জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নেপথ্যে
- Update Time : ০৫:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :: জগন্নাথপুরে অাওয়ামীলীগের দলিয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সোমবার জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদটি হারাতে হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দলিয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট এক হলে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর ভোটকে খুব সহজেই ছাড়িয়ে যেত।
আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন নিজ দলের কিছু নেতারা। আওয়ামীলীগের এ কোন্দলের ফায়দা নিয়ে জয়ের মালা গলায় পরেছেন বিএনপির ২ প্রার্থী।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহের কারণে হারতে হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে। কিন্তু মূল লড়াইয়েই ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তাকে তৃতীয় অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
দুজনের এ বিরোধকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানের পদটি দখল করেছেন বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান। যিনি গতবার নির্বাচনে জিতেও পরে উপনির্বাচনে হার মেনেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসেনের কাছে। এবার জয়ী হয়ে প্রতিশোধ নিলেন আতাউর রহমান।
নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান ধানের শীষে ভোট পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯১৪টি, আওয়ামীলীগের মূল প্রার্থী আকমল হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৯৮ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬১৫ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামীলীগের মুখ রেখেছেন বিজন কুমার দেব। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন ২০ হাজার ২৪২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী হাজি সোহেল আহমদ খান টুনু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৩৮টি। চেয়ারম্যান পদে অবশ্য বিএনপি প্রার্থীর কাছে হার মানতে হয়েছে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে।
আতাউর রহমানের সাথে তাল মিলিয়ে ভোট পাওয়ায় বিএনপির প্রার্থী ফারজানা আক্তার বিজয়ী হয়েছেন।
জমিয়তের প্রার্থী ছালিম আহমদ কাসেমী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করায় বিএনপির প্রার্থী হাজি সুহেল আহমদ খান টুনুর পরাজয় হয়েছে।
বিএনপির মাঠের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভে বলেন, জমিয়ত নেতা শাহিনুর পাশা বিএনপির সাথে সমন্বয় নাকরে জমিয়তের প্রার্থী দিয়ে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ধানের শীষকে পরাজিত করেছেন, এ অাসনে অাগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহিনুর পাশা চৌধুরীকে বিএনপিসহ ২০দলিয় জোট অার ছাড় দেবেনা।
বিএনপি প্রার্থী ফারজানা বেগম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২৮ হাজার ১৪৬ আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজেরা বারী নৌকা প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ৮৩০টি ভোট পেয়েছেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোটাদের উপস্থিতি ছিল কম। ৫৯ ভাগ ভোটারই কেন্দ্রে হাজির ছিলেন না।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ না থাকায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুরু থেকেই অনেকটাই প্রাণ হারিয়ে ফেলেছিল। ভোটের দিন এরই প্রভাব পড়ে।





























