সিলেটে জামায়াতের এতো লোক ভোট গেল কোথায়! ৫ মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
- Update Time : ০৮:১০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব মিয়া :: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লোকের উপস্থিতিতে শেষ নির্বাচনী প্রচারণা করে নগরবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন মহানগর জামায়াতের অামীর মেয়র প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। অন্যান্য প্রার্থীদের ভাড়াটিয়া লোকও কম ছিলনা। নির্বাচন শেষ হতে না হতেই সচেতন নগরবাসীর প্রশ্ন জামায়াতের এতো লোক, ভোট গেল কোথায়? এমন প্রশ্নে অনলাইন ফেসবুক উত্তাল ছিল।
বিশ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা অারিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মেয়র পদে নির্বাচন করে শেষ পর্যন্ত জামানত হারাতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সিলেট মহানগরীর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ ৫ প্রার্থী। বাকিরা হলেন ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, আবু জাফর, বদরুজ্জামান সেলিম ও মো. এহছানুল হক তাহের। নির্বাচনে এই পাঁচ প্রার্থী জামানত টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন।
সিলেট নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে প্রকাশিত ১৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা-২০১০ এর ৪৪ বিধির ৩ উপবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ বা ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনও প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে তার জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসেবে মেয়র প্রার্থীদের জামানত টিকিয়ে রাখতে ২৪ হাজারের বেশি ভোট পেতে হবে। কিন্তু ৫ প্রার্থীর কেউই এ পরিমাণ ভোট পাননি।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটারের বিপরীতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬শত ৫৭ জন। যা সিলেট নগরীর মোট ভোটারের ৬২ শতাংশ। সেই হিসেবে জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রার্থীদের ১৬ হাজারের মত ভোট পেতে হতো। কিন্তু ঘোষিত ফলে দেখা যায়- নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মহানগর জামায়াতে ইসলামির আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টেবিল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯ শত ৫৪ ভোট; ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১ শত ৯৫ ভোট; সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মই প্রতীকে পেয়েছেন ৯ শত ভোট; নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বাসগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫ শত ৮২ ভোট; এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের হরিণ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ শত ৯২ ভোট।
এছাড়া স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৮ শত ৭৭ জন। স্থগিত দুই কেন্দ্রের সবগুলো ভোট পেলেও এই পাঁচ প্রার্থীর কারোরই জামানত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।




























