০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়া গমন : ফাঁদে পা দিচ্ছেন সিলেটের অনেকে

  • Update Time : ০৯:১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ আগস্ট ২০২২
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া। তবে কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন ফাঁদে পা দিয়েছেন সিলেট বিভাগের অনেকে। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের বাসিন্দা মো. আরিফ (ছদ্মনাম)। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ আসছে শুনে কয়েকটি এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কিন্তু প্রত্যেকটি এজেন্সিই তার কাছে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি টাকা দাবি করে। বাধ্য হয়ে তিনি একটি এজেন্সির সঙ্গে আড়াই লাখের বেশি টাকায় চুক্তি করেন। এরই মধ্যে তিনি ওই এজেন্সিকে এক লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনার কারণে তিন বছর চেষ্টা করেও বিদেশে যেতে পারিনি। আমার এক মামা থাকে মালয়েশিয়ায়। তিনি জানালেন, সরকার ৮০ হাজার টাকায় লোক নেবে। এরপর কয়েকটি এজেন্সিতে কথা বলেছি, সবাই বলে ৮০ হাজারে তারা পারবে না। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে স্থানীয় এক এমপির এজেন্সিতে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ টাকা জমা দিয়েছি। বাকিটা ভিসা আসার পর দিতে হবে।’ শুধু আরিফ-ই নন, তাঁর মতো সিলেটের অনেকে এভাবে না বুঝে বা লোভে পড়ে ফাঁদে পা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত ৬ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ একটি বক্তব্যে বলেন- মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অংশের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। সরকার এখন পর্যন্ত ১৪টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর ম‌ধ্যে ১৩‌টি এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থে‌কে ২ হাজার ২০০ জন কর্মী‌কে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যারা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্তৃক নিব‌ন্ধিত। আর কতগুলো এজেন্সিকে অনুমতি দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও মেডিকেল ফি নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে লেনদেন। ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুকরা লোভনীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এজেন্সিগুলোর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে- এখনও কর্মী প্রেরণের অনুমতি না পেলেও কিছু এজেন্সি ইতোমধ্যে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আগ্রহী কর্মীদের কাছ থেকে। আড়াই লাখ থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য রয়েছে একজন কর্মীর কাছ থেকে। এছাড়া নিয়ম ভেঙে কিছু এজেন্সি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ রেখে চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে বাংলাদেশ অংশের ব্যয় নির্ধারণ করেছে সরকার। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোনো প্রক্রিয়ায় কর্মীরা সেখানে যাবেন সেটার রূপরেখা বা গাইডলাইন জানানো হয়েছে। এছাড়া ৬৮টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখনও মেডিকেলের খরচ নির্ধারণ করা হয়নি। চলতি সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে অনেক বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মালয়েশিয়া গমন : ফাঁদে পা দিচ্ছেন সিলেটের অনেকে

Update Time : ০৯:১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ আগস্ট ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া। তবে কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন ফাঁদে পা দিয়েছেন সিলেট বিভাগের অনেকে। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের বাসিন্দা মো. আরিফ (ছদ্মনাম)। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ আসছে শুনে কয়েকটি এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কিন্তু প্রত্যেকটি এজেন্সিই তার কাছে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি টাকা দাবি করে। বাধ্য হয়ে তিনি একটি এজেন্সির সঙ্গে আড়াই লাখের বেশি টাকায় চুক্তি করেন। এরই মধ্যে তিনি ওই এজেন্সিকে এক লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনার কারণে তিন বছর চেষ্টা করেও বিদেশে যেতে পারিনি। আমার এক মামা থাকে মালয়েশিয়ায়। তিনি জানালেন, সরকার ৮০ হাজার টাকায় লোক নেবে। এরপর কয়েকটি এজেন্সিতে কথা বলেছি, সবাই বলে ৮০ হাজারে তারা পারবে না। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে স্থানীয় এক এমপির এজেন্সিতে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ টাকা জমা দিয়েছি। বাকিটা ভিসা আসার পর দিতে হবে।’ শুধু আরিফ-ই নন, তাঁর মতো সিলেটের অনেকে এভাবে না বুঝে বা লোভে পড়ে ফাঁদে পা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত ৬ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ একটি বক্তব্যে বলেন- মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অংশের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। সরকার এখন পর্যন্ত ১৪টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর ম‌ধ্যে ১৩‌টি এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থে‌কে ২ হাজার ২০০ জন কর্মী‌কে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যারা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্তৃক নিব‌ন্ধিত। আর কতগুলো এজেন্সিকে অনুমতি দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও মেডিকেল ফি নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে লেনদেন। ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুকরা লোভনীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এজেন্সিগুলোর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে- এখনও কর্মী প্রেরণের অনুমতি না পেলেও কিছু এজেন্সি ইতোমধ্যে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আগ্রহী কর্মীদের কাছ থেকে। আড়াই লাখ থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য রয়েছে একজন কর্মীর কাছ থেকে। এছাড়া নিয়ম ভেঙে কিছু এজেন্সি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ রেখে চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে বাংলাদেশ অংশের ব্যয় নির্ধারণ করেছে সরকার। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোনো প্রক্রিয়ায় কর্মীরা সেখানে যাবেন সেটার রূপরেখা বা গাইডলাইন জানানো হয়েছে। এছাড়া ৬৮টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখনও মেডিকেলের খরচ নির্ধারণ করা হয়নি। চলতি সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে অনেক বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ