মেয়ে সেজে ইতালি প্রবাসীকে বিয়ে, বিপুল টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে
- Update Time : ০১:০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: মেয়ে সেজে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় তৈরি করে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠেছে নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, কথিত ওই স্ত্রীর বাবা পরিচয়ে নিজের বাবাকেও প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেকে আটক করেছে লালপুর থানা পুলিশ। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- নাটোরের লালপুরে উপজেলার মো. শান্ত আলী (২০) ও তার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)।
লালপুর থানা সূত্রে জানা যায়, শান্ত আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মতো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। ওই পরিচয়ে নিজেকে তরুণী পরিচয় দিয়ে তিনি এক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং কথিতভাবে বিয়ের সম্পর্কেও জড়ান তারা। এরপর প্রতারণার কৌশল আরও বিস্তৃত করেন শান্ত আলী।
কথিত ‘সুমাইয়া আক্তার’এর বাবা পরিচয়ে নিজের বাবা শহিদুল ইসলামকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলান। বাবা-ছেলে মিলে নিজেদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কথাবার্তা চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে ওই প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ওই প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ, ভুয়া নারী পরিচয় এবং পারিবারিক সম্পর্কের অভিনয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোন কোন কৌশলে টাকা নেওয়া হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
জানা যায়, প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে লালপুর থানার এসআই এজে মিন্টুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার সকালে গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় শান্ত আলীর বাড়ির টিনসেট ভবনের উত্তরমুখী শয়নকক্ষ থেকে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপকে কাজে লাগিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে ওই প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে অর্থ আদায় করেছেন। জব্দ করা মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে প্রতারণার পরিধি ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো শফিকুল ইসলাম জানান এ ঘটনায় আটক শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে লালপুর থানায় মামলা হয়েছে। তিনি আরো জানান আটক বাবা ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




























