সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২
- Update Time : ০৮:৫১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার আহসানমারা সেতু এলাকায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জগামী একটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই যাত্রী জাহের (৩০) নিহত হন। নিহত জাহের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের আলফা উদ্দিনের ছেলে। এই দুর্ঘটনায় লেগুনার আরও ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন—শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের আব্দুল জাহান (৪০), তাঁর ৮ বছর বয়সী শিশু কন্যা লুৎফা বেগম এবং ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের তৌরিজ মিয়া। স্থানীয় জনতা ও হাইওয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে একই মহাসড়কের পাগলা মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় পৃথক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। এদিকে বুধবারের দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘাতক বাসটি দ্রুত পালিয়ে গেলেও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সেটি জব্দের চেষ্টা চালাচ্ছে। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। পুলিশ নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, এই আঞ্চলিক মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও দূরপাল্লার বাসের বেপরোয়া গতির কারণেই বারবার এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।




























