০৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে দাদন ব্যবসা জমজমাট, পুলিশের অভিযান শীঘ্রই

  • Update Time : ০২:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ জুন ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা চলছে। ১০০০ টাকায় মাসে সুদ ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীরা। এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাদন ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে প্রতিনিয়ত দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আসছেন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন দাদন ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানায়। আজ মঙ্গলবার রাতে বিশ্বনাথ থানার ফেইসবুকে আইডিতে এমন তথ্য জানায় পুলিশ।

থানা পুলিশের ফেইসবুক আইডিতে উল্লেখ করা হয়, ইদানিং বিশ্বনাথের বিভিন্ন এলাকায় সুদখোরের হাতে নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ, লাঞ্চিত হওয়ার সংবাদ প্রায় সময়ই পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে সুদখোরেরা নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানীসহ বিভিন্ন ভাবে ক্ষতির দিকে ধাবিত করছে। যা গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের নজরে পড়ে। সুদখোরের কাছে জিম্মি হওয়া অনেক নিরীহ লোকজন পুলিশের কাছে এসে তাদের ন্যায্য বিচার দাবী করছে। পুলিশ প্রশাসন এব্যাপারে শীঘ্রই সুদখোরদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে এবং কোন লোক সুদখোরদের হাতে ক্ষতিগ্রস্থ হলে থানা পুলিশকে অবগত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা জোর পূর্বক আদায়ে থানা প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করা হল।

জানা গেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এককভাবে আবার কোথাও কয়েকজনে মিলে সমিতির নামে চালিয়ে যাচ্ছে দাদন ব্যবসা। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক এব্যবসার ব্যাপক প্রসার লক্ষ করা গেছে। দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে সাধারণ মানুষ টাকা নিতে এলে তারা মৌখিকভাবে চুক্তি শেষে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ১৫০ অথবা ৩০০ টাকার ২ সেট স্ট্যাম্প কিনে নেয়। যার এক সেটে চুক্তিপত্র লিখে একাধিক সাক্ষীসহ একজন জিম্মাদারের স্বাক্ষর নেয়া হয় এবং অপর সাদা স্ট্যাম্প সেটে কৌশলে ঋণগ্রহীতার স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়। অপরদিকে ঋণগ্রহীতা যদি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী হয় সে ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্পসহ ব্যাংক একাউন্টের ১টি সাদা চেকে টাকার অঙ্ক না লিখেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়।

কোনো কারণবশত ঋণগ্রহীতা চুক্তিমাফিক হারে সুদের টাকা না দিতে পারলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা সুদসহ ঋণের টাকা দিতে বিলম্ব করলে ওই সাদা স্ট্যাম্পে দাদন ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রহীতার জমিজমার দাগ খতিয়ান বসিয়ে তার বিপরীতে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক লিখে। ব্যাংকের চেকে মোটা অঙ্কের টাকা বসিয়ে তার ফটোকপি করে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে মামলা-মোকদ্দমার হুমকি দেয়া হয়। তখন ঋণগ্রহীতা মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে জমিজমা বিক্রি করে তাদের চাহিদামাফিক টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। আর চাকরিজীবী হলে তাদের ব্যাংক চেকে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে দাবি করে, তখন চাকরিজীবী ঋণগ্রহীতারা মানসম্মান ও চাকরি রক্ষায় দাদন ব্যবসায়ীদের চাহিদামাফিক টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে এলাকার অনেক পরিবার এখন সর্বস্বান্ত। তাদের দৌরাত্ম্যে এলাকায় কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহসও পায় না বলে এলাকার কয়েকজন জানান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিশ্বনাথে দাদন ব্যবসা জমজমাট, পুলিশের অভিযান শীঘ্রই

Update Time : ০২:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ জুন ২০১৮

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা চলছে। ১০০০ টাকায় মাসে সুদ ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীরা। এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাদন ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে প্রতিনিয়ত দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আসছেন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন দাদন ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানায়। আজ মঙ্গলবার রাতে বিশ্বনাথ থানার ফেইসবুকে আইডিতে এমন তথ্য জানায় পুলিশ।

থানা পুলিশের ফেইসবুক আইডিতে উল্লেখ করা হয়, ইদানিং বিশ্বনাথের বিভিন্ন এলাকায় সুদখোরের হাতে নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ, লাঞ্চিত হওয়ার সংবাদ প্রায় সময়ই পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে সুদখোরেরা নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানীসহ বিভিন্ন ভাবে ক্ষতির দিকে ধাবিত করছে। যা গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের নজরে পড়ে। সুদখোরের কাছে জিম্মি হওয়া অনেক নিরীহ লোকজন পুলিশের কাছে এসে তাদের ন্যায্য বিচার দাবী করছে। পুলিশ প্রশাসন এব্যাপারে শীঘ্রই সুদখোরদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে এবং কোন লোক সুদখোরদের হাতে ক্ষতিগ্রস্থ হলে থানা পুলিশকে অবগত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা জোর পূর্বক আদায়ে থানা প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করা হল।

জানা গেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এককভাবে আবার কোথাও কয়েকজনে মিলে সমিতির নামে চালিয়ে যাচ্ছে দাদন ব্যবসা। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক এব্যবসার ব্যাপক প্রসার লক্ষ করা গেছে। দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে সাধারণ মানুষ টাকা নিতে এলে তারা মৌখিকভাবে চুক্তি শেষে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ১৫০ অথবা ৩০০ টাকার ২ সেট স্ট্যাম্প কিনে নেয়। যার এক সেটে চুক্তিপত্র লিখে একাধিক সাক্ষীসহ একজন জিম্মাদারের স্বাক্ষর নেয়া হয় এবং অপর সাদা স্ট্যাম্প সেটে কৌশলে ঋণগ্রহীতার স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়। অপরদিকে ঋণগ্রহীতা যদি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী হয় সে ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্পসহ ব্যাংক একাউন্টের ১টি সাদা চেকে টাকার অঙ্ক না লিখেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়।

কোনো কারণবশত ঋণগ্রহীতা চুক্তিমাফিক হারে সুদের টাকা না দিতে পারলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা সুদসহ ঋণের টাকা দিতে বিলম্ব করলে ওই সাদা স্ট্যাম্পে দাদন ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রহীতার জমিজমার দাগ খতিয়ান বসিয়ে তার বিপরীতে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক লিখে। ব্যাংকের চেকে মোটা অঙ্কের টাকা বসিয়ে তার ফটোকপি করে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে মামলা-মোকদ্দমার হুমকি দেয়া হয়। তখন ঋণগ্রহীতা মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে জমিজমা বিক্রি করে তাদের চাহিদামাফিক টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। আর চাকরিজীবী হলে তাদের ব্যাংক চেকে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে দাবি করে, তখন চাকরিজীবী ঋণগ্রহীতারা মানসম্মান ও চাকরি রক্ষায় দাদন ব্যবসায়ীদের চাহিদামাফিক টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে এলাকার অনেক পরিবার এখন সর্বস্বান্ত। তাদের দৌরাত্ম্যে এলাকায় কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহসও পায় না বলে এলাকার কয়েকজন জানান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ