল ছিল, এজন্য মাছও কম মরেছে। মাটিয়ান ও করচার হাওরে ধান বেশি ছিল। ওখানে ধান বেশি পঁচায় পানির গুণাগুণ খারাপ ছিল। মাছ বেশি মারা গেছে। এখনও দুর্গন্ধ আছে।’
তিনি দাবি করেন, গত দুই দিন ঝড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন অবস্থা ভাল হচ্ছে, মাছ মরার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ করচার হাওরে চুন ছিটানোয় পানির অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে যে পরিমাণ চুন ছিটানো হচ্ছে, বিশাল হাওরের জন্য তার পরিমাণ যথেষ্ট নয়।’
মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সিলেটের মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র দাস।
করচার হাওরে বিকাল সাড়ে ৫ টায় চুন ছিটানোর সময় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুলেমান তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেছেন,‘কাল থেকে তারা হাওরে পরীক্ষা কার্যক্রম চালাবেন।’
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের যেসব বিলে-জলমহালে বা হাওরে মাছের মড়ক লেগেছে সেখানে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে এক সপ্তাহ মাছ ধরা নিষেধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ দলের মতামত- পানি দূষণ-দুর্গন্ধের মাত্রা কমে আসছে

Update Time : ০১:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শুক্রবার পানি দূষণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মৎস্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল ৩ টি বৃহৎ হাওরের পানি পরীক্ষা করেছেন। হাওরগুলো হচ্ছে তাহিরপুর ও ধর্মপাশার টাঙ্গুয়ার হাওর, তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওর এবং বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওর। এরমধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওরে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ কম এবং পানি স্বাভাবিকের কাছাকাছি পাওয়া গেছে, মাটিয়ান হাওর ও শনির হাওরে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ একটু বেশি, তবে ঐ দুই হাওরের পানির দূষণের অবস্থারও কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞদলের নেতৃত্বদানকারী মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ মেহেদী হাসান। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং দুদক’র ৬ সদস্যের তদন্ত দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শনির হাওরের ডুবে না যাওয়া বাঁধের পরিমাপ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান। দুদক’র তদন্ত দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদক পরিচালক বেলাল হোসেন।
মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ মেহেদী হাসান বলেন, ‘এই       মাসের ১৬ তারিখ থেকে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। আমরা জেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছেন টাঙ্গুয়ার হাওরে ধান কম ছিল, পঁচেছে কম, পানি ভাল ছিল, এজন্য মাছও কম মরেছে। মাটিয়ান ও করচার হাওরে ধান বেশি ছিল। ওখানে ধান বেশি পঁচায় পানির গুণাগুণ খারাপ ছিল। মাছ বেশি মারা গেছে। এখনও দুর্গন্ধ আছে।’
তিনি দাবি করেন, গত দুই দিন ঝড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন অবস্থা ভাল হচ্ছে, মাছ মরার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ করচার হাওরে চুন ছিটানোয় পানির অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে যে পরিমাণ চুন ছিটানো হচ্ছে, বিশাল হাওরের জন্য তার পরিমাণ যথেষ্ট নয়।’
মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সিলেটের মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র দাস।
করচার হাওরে বিকাল সাড়ে ৫ টায় চুন ছিটানোর সময় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুলেমান তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেছেন,‘কাল থেকে তারা হাওরে পরীক্ষা কার্যক্রম চালাবেন।’
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের যেসব বিলে-জলমহালে বা হাওরে মাছের মড়ক লেগেছে সেখানে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে এক সপ্তাহ মাছ ধরা নিষেধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ