১০ মাস পর লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরেছেন রায়হান
- Update Time : ০৪:৫৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার এবং দীর্ঘ ১০ মাস মাফিয়াদের বন্দিশালায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরী (৩০)। ২৪ মে রাতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) ও লিবিয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তবে ফিরে এলেও তার শরীরে রয়ে গেছে নির্যাতনের বীভৎস চিহ্ন; ভেঙে দেওয়া হয়েছে মেরুদণ্ড, শরীরে রয়েছে অসংখ্য ক্ষত। রায়হান চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে। তার এই ফিরে আসায় পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও কাটেনি আতঙ্ক। বাড়ি ফিরে লিবিয়ার বন্দিশালার সেই ভয়াবহ দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রায়হান। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ মাস তাকে সূর্যের আলো দেখতে দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন রাইফেলের নলের মুখে রাখা হতো। সারাদিনে মাত্র একটি শুকনো রুটি খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে তাকে। “বন্দি অবস্থায় কোনোদিন ভাত চোখে দেখিনি,” বলেন রায়হান।
তিনি আরও জানান, দুই জন সশস্ত্র প্রহরী সবসময় তাকে পাহারা দিত। পাচারকারীরা তাকে মারপিট করে কোমরের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। এমনকি তার হাতের আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল। তাকে দিয়ে বাধ্য করানো হতো পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা চাইতে। নির্দিষ্ট ভাষায় কথা না বললে চলত অমানুষিক নির্যাতন। ইতালিতে পাঠানোর নাম করে বিভিন্ন দফায় তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় পাচারকারী চক্র।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনে একদিন জীবন বাজি রেখে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন রায়হান ও তার সাথে থাকা আরও কয়েকজন। তিনি জানান, এক রাতে এক প্রহরী খাবার আনতে বাইরে যায় এবং অন্যজন ঘুমিয়ে পড়ে। সেই সুযোগে আমরা তাকে বেঁধে ফেলি এবং কক্ষের তালা ভেঙে পালিয়ে যাই। পরে লিবিয়ার বেনগাজী পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তাদের জেলে পাঠানো হয়। সেখানে দুই মাস থাকার পর আইওএম এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ‘আউট পাস’ নিয়ে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তিনি। তার সাথে আরও ১৭০ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। রায়হান জানান, তার সহপাঠী ও বন্ধু শামীমই তাকে এই মরণফাঁদে ফেলেছে। প্রথমে তাকে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব নেওয়া হয়। সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। শামীম এবং তার সহযোগী রাকিব মিলে এই পুরো পাচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
এ ঘটনায় রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরী ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শামীম ও তার পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রায়হান ফিরে আসার পর আসামিরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য পরিবারটিকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। আবু তাহের চৌধুরী বলেন, জমি ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা দিয়েছি ওদের, তবুও আমার ছেলেকে ছাড়েনি। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি, কিন্তু এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বর্তমানে রায়হান গুরুতর অসুস্থ এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এই পাচারকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবি করেছেন।




























