০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরের সন্তানরা দেশ বিদেশে রাজনৈতিক দল চালাচ্ছেন :: ভাঙ্গা রাস্তা দেখার কেউ নেই!

  • Update Time : ১০:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব মিয়া :: রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, জনপ্রতিনিধি,  সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ দেশ-বিদেশ রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ শীর্ষস্থানে।
৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত প্রবাসি অধ্যাসিত জগন্নাথপুর উপজেলা। জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ বসবাস করছেন।
প্রবাসি উপজেলা হিসেবে রয়েছে দেশ-বিদেশ পরিচিতি। সাধারন মানুষ রাস্তা সংস্কারের জন্য অান্দোলন শুরু করলে জোরা তালি দিয়ে নামেমাত্র রোডের উপরে লেপ দিয়ে সাধারন মানুষের অান্দোলন বন্ধ করা হয়।
বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় মানুষ অাসলে জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার এ বেহাল দশা দেখে গাড়িতে পাশের সিটের যাত্রীকে প্রশ্ন করেন, জগন্নাথপুরের রাস্তাঘাঠের এমন অবস্তা কেন ?।  অাওয়ামীলীগের যুক্তরাজ্য শাখার সেক্রেটারীর বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলায়, বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সেক্রেটারীসহ অার অনেকের বাড়িও জগন্নাথপুর উপজেলায়।
এ উপজেলার মানুষের সিংহভাগ টাকায় দেশ বিদেশে অনেক রাজনৈতিক দল চলে কিন্তু তাদের উপজেলায় রাস্তাগুলোর এ অবস্তা কেন?

জগন্নাথপুর উপজেলার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রাণ কেন্দ্রে জগন্নাথপুর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থা।

 

ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীগন ও যানবাহন। বেহাল সড়ক দিয়ে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

 

 

জগন্নাথপুর শহর থেকে সিলেটের রাস্তার মধ্যেখানে হাসপাতাল পয়েন্টে ও মিরপুর, কেউনবাড়িসহ রাস্তায় বড় বড় ভাঙা রয়েছে, সৈয়দপুর বাজার থেকে গোয়ালা বাজারের রাস্তার মধ্যেখানে শাহারপাড়া মা ম্যানশন, নয়াবন্দর বাজার সড়কের অবস্থা বেহাল দশা।

 

 

বৃষ্টির পানি এসব গর্তের মাঝে জমে থাকায় যাত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেবুতে রাস্তা সংস্কারের দাবি তুলেন ও রাস্তা সংস্কার নাহওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারন মানুষ জগন্নাথপুর হাসপাতাল পয়েন্টে সড়কের বড় বড় গর্তের মাছে ধান রোপন ও মাছ চাষ করেন, এসময় সড়কে ছোট বড় গাড়ি বন্ধ করে রাখেন জনতা।

 

 

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সড়কগুলো। কয় বছর পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র তত্ত্বাবধানে এই সড়কের উন্নয়ন হলেও বছর দুই যেতে না যেতেই সড়কের নানা স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় এ সড়ক নিয়ে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ এর মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হয়।

 

 

এ অবস্থায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার মানুষ যানবাহনে চলাচল করেন।

 

 

এই সড়কগুলোতে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী মাওলানা ইমরান অাহমদ জানান, বিভিন্ন গ্রামথেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উপজেলা সদরে অাসেন কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বৃষ্টির পানিতে কাঁদা ময়লার কারনে মানুষ চলাচল করতে পারেনি, যা ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হয়।

 

 

মাওলানা ইমরান অাহমদ জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার ভাঙ্গা সড়কগুলো সংস্কার না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত সড়কগুলো বৃষ্টির দিন অাসার অাগে অাগে সংস্কার করে, যান চলাচল উপযোগী করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করি।

 

 

বিভিন্ন পেশার মানুষ জানান, প্রতিদিন জগন্নাথপুর শহরে আসতে হয় কিন্তু এমন ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে ইচ্ছে হয় না। আমরা এ সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার চাই।’

 

জগন্নাথপুর সামাজিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সৈয়দ তুফায়েল অাহমদ জানান, ‘ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে আমাদের কষ্টের শেষ নাই। সড়কটি সংস্কার না হলে এ ভোগান্তি কমবে না। বৃষ্টির দিন অাসার অাগে অাগে ভাঙ্গা সড়কগুলো সংস্কার জরুরী।

 

 

পৌর শহরের হবিবপুর অালিয়া মাদ্রাসার ছাত্র অলিউর রহমান মিহাদ জানান, গাড়িতে উঠলেই ডর লাগে। ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় মনে হয় জান হাতো রইছে।

 

 

সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরিক্ষার্থী সৈয়দ ফাহিম উদ্দিন জানান, সড়কের এই গর্তগুলো সংস্কার জরুরি। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিরা সড়কগুলো সংস্কারে এগিয়ে অাসা উচিত।

 

 

সিএনজি চালক কয়েকজন জানান, পেটের দায় গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়। ভাঙা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে মন চায়না কিন্তু নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

 

জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি উপজেলার বিভিন্ন ভাঙ্গা রাস্তাগুলো বৃষ্টির দিন অাসার অাগে অাগে সংস্কার করা হোক।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরের সন্তানরা দেশ বিদেশে রাজনৈতিক দল চালাচ্ছেন :: ভাঙ্গা রাস্তা দেখার কেউ নেই!

Update Time : ১০:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০১৭

ইয়াকুব মিয়া :: রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, জনপ্রতিনিধি,  সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ দেশ-বিদেশ রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ শীর্ষস্থানে।
৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত প্রবাসি অধ্যাসিত জগন্নাথপুর উপজেলা। জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ বসবাস করছেন।
প্রবাসি উপজেলা হিসেবে রয়েছে দেশ-বিদেশ পরিচিতি। সাধারন মানুষ রাস্তা সংস্কারের জন্য অান্দোলন শুরু করলে জোরা তালি দিয়ে নামেমাত্র রোডের উপরে লেপ দিয়ে সাধারন মানুষের অান্দোলন বন্ধ করা হয়।
বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় মানুষ অাসলে জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার এ বেহাল দশা দেখে গাড়িতে পাশের সিটের যাত্রীকে প্রশ্ন করেন, জগন্নাথপুরের রাস্তাঘাঠের এমন অবস্তা কেন ?।  অাওয়ামীলীগের যুক্তরাজ্য শাখার সেক্রেটারীর বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলায়, বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সেক্রেটারীসহ অার অনেকের বাড়িও জগন্নাথপুর উপজেলায়।
এ উপজেলার মানুষের সিংহভাগ টাকায় দেশ বিদেশে অনেক রাজনৈতিক দল চলে কিন্তু তাদের উপজেলায় রাস্তাগুলোর এ অবস্তা কেন?

জগন্নাথপুর উপজেলার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রাণ কেন্দ্রে জগন্নাথপুর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থা।

 

ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীগন ও যানবাহন। বেহাল সড়ক দিয়ে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

 

 

জগন্নাথপুর শহর থেকে সিলেটের রাস্তার মধ্যেখানে হাসপাতাল পয়েন্টে ও মিরপুর, কেউনবাড়িসহ রাস্তায় বড় বড় ভাঙা রয়েছে, সৈয়দপুর বাজার থেকে গোয়ালা বাজারের রাস্তার মধ্যেখানে শাহারপাড়া মা ম্যানশন, নয়াবন্দর বাজার সড়কের অবস্থা বেহাল দশা।

 

 

বৃষ্টির পানি এসব গর্তের মাঝে জমে থাকায় যাত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেবুতে রাস্তা সংস্কারের দাবি তুলেন ও রাস্তা সংস্কার নাহওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারন মানুষ জগন্নাথপুর হাসপাতাল পয়েন্টে সড়কের বড় বড় গর্তের মাছে ধান রোপন ও মাছ চাষ করেন, এসময় সড়কে ছোট বড় গাড়ি বন্ধ করে রাখেন জনতা।

 

 

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সড়কগুলো। কয় বছর পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র তত্ত্বাবধানে এই সড়কের উন্নয়ন হলেও বছর দুই যেতে না যেতেই সড়কের নানা স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় এ সড়ক নিয়ে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ এর মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হয়।

 

 

এ অবস্থায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার মানুষ যানবাহনে চলাচল করেন।

 

 

এই সড়কগুলোতে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী মাওলানা ইমরান অাহমদ জানান, বিভিন্ন গ্রামথেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উপজেলা সদরে অাসেন কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বৃষ্টির পানিতে কাঁদা ময়লার কারনে মানুষ চলাচল করতে পারেনি, যা ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হয়।

 

 

মাওলানা ইমরান অাহমদ জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার ভাঙ্গা সড়কগুলো সংস্কার না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত সড়কগুলো বৃষ্টির দিন অাসার অাগে অাগে সংস্কার করে, যান চলাচল উপযোগী করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করি।

 

 

বিভিন্ন পেশার মানুষ জানান, প্রতিদিন জগন্নাথপুর শহরে আসতে হয় কিন্তু এমন ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে ইচ্ছে হয় না। আমরা এ সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার চাই।’

 

জগন্নাথপুর সামাজিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সৈয়দ তুফায়েল অাহমদ জানান, ‘ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে আমাদের কষ্টের শেষ নাই। সড়কটি সংস্কার না হলে এ ভোগান্তি কমবে না। বৃষ্টির দিন অাসার অাগে অাগে ভাঙ্গা সড়কগুলো সংস্কার জরুরী।

 

 

পৌর শহরের হবিবপুর অালিয়া মাদ্রাসার ছাত্র অলিউর রহমান মিহাদ জানান, গাড়িতে উঠলেই ডর লাগে। ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় মনে হয় জান হাতো রইছে।

 

 

সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরিক্ষার্থী সৈয়দ ফাহিম উদ্দিন জানান, সড়কের এই গর্তগুলো সংস্কার জরুরি। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিরা সড়কগুলো সংস্কারে এগিয়ে অাসা উচিত।

 

 

সিএনজি চালক কয়েকজন জানান, পেটের দায় গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়। ভাঙা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে মন চায়না কিন্তু নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

 

জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি উপজেলার বিভিন্ন ভাঙ্গা রাস্তাগুলো বৃষ্টির দিন অাসার অাগে অাগে সংস্কার করা হোক।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ