০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করলেন যুবলীগ নেতা

  • Update Time : ০৩:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট ২০২২
  • / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: এক আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন যুবলীগ নেতা ও একই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী। সোমবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের মডেল বাজার মোড়ে ঘটেছে এ ঘটনাটি। অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে তাদের শান্ত করে। আহত মাদরাসা অধ্যক্ষ এএমএম মুহিববুল্লাহকে (৫০) কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার রোয়াইল বাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে এবং একই  উপজেলার মনকান্দা এম ইউ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ মুহিবুল্লাহ সোমবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মডেল বাজার মোড়ে পৌঁছতেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গণ্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং একই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল ও তার লোকজন নিয়ে অধ্যক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা করে। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে অধ্যক্ষকে  আহত করে এবং মোটরসাইকেলের চাবিসহ সঙ্গে থাকা মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জুয়েল গণ্ডা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি গণ্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও একই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী। আহত মাদ্রাসা অধ্যক্ষ এএমএম মুহিববুল্লাহ কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অধ্যক্ষের সঙ্গে বিকালে কথা হলে তিনি বলেন, ২০২০ সালে মাদ্রাসার হিসাব সহকারী পদে চাকরি হওয়ার পর থেকেই মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকতেন জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জুয়েল। এরই মধ্যে সে একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে যায়। তাকে মাদ্রাসায় আসার কথা বললে সে জানায়- মাদ্রাসায় এসে আমার বেতন নিতে হবে? এমনকি অশালীন কথাবার্তা বলে।  এসব কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে এরইমধ্যে গত ২০ আগস্ট তাকে শোকজ করা হয়।  এরপর থেকে সে শোকজের জবাব না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জুয়েল অধ্যক্ষকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ২০২১ সালের ১০ জুলাই আমাকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং গত ২০ আগস্ট শোকজ করা হয়। তারা আমাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করলেন যুবলীগ নেতা

Update Time : ০৩:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: এক আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন যুবলীগ নেতা ও একই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী। সোমবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের মডেল বাজার মোড়ে ঘটেছে এ ঘটনাটি। অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে তাদের শান্ত করে। আহত মাদরাসা অধ্যক্ষ এএমএম মুহিববুল্লাহকে (৫০) কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার রোয়াইল বাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে এবং একই  উপজেলার মনকান্দা এম ইউ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ মুহিবুল্লাহ সোমবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মডেল বাজার মোড়ে পৌঁছতেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গণ্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং একই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল ও তার লোকজন নিয়ে অধ্যক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা করে। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে অধ্যক্ষকে  আহত করে এবং মোটরসাইকেলের চাবিসহ সঙ্গে থাকা মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জুয়েল গণ্ডা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি গণ্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও একই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী। আহত মাদ্রাসা অধ্যক্ষ এএমএম মুহিববুল্লাহ কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অধ্যক্ষের সঙ্গে বিকালে কথা হলে তিনি বলেন, ২০২০ সালে মাদ্রাসার হিসাব সহকারী পদে চাকরি হওয়ার পর থেকেই মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকতেন জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জুয়েল। এরই মধ্যে সে একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে যায়। তাকে মাদ্রাসায় আসার কথা বললে সে জানায়- মাদ্রাসায় এসে আমার বেতন নিতে হবে? এমনকি অশালীন কথাবার্তা বলে।  এসব কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে এরইমধ্যে গত ২০ আগস্ট তাকে শোকজ করা হয়।  এরপর থেকে সে শোকজের জবাব না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জুয়েল অধ্যক্ষকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ২০২১ সালের ১০ জুলাই আমাকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং গত ২০ আগস্ট শোকজ করা হয়। তারা আমাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ